গতরাতে সূর্যসেন হলে আমাদের পত্রিকার জন্য কাজ করছিলাম। এর মধ্যে রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ একটা ফোন আসল। তোমাদের হলে নাকি ব্যাপক মারামারি হচ্ছে? পুলিশে রেড দিচ্ছে নাকি?”
আমি বললাম আমি তো হলের বাইরে আপনাকে জানাচ্ছি। এর মধ্যে খবর নিয়ে জানতে পারলাম যে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে আবারো মারামারি করেছে। জিয়া হলে এই প্রথম নয়। ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ যে দলই হলে থাকুক না কেন জিয়া হলে মারামারি হবে না বা হয়নি এরকম টা কেউ বলেত পারবে বলে আমার মনে হয় না। আমি বুঝিনা দেশের নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল বাংলাদশের কথা বলে, তারুণ্যনির্ভর সমাজের কথা বলে আওয়ামী লীগের মহাজোট ক্ষমতায়ং আসার পর খেকে এসব কি দেখছি আমরা। নিজেদের গোত্রে গোত্রে মারামারি। ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপে গ্রুপে সংঘাত। এর নাম কি ডিজিটাল তারুণ্য।
আমি এই নির্বাচনের প্রথম ভোটটি দিয়েছি। এবং সেটি নৌকায় দিয়েছি। দেখেছি যে নির্বাচনের দিন বিকেল থেকে ছাত্রদলের ছেলেরা হল ছেড়ে হাকিম চত্ত্বরের দিকে ব্যাগ ব্যাগেজ নিয়ে যাচ্ছে। এবং সর্বশেষ রাত ১০ টার দিকে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। আমি এ কথাগুলো এই কারণে বললাম যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগহকে তো কোন হল দখল করতে হয়নি। সবকয়টি হলই তারা পেয়েছে । নিজেদের মত নিজেরা সাজিয়ে নিয়েছে কেউ কেউ। তারপরও কেন এই হতাহতর ঘটনা কেনই বা হলের অভ্যন্তরে পুলিশের পেটোয়া বাহিনী নিয়ে আনার দরকার। কেনই বা দুই একদিন পরপরই ক্ষমতার মহড়া চলে ক্যাম্পাসে। বরিশাল গ্রুপ না ফরিদপুর গ্রুপ কার কতটুতকু নিয়ন্ত্রণ এটা বোঝাতে? এরা কোন গঠনমূলক কাজে নেই আছে শুধূ ধ্বংসাত্মক কাজে। কিভাবে ভাংচুর বরা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে ওঠানোর প্রথম শর্ত থাকে কে কতটুকু ক্রেজি। কে কত বেশি মারামারি করতে পারে। তার ভিত্তিতে তাকে পলিটিকাল বড়ভাইরা রুমে তোলে। এই রুমের আবার নানা রকম শ্রেণীবিভাগ আছে। একেকজনের পারফমেন্সের উপর তার রুমপ্রাপ্তি ডিপেন্ড করে। খুবই অদ্ভূত লাগে। মাঝে মাঝে নিজেদের উপর ঘৃণাও হয়।
শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় জাহাঙ্গীরনগন, চট্গ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের সকল কবশ্ব্বদ্যালয়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এই অস্থিরতা কেন হচ্ছে? কারা এই গুলো থেকে ফায়দা লুটছে এটা সবারই জানা। তবে এইসব অস্থিরতা বন্ধ হোক শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করুক আমরা এটা চাই। খাতা কলমের বদলে বন্ধুদের হাতে রড, চাপাতি দেখতে কার ভাল লাগে? আমরা এই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তি চাই। এভাবে চলার দরকার আছে বলে আমার মনে হয় না।
আমাদের শুধু এটুকু চিনন্তা করলেই যথেষ্ট গতরাতে জিয়া হলে যে ছেলেটি মার খাচ্ছে সেও ঢাবির শিক্ষার্থী আমার সহপাঠী বা বন্ধু। যে মারামারি করছে সেও আমার সহপাঠি বা হলের বন্ধু। এর চেয়ে বড় কষ্টের আর কী হতে পারে। আমরা এই বিশৃঙ্খলার সমাপ্তি কামনা করি।
http://www.somewhereinblog.net/blog/orkasifshawon/28925216
চঞ্চল-এর মন্তব্যঃ "বুলেট-প্রুফ ব্রা!" পোস্ট -এ