bdnews24.com banglablog

শুরু করি নির্বাচন দিয়ে

পাপ্রদজ | ১৯ নভেম্বর ২০০৮ ১০:৫৩ পুর্বাহ্ন

এটি আমার প্রথম পোস্ট। আসলে বলার তো অনেক কিছুই আছে, কিন্তু ভেবে দেখলাম নির্বাচনকে ঘিরেই প্রথম পোস্টটা করি।

২০০৮ একটা পটপরিবর্তনের বছর। নির্বাচনের বছর। ..যেমনভাবে বিশ্বের সর্বশক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন হলো রাষ্ট্রপতি নির্ধারণের, তেমনি করে বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশেরও নির্বাচন হতে যাচ্ছে এই বছরই। আমি অনেক মিল-অমিল খুঁজে পেলাম এই দুটি দেশের নির্বাচনকে ঘিরে।

আটটি বছর “লেইম ডাক” বুশের শাসনে দিন কাটাল আমেরিকাবাসী। এতে দেশের তো উন্নতি তো হলোই না বরং অবনতিই বেশী। বিশ্ব আজ এক অর্থনৈতিক দুরবস্থা পার করছে, যখন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সৈন্য পাঠিয়ে রেখেছেন দুটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। নিউক্লিয়ার, বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের সন্ধানে নেমে কিছুই তো পেলো না আর মারতে লাগল নিরীহ মানুষজন। এমন ক্রান্তিলগ্নে এলেন বারাক ওবামা, রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে পরাজিত করে। পরিবর্তনের সুর নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে মার্কিন ইতিহাসে ২১৬ বছরের শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসান ঘটিয়ে আসছেন বারাক ওবামা আগামী জানুয়ারীতে হোয়াইট হাউজে। সকলের মাঝে কেমন যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

তেমন ধরনেরই আরেক পরিবর্তনের সময় এসেছে বাংলাদেশেও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো এই গণতান্ত্রিক দেশেও গত দুই বছর যাবৎ সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শাসন করছে। মানুষ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতির সাথে আর পাল্লা দিয়ে পারছে না। গরীব লোকজন না খেয়েও দিনাতিপাত করছে। দুর্নীতিবাজদের ধরার জন্য সরকারের ব্যাপক প্রচেষ্টা কেমন যেন ক্ষীণ হয়ে এসেছে, যার ফলে পুরোনো সেই নেতা-নেত্রীদের এখন মাঠে দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনের প্রয়োজন বাংলাদেশেও। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই। সরকারের নানা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে, রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শের-সকল বিভাগেই পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়। আর এই পরিবর্তনের জন্যই নির্বাচন। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে।

আমি মূলত যেটা বলতে চাই সেটা হলো, গত কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া মার্কিন নির্বাচন থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছুই শেখার আছে। যেভাবে বিপুল ভোটে পরাজিত ম্যাককেইন তার পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের পরাজিত শক্তিরও পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ীদের সাথে একযোগে দেশের মঙ্গলের জন্য কাজ করা উচিত। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে পরাজিতরা যেমনভাবে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে, সেটা থেকে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলেরই সরে আসা উচিত। দেশ ও দশের স্বার্থে একটি নির্বাচনী পরাজয় মেনে নেয়া তেমন কঠিন না।

আসলে এর জন্য প্রয়োজন মতাদর্শের পরিবর্তন। রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের দেশের মঙ্গলের জন্য সকল স্বার্থ বিসর্জন করা এখন সময়ের দাবী। লোকজন এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আমুল পরিবর্তন না হলে জনগণের এবার “না” ভোটের সুবিধা আছে। সময়ই এখন বলবে আসলেই কী ঘটে!

লেখাটি প্রথম আলো ব্লগে পূর্ব-প্রকাশিত।


৪ টি মন্তব্য আছে “শুরু করি নির্বাচন দিয়ে” - এ;


২০ নভেম্বর ২০০৮ - ৩:০৩ অপরাহ্ন

না ভোটের তত্ত্বকথা মুলত আওয়ামী ঘরনার সুশীলদের প্রচারাভিযান। এরা জনগনকে ধোকা দিতে এসেছে। এরা নিজেরা ভোটের বাক্সে লগিতে সিল দিবে ঠিকই শুধু মাত্র ফ্লোটিং ভোট যাতে প্রতিপক্ষের বাক্সে না পড়ে তাই এই সব সুশীলরা এখন এই তত্ত্ব কথা নিয়ে নেমেছে।

দুই, কিছুদিন আগে সুশীল আকবর আলীর মন্তব্যে তার আওয়ামী লীগের দাসত্বের ছদ্মবেশ খুলে গেছে। কারন মি ফকুরুদ্দিন একমুখী নির্বাচনই করতে চান, কারন তার আওয়ামী বৈধতার প্রয়োজন রয়েছে। ফলে কি দাড়ালো, গত বারের ৪ উপদেষ্টার পদত্যাগ একটি আওয়ামী নাটক মাত্র।

তিন। যে সব সাধুরা আমেরিকার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেবার কথা বলছে, তারা কি বলতে পারবে আমেরিকাতে একমুখী নির্বাচনের জন্য সরকারের সকল শাখা প্রশাখা বাংলাদেশের মত ব্যবহার হয়। কিংবা জরুরী আইনের মধ্যে।

চার, আমেরিকান জনগনের চেয়ে বাংলাদেশের জনগনও সচেতন আছে। আমেরিকান জনগন যদি সচেতনই হবে তবে কেন তাদের প্রেসিডেন্ড ভন্ড বুশ একের পর এক যুদ্ধ থেকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই আমেরিকান নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য কোন মডেল নয়। ম্যাক্কেইন-অবামার করমর্দন রক্তচুষা আমেরিকার স্বার্থে, বিশ্ব-মানবতাবাদের স্বার্থে নয়।

পাচ, না ভোটের কথায় আসি।
কেউ যদি মনে করে তার এলাকায় যোগ্য প্রার্থি নির্বাচনে দাড়াননি তবে সে না ভোট দিবে। ভালো কেথা।
আসুন এবার, নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে বা ১ লা ডিসেম্বর প্রার্থী চুড়ান্ত হয়ে যাবে। ধরুন নির্বাচন ১৮ তারিখে। এই ১৮ দিনে নিশ্চয় কারো চোখে অযোগ্য প্রার্থী যোগ্য হবেন না। কাজেই প্রার্থী চুড়ান্ত হওয়ার পরদিনই (২ ডিসেম্বর) কিন্তু না-তত্ত্বের ভোটাররা তাদের রায়ও চুড়ান্ত করতে পারেন, এবং তারা শহরের কোন শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত সেমিনার রুমে বা মাঠে গিয়ে তাদের রায় বলতে পারেন, এবং তা কত % ভোট সেটাও আগেই প্রকাশ করা সম্ভব। এবং এই সব ভোটারদেরকে পরবর্তী পর্যায়ে ভোট কেন্দ্রে নাও গেলেও চলে বা তাদেরকে যেতে না দিলেই আমি নিশ্চিত ঐ কেন্দ্রে আওয়ামী প্রার্থী হারবে। সুতরাং এই না ভোটের ফালতু কথা আওয়ামী সুশীলদের কুকীর্তি। এখান থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

৬, সকল দলের সমঝোতায় নির্বাচন অনুষ্টানে মি ফকুরুদ্দিন ব্যর্থ হলে তার পদত্যাগ করা উচিত, কেননা সে ব্যর্থ । ২ বছরে কেন সে দলগুলো আস্থা অর্জন করতে পারবে না।
৭, সকল দলের সমঝোতার নির্বাচনই বাংলাদেশের জনগন চায়, যারা একমুখী নির্বাচন চাচ্ছে এই পরিস্থিতে এরা দেশের শত্রু।

  • মন্তব্য করেছেন kauser

২০ নভেম্বর ২০০৮ - ৫:২৯ অপরাহ্ন

kauser না ভোট নিয়ে আপনি যে তত্ত্ব দিলেন , খুবই অবাক হলাম পড়ে । কি করে বুঝলেন আওয়ামী লীগ এর সুশীল এর কীর্তি ? আপনার হাস্যকর খোড়া যুক্তি পড়ে । বাস্তবতা হল আমাদের দেশের মানুষ অন্ধভাবে দলীয় সমর্থন করে । ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তারা মার্কা টাই খুজবে, প্রার্থী না। আর এ জন্য এখানে দুই দলের অপরাজনীতি থেকে ভিতর থেকে দেশ বের হতে পারবে না। এদের একজন গণতন্ত্রের মানসকন্যা হয়েও স্বৈরাচার কে নিয়ে জোট করে আরেকজন তো দেশনেত্রী হয়ে দেশদ্রোহী রাজাকারের সাথে অনেক আগেই জোট করেছে। এদের কেই ভোট দিতে হবে আমাদের ।

  • মন্তব্য করেছেন raihan_sayeed

২০ নভেম্বর ২০০৮ - ৭:৪২ অপরাহ্ন

মি raihan_sayeed,
একমুখি সিটি নির্বাচনে কামরান, হ্যা আওয়ামী লীগের কামরান জেলে থেকেও ১৮৬০০ ভোটের মধ্যে ১১২০০ ভোট কিভাবে পেল?

বিবিসির ব্যাখ্যা জানা গিয়েছিলো, এই রায়ে সকলেই মি ফকুরুদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে দিয়েছে। জনগন জেলে থাকা প্রার্থিকেও ভোট দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন, আপনের মতন সুশীলেরা মনে করলো জেলে অবস্থিত প্রার্থি কামরান অযোগ্য। তবে কেন আপনার মতন সুশীলেরা গেলেন কামরানের ভোটে। মানে সুশীলেরা মুখে যতই না ভোটের কথা বলুক, ঠিকই গিয়ে লগিতে সিল দেবে…এখন পযন্ত কোন সুশীল বলেছে যারা লগি নিয়ে মাঠে নেমেছিলো তারা যোগ্য নয় …শুনুন আওয়ামী ভৃত্যামী ছাড়ুন …

  • মন্তব্য করেছেন kauser
পাপ্রদজ

২১ নভেম্বর ২০০৮ - ৫:১৫ পুর্বাহ্ন

আসলে কথা সত্য যে, ম্যাককেইন-ওবামার মিলন আসলে কতটা মধুর তা ভেতরে না গেলে বোঝা দুরুহ। তবে খালেদা-হাসিনার তিক্ততার চেয়ে মনে হয় ঢের নরম।

  • মন্তব্য করেছেন পাপ্রদজ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন