bdnews24.com banglablog

সাহিত্য

i - ম্যাগাজিন: রবীন্দ্রনাথ-নজরুল বিশেষ সংখ্যার জন্য লেখা চাই!

সাইফ সামির | ২৮ এপ্রিল ২০০৯ ৪:৫৩ অপরাহ্ন

সুহৃয়,

বাঙালির জাতির সাহিত্য ও সংষ্কৃতির দুই বিশাল স্তম্ভ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম। একজন বিশ্বকবি ও নোবেল বিজয়ী, অন্যজন বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি। রবীন্দ্রনাথ আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা অন্যদিকে আমাদের রণসঙ্গীত লিখেছেন নজরুল।
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী আমরা বাংলা সন অনুসারে পালন করলেও একটি পরিহাস এই যে মাতৃভাষা দিবস
আমরা পালন করি ইংরেজি তারিখ অনুসারে। মজার ব্যপার হলো নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের জন্ম ও মৃত্যুদিন পৃথক বাংলা মাসে হলে একই ইংরেজি মাসে। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের জন্ম যথাক্রমে মে মাসের ৭ ও ২৫ তারিখ। মৃত্যু যথাক্রমে ৭ ও ২৯ আগষ্ট। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুজনই শিকার হয়েছিলেন মৌলবাদিতার। আবার দুজনকে নিয়েই হয়েছে কে কার চেয়ে বড় তার তর্ক-বিতর্ক। একজনকে বড় দেখাতে অন্যজনকে করা হয়েছে ছোট। কিন্তু আমাদের দেশ ও মানস গঠনে দুজনেরই ভূমিকা অবিস্মরীয়। তাই আমরা বারবার তাদের কাছে ফিরে আসি, আসতে হয়। তাই রবীন্দ্রনাথের ১৪৮তম ও লজরুলের ১১০তম জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে সাহিত্য গ্রুপ আকাশ সাহিত্য চক্র (দেখুন/জয়েন করুন ) একটি ই-ম্যাগাজিন প্রকাশের ইচ্ছা প্রকাশ করছে। i - ম্যাগাজিন: রবীন্দ্রনাথ-নজরুল বিশেষ সংখ্যা শীষক ভার্চুয়াল ম্যাগটিই সম্ভবত হতে যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে নিয়ে দেশের প্রথম ই-ম্যাগ। এখানে লেখার দ্বার সবার জন্য উন্মুক্ত। নেটিজেনরাই এখানে লিখবেন। অফলাইন থেকে কোন লেখা সংগ্রহ করা হচ্ছে না। এখানে আপনি লিখতে পারেন এই দুই কীর্তিমানকে নিয়ে সাহিত্য বা জীবনী নির্ভর গদ্য, রচনা/নিবন্ধ । তাদের লেখার স্টাইলিস্টিকস সমালোচনা কিংবা পাঠ প্রতিক্রিয়া। ভাষার ক্ষেত্রে আমরা একাডেমিক ভাষার চেয়ে ফ্রি-স্টাইল গদ্যকেই অধিক উৎসাহিত করছি। তবে যে কোন গবেষণামূলক লেখাও পাঠানো যাবে। লিখতে পারেন নজরুল ও রবীন্দ্রনাথকে উৎসগ করে কবিতা অথবা কোন রবীন্দ্রনাথ/নজরুল বিশেষজ্ঞকে নিয়ে লেখা। করতে পারেন উভয়ের যে কোন লেখার ইংরেজি অনুবাদ কিংবা দিতে পারেন কোন গল্প/উপন্যাসকে নাট্যরূপ। আপনার লেখাটি হতে পারে পরীক্ষাধমী। নজরুল/রবীন্দ্রনাথকে চরিত্র বানিয়ে লিখে ফেলতে পারেন কোন গল্প! মোট কথা, রবীন্দ্রনাথ-নজরুল বিষয়ক রচিত, অপ্রকাশিত (অনলাইনে পূবপ্রকাশ শিথিলযোগ্য, তবে উল্লেখ করতে হবে), মৌলিক যে কোন লেখাই পাঠিয়ে দিতে পারেন আপনি। আপনার মূল্যবান লেখাটি নিয়েই প্রকাশিত হবে প্রথম i - ম্যাগাজিন: রবীন্দ্রনাথ-নজরুল বিশেষ সংখ্যা। আপনি নিজে লিখুন, আপনার পরিচিতজনদের লিখতে বলুন। যারা ছবি আকেন তারা নজরুল-রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাদের চিত্রকম পাঠাতে পারেন। যেহেতু গতানুগতিক কায়দায় কোন ফরমায়েশি লেখা নেয়া হচ্ছে না তাই আপনারদের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণই এই অভিনব পথ চলাকে সফল করবে।

সবাইকে অগ্রিম ধন্যবাদ।

শিগগিরই আপনার ম্যাটারটি পাঠিয়ে দিন।
ঠিকানা: imagbangla@gmail.com


______সোনার বাংলাদেশ_______

M.A Mannan | ২৮ মার্চ ২০০৯ ১১:১০ পুর্বাহ্ন

স্বাধীনতা মানে পুকুরে,বিল,ঝিলে,নদী,সাগরে
মাছদের অবাদ সাঁতার।
______স্বাধীনতা মানে পাখিদের
______নীল আকাশ জুরে স্বাধীন বিচারণ।
স্বাধীনতা মানে সবুজ গাছদের বনে, জঙ্গলে,রাস্তার ধারে,
নির্মল বাতাসে ছায়া দান।
______স্বাধীনতা মানে চঙ্চল প্রজাপতির
______রং বেরং এর পাখনা মেলে উড়ে বেড়ানো।
স্বাধীনতা মানে পশুর ছানাদের
মায়ের সাথে খুনসুটি আর এদিক ওদিক ছুটাছুটি।
______স্বাধীনতা মানে গভির রাতে
______তারাদের অভিসার।
স্বাধীনতা মানে জোনাকিদের
রাতভর আলো দান।
______স্বাধীনতা মানে লাখো শহীদের
______রক্তে কেনা মুক্ত সোনার দেশ।
______স্বাধীনতা মানে সবুজ পতাকায়
______লাল সুর্যের সোনার বাংলাদেশ।
**********


______মেঠো পথে পথিক হাটে রৌদ্র ছায়ায়_______

M.A Mannan | ২৮ মার্চ ২০০৯ ১১:০৯ পুর্বাহ্ন

চৈএ এর খরতাপে
রোদে রোদে যায় বেলা
মেঘের ছায়ায় শঙ্খচিল নিলীমায় উড়ে বেড়ায়।
কাকগুলো হা করে
তৃঙ্চনার প্রহর গুনে
পাখির ছানারা চেঁচিয়ে উঠে মায়ের ঠোঁটের খাবার খোঁজে ।
মেঠো পথে পথিক
বহু দুরে যায়
বটের ছায়ার তলে খানিক জুরায়।
______মেঘের ছায়ায় শঙ্খচিল,
______দ্বি-প্রহরে কাক;
______মেঠো পথে পথিক হাটে রৌদ্র ছায়ায়!!!!

***********


_______বসন্তের কাকের সাতকাহন_______

M.A Mannan | ২৩ মার্চ ২০০৯ ১১:১৫ পুর্বাহ্ন

গাছ বিহীন এই নগরে,ইট সুরকির এই দালানে,
এক জোরা পাতি কাকের সাতকাহন!!!!!
ঝাড়ুর সোলা ও অন্যান্য আবজনার অংশ বিশেষ-
সংগ্রহে মহা ব্যবস্থ!পাতি কাক জোড়া;
বাসা তৈরী আর ডিম ফুটানোর তাগিদে।
এ এক মহা আয়োজন!
খাবার খোঁজা আর বাসা তৈরীর কাজ।
___[৬তলা ভবনের ৫ম তলার দখিন-পশ্চিম কনায় সান সেটের
নিচে পয়:নিষ্কাশন পাইপের একটু জায়গায় এই আয়োজন]
তৈরীর শেষ পর্যায় বাসাটির ৭ম দিনে,
হটাত গেল ভেঙ্গে।
আবার শুরু নতুন করে——–
স্বপ্নের বাসা তৈরী হয়,বসন্তের এই দিনে।
কোকিলের অত্যাচার বিহীন এই নগরে,
পাতি কাক জোরা ডিমে তা দেয় নি:চিন্তে।
________স্বপ্ন দেখা,ডিম ফুটানো
________ছানার ঠোঁটে,খাবার জোগানো;
________মায়ের ঠোঁটে, গিলছে দানা,
________লেজ উচিঁয়ে, মেলছে ডানা।
*******************


অন্তত অমানুষ তো হয়নি

দাদু ভাই | ১৪ মার্চ ২০০৯ ১:২৯ অপরাহ্ন

বাবা তুমি বলেছিলে
মানুষ করবে তোমার খোকাকে।
কিন্তু তুমি চলে গেলা তোমার খোকাকে ছেড়ে।
একেলা রেখে এই বিশাল ভুবনে
সেই অচেনার দেশে।
মা, সে ও তো গিয়েছে সেই কবে
তুমি বোধ হয় অনেক বেশী ভালবাসতে মাকে
তাইতো তুমি চলে গেলে তারই কাছে।
একটি বারও ভাবলে না
তোমাদের এই খোকার লাগি
কেমনে খোকা বেঁচে থাকবে তোমায় ছাড়ি?
যতই দূরে থাক তোমরা
ভুলেনি তোমাদের খোকা।
মানুষ যদিও হতে পারেনি
অন্তত অমানুষ তো হয়নি।
প্রতি পলকে তোমাদেরকে স্বরনে রেখে
মুক্ত আছে সকল অন্যায় অবিচার থেকে।
আজি এই পত্রখানি লিখলাম আমার ব্লগে
জানি না পৌঁছবে কিনা তোমাদের কাছে।
তোমাদের অভাব পূরন হয় নাই
আর হবেও না ইহ জগতে
তোমাদেরকে সর্বক্ষণ মনে পড়ে ।


একুশের গল্প

তাহমিদ | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১:৪০ অপরাহ্ন

১.
ইথার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে।প্রতিদিনের মত আজকেও স্কুলে এসেছে সে।আজ বৃহস্পতিবার হওয়ায় সে খুব খুশি।কালকে শুক্রবার। ছুটির দিন। বাবা বলেছে, তাকে কালকে বই মেলায় নিয়ে যাবে।সে অনেকগুলো বইয়ের লিস্ট করেছে। জাফর ইকবালের গল্পের বই তার লিস্টের সর্বপ্রথমে আছে।সেই বইটায় আগে কিনবে বলে মনস্থির করেছে। যখন ইথার ক্লাসে ম্যাডামের কথা না শুনে এইসব কথা ভাবছে তখন নোটিশটা এল। একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে শনিবার স্কুল ছুটি থাকবে মানে শুক্রবার এবং শনিবার দুইদিন স্কুল বন্ধ।ম্যাডাম ক্লাসে না থাকলে নিশ্চিতভাবে ইথার চিৎকার করে উঠত।অনেক কষ্টে নিজেকে দমিয়ে রাখে। বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে দেখে তাদেরও একই অবস্থা। ইথারের পাশে বসেছে কনা। কনা ইথারকে জিজ্ঞেস করে,
-একুশে ফেব্রুয়ারী কি জানিস?
-হুম। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
-ধুর।ওইটা তো আমিও জানি।কিন্তু সেদিন কি হয়েছিল জানিস?
-নাতো।
-ধুর। তুইও জানিস না!
ইথার জানে না বলে আফসোস লাগে তার। একবার ভাবে ম্যাডামকে জিজ্ঞেস করবে। তারপর ভাবে, না থাক। ম্যাডাম যা রাগি। যদি বকাঝকা করেন তার চেয়ে না জিজ্ঞেস করায় ভাল।

বারটার দিকে ইথারের স্কুল ছুটি হয়।প্রতিদিন ইথারের মা জাহানারা রহমান গাড়িতে করে ওকে নিতে আসেন।আজকেও এসেছেন। ইথার গাড়িতে উঠেই বায়না ধরে,
-আম্মু আইসক্রিম খাব।
-না।
-তাহলে চকলেট।
-না।
-ধুর। তুমি কিছুই কিনে দাওনা। বাবা প্রতিদিন কতকিছু কিনে দেয়।
-হুম। ওই খেয়েই তো দাঁতে পোকা লাগিয়েছিস। প্রত্যেকটা দাঁত ডাক্তারের কাছে তুলে আনতে হয়।খবরদার চকলেটের নাম করবি না আমার সামনে।
-আচ্ছা চকলেট খাব না। আইসক্রিম দাও।
-ওটাও হবে না। ডাক্তার আইসক্রিম খেতে বারন করেছে। তোর বাপ যেমন পচা। একটু ঠান্ডাতেই সর্দি লাগে। তোরও একই অবস্থা। যেমন বাপ তেমন তার বেটা।
-আমি আব্বুকে বলে দিব।
-দিস। তোর বাপকে আমি ভয় পাই নাকি?
-পাওনা আবার।
ইথার ফোকলা দাঁতে হাসতে থাকে।ইথারের আম্মু চোখ পাকিয়ে ইথারের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেন। কিছুক্ষন পর ইথারের কনার কথা মনে পড়ে। আম্মুকে জিজ্ঞেস করবে ভাবে।
-আচ্ছা আম্মু একুশে ফেব্রুয়ারীতে কি হয়েছিল?
-কেন রে?
-এমনি। বলই না…
জাহানারা রহমান ছেলের মাথায় হাত রাখেন। বলেন,
-আমাদের ভাষা বাংলা। কিন্তু ১৯৫২ সালে পাকিস্তানিরা জোর করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষনা করে। আমাদের দেশের মানুষ তা মেনে নেইনি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সালাম, রফিক, জব্বার সহ আরো অনেকে শহীদ হোন। তারপর থেকে এইদিনটি আমরা ভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছি।
ইথার চুপ থাকে কিছুক্ষন।তারপরে বলে,
-পাকিস্তানিরা খুব পচা ছিল। তাইনা আম্মু?
-হুম।
-আচ্ছা আম্মু, আব্বু কি ওখানে গিয়েছিল?
জাহানারা রহমানের কিছুক্ষন লাগে ব্যাপারটি বুঝতে। বুঝার পর হাসতে থাকেন। বলেন,
-ধুর বোকা ছেলে। তখন কি আর আমাদের জন্ম হয়েছে নাকি? আমি আর তোর আব্বু মুক্তিযুদ্ধই তো দেখিনি। আর ১৯৫২ সাল তো দূরের কথা।
ইথার অবাক হয়। জিজ্ঞেস করে,
-তাহলে কিভাবে জান তুমি?
-তুই যেভাবে জানলি।
-তারমানে নানাভাই বলেছে তোমাকে?
-হুম। তবে বই পড়েও জেনেছি।
-আমিও পড়ব।
-হ্যাঁ পড়িস।
-কিন্তু ওগুলো তো বাংলায় লেখা। আমি তো বাংলা ঠিকমত পড়তে পারি না।
এ কথায় জাহানারা রহমান একটু অবাক হোন। ভাবেন, ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো কি ঠিক হচ্ছে? নিজের ভাষাতেই পড়তে পারে না।জোর করে চিন্তাটা মাথা থেকে বের করে দেন।

২.
ইথারদের বাসার কাছেই চারকোনা ছোট্ট একটা ফাঁকা জায়গা আছে। সেখানেই ওরা খেলাধুলা করে।বিকেলের শেষে ইথার এবং ওর বন্ধুরা বাসায় ফিরছিল। ওরা সবাই আশেপাশের ফ্ল্যাটেই থাকে।
ইথার বলল কনাকে,
-একুশে ফেব্রুয়ারী কি জেনেছিস?
সবাই ইথারের কথায় আগ্রহ প্রকাশ করে। সবাই কনার দিকে তাকায়।কনা বলে,
-নাহ।
ইথার বলে,
-আমি জেনেছি। আম্মু বলেছে।
-কি বলেছে?
-বলেছে ওইদিনে আমাদের দেশের মানুষ ভাষার জন্যে শহীদ হয়েছেন।
নিপু যে কিনা ওদের মধ্যে বয়সে একটু বড় সে বলল,
-কিরে তোরা এটা আজকে জানলি? হাহ্।এটাতো আমরা অনেকদিন আগেই জেনেছি। তাইনারে রিহাত?
রিহাত মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। বলে,
-আমি তো প্রতিবারই নিজেই শহীদ মিনার বানায়।ফুল দেই। বাবা ফুল দিতে নিয়ে যায় না ছোট বলে।
রিহাত মুখটাকে একটু সংকুচিত করে। ইথার আর কনা প্রথমে অবাক হলেও সামলে নেয় ব্যাপারটা। ইথার বলে,
-আব্বুকে বললেই নিয়ে যাবে। তাইনারে কনা?
-হুম। আমরা আসল শহীদ মিনারেই ফুল দিব।
নিপু বলে,
যা দেখবনি। সবই জানা আছে। কাদের দৌড় কতদূর পর্যন্ত।
ইথার এবং কনা কিছু বলে না। তাদেরও একটু সন্দেহ আছে যে তাদের আব্বুরা তাদেরকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে সংগে না নিতেও পারেন। এগুলো ভাবতে ভাবতে ইথার আর কনা নিজেদের ফ্ল্যাটের দিকে এগুতে থাকে।

রাতের খাবার খেতে বসে ইথার তার আব্বুর কাছে শহীদ মিনারে যাওয়ার কথা বলে।
-আব্বু আমি শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাব।
-না বাবা।
-কেন?
-ওখানে অনেক ভীড় হবে। তোর না যাওয়ায় ভাল।
-না আমি যাব।
-না বাবা। জেদ করিস না। তোকে বলেছি না বই মেলায় নিয়ে যাব।
ইথার বইমেলার নাম শুনে চুপ করে থাকে কিছুক্ষন।তারপর বলে,
-তাহলে আমিও রিহাতদের মত নিজেই শহীদ মিনার বানাব।
বাবা হাসেন। বলেন,
-আচ্ছা বানাস।
ইথার চলে যেতেই জাহানারা রহমান বলেন,
-ছেলেটা দেখতে দেখতেই বড় হয়ে যাচ্ছে। তাইনা?
-হুম।
-আমি ভাবছিলাম ওকে ইংলিশ মিডিয়ামে দেওয়া ঠিক হল কিনা?
-কেন?
-ওতো বাংলা ঠিকমত পড়তেই পারে না। বইমেলা থেকে বই কিনে এনে আমাকেই জ্বালাবে। তারপর বসে বসে ওকে বই পড়ে শুনাতে হবে। তাই বলছিলাম, ওকে কি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো ঠিক হল?
-ভাল কথা বলেছ তো। আমি এভাবে তো ভেবে দেখি নাই।
-ভেবে দেখ একবার। আমি যাই থালা বাসন ধুয়ে তবেই ঘুমাতে যাব।
-তাড়াতাড়ি এস কিন্তু।
জাহানারা মুচকি হেসে রান্নাঘরের দিকে রওনা দেন।

৩.
সকাল বেলা থেকেই মহাউৎসাহে ইথার আর কনা শহীদ মিনার বানাতে বসে।ইথারদের একটা বড় লাইব্রেরী আছে। ওখানে হরেক রকমের বই আছে। খুঁজে খুঁজে সে শহীদ মিনারের ছবি আঁকা আছে এরকম একটা বই বের করেছে। সেটাই দেখে দেখে তৈরি করার চেষ্টা করছে। রঙ্গিন কাগজ কেটে বানানো হচ্ছে ওদের শহীদ মিনার।
কনা বলে,
-দেখবি নিপু আর রিহাত আমাদের শহীদ মিনার দেখে জ্বলে পুড়ে মরবে। ওদের একটা উচিত শিক্ষা হবে। আমি যখন ওদের বললাম যে আমরাও শহীদ মিনার বানাচ্ছি তখন এমনভাবে তাকালো মনে হল শহীদ মিনার খালি ওরাই বানাতে পারে।
ইথার এক হাতে আরেক হাত দিয়ে কিল মেরে বলে,
-হুম।উচিত শিক্ষা দিতেই হবে।
তারপর দুজনে শহীদ মিনার বানাতে বসে। ওরা দুজনেই কাগজ দিয়ে অনেক কিছু বানাতে পারে। নৌকা, হাতী, প্লেন, আরো কত কি!
ওদের শহীদ মিনার বানানো যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন ওদেরকে দেখতে নিপু আর রিহাত এল।
রিহাত বলল,
-কিরে তোদের শহীদ মিনার বানানো এখনো বানানো শেষ হল না! আমরা সেই কবে শেষ করে ফেলেছি।
ইথার উত্তর দেয়,
-আমরা তো আর যেই সেই শহীদ মিনার বানাচ্ছি না। একেবারে রিয়েল।
নিপু বলল,
-তোদেরটা ভালই হয়েছে তবে আমাদেরটার মত হয়নি। আমাদেরটা আরো সুন্দর।
কনা বলে,
-হুম। দেখা যাবেনি কাদেরটা ভাল। বানানো শেষ করে নেই তারপর তোদেরটা দেখতে যাব।
-আচ্ছা।

৪.
আজ একুশে ফেব্রুয়ারী। ইথারের বাবা রফিকুল রহমান সেই সকালে গিয়েছিলেন শহীদ মিনারে ফুল দিতে। সারিবদ্ধভাবে হাজারো মানুষ শহীদ মিনারে গিয়েছে ভাষা শহীদদের আরো একবার শ্রদ্ধা জানাতে। ওদের জন্যেই তো আমরা আজও নিজেদের ভাষাতেই কথা বলি।
বাসায় ফিরে রফিকুল রহমান দেখলেন, ইথার কান্না-কাটি করছে। তিনি জাহানারাকে জিজ্ঞেস করলেন,
-কি হয়েছে বলতো? আমার সোনামুনি কাদে কেন?
-তোমার ছেলে শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারেনি তাই কাদছে।
-এই ব্যাপার।
রফিকুল রহমান ইথারকে কাছে টেনে নেন। বলেন,
-আমাদের বাসার নিচে কিছু ফুল গাছ আছে ওখান থেকে কিছু ফুল আনতে পারিসনি।
ইথার কাদতে কাদতে বলে,
-আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি কে যেন সব ফুল ছিড়ে নিয়ে গেছে।
-ও।আচ্ছা আমি ফুল কিনে নিয়ে আসি। তারপর তুই শহীদ মিনারে ফুল দিস। ঠিক আছে?
-আচ্ছা। কিন্তু এখনি নিয়ে আস।
-হ্যাঁ। এখনি নিয়ে আসব। তার আগে কান্না থামা।ছেলে মানুষ কাদে নাকি?
ইথার চোখ মুছতে মুছতে বলে,
-আব্বু আমি আর স্কুলে যাব না।
রফিকুল রহমান বেশ অবাক হোন। কারন ইথার পড়াশোনায় খুব ভাল। জিজ্ঞেস করলেন,
-কেন বাবা?
-ওই স্কুলে বাংলা পড়ায় নাতো।আমি বাংলায় পড়তে পারি না।যে ভাষার জন্যে এদিনটি সেই ভাষায় তো আমি পড়তে পারি না। আম্মু বলেছে, আমাকে আর বই পড়িয়ে শোনাবে না।
রফিকুল রহমান বুঝতে পারলেন ছেলের দুঃখ। তারও যেন একটু খারাপই লাগল। জাহানারার দিকে তাকিয়ে বললেন,
-হ্যাঁ। তোর স্কুল এবার পাল্টিয়ে দিব। যেখানে নিজের ভাষা শিখতে পারা যায় না সেখানে তোকে আর পড়তে হবে না।
ইথার খুশি হয়। বাবাকে তাড়া দেয় ফুল কিনে আনার জন্যে।
জাহানারা বললেন,
-বাইরে যাওয়ার আগে তোমার ছেলেকে বলে যাও নাস্তা করতে। বলতে বলতে পাগল হয়ে গেলাম আমি।
ইথার জলদি উত্তর দেয়,
-তুমি যাও বাবা। আমি এখনি নাস্তা করছি।
রফিকুল রহমান জাহানারা দিকে তাকিয়ে হাসেন। জাহানারাও ছেলের কথায় হাসেন।ইথারকে বলেন,
ডাইনিং-এ চল।
ইথার বাধ্য ছেলের মত ডাইনিং এর দিকে যেতে থাকে আর রফিকুল রহমান ফুল কেনার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েন।


আমরা এমনই

তুষার আহাসান | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ২:০৮ অপরাহ্ন

আমাদের সমস্যাগুলো চারপায়ে ঘোড়ার মতো ছোটে। আমাদের
আকাঙ্খা পাখির মতো মহাকাশে ওড়ে। ভাব-অনুভবে রোজ
অভাবের ফুল ফোটে। তবু ছুঁয়ে যায় সুখের রকমফের
চোখের ভেতর মুখ পোড়ে মানুষের। সাধ নেয় সাধ্যের খোঁজ।

একচিমটে নুনের মতো একরাশ ভাললাগা। একটু শখের নেশায়
তারার মতো রাতজাগা। রোদ্দুর আড়াল করে ডাল আর পাতা
শেকড় গায় মাটির গান। শার্শিও দলছুট উল্কার মতো আয়না হয়ে যায়
কখনও-সখনো। আলগোছে রেখে দিই বৃষ্টিভেজা ছাতা।


শাহদাত সোহাগের বর্ষা কাজল চোখে

raihan.choudhury | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১০:২১ অপরাহ্ন

শাহদাত সোহাগের লেখালেখির শখ ছিল ছোটবেলা থেকেই। তৎকালীন দেশ পত্রিকায় তার গল্প ছাপা হয়েছিল আর নিজের লেখা কবিতা দিয়ে বন্ধুমহলের আড্ডা মাতিয়ে রাখতেন তিনি। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে গল্প লিখে পুরস্কারও পেয়েছিলন। তার্কিক ও উপস্থাপক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন বেশ। তবে জীবনের এক পর্য্যায়ে এসে পেশাগত জীবনের কাছে হেরে গেল সোহাগের সৃষ্টিশীল সত্ত্বা। কিন্তু আসলেই কি হেরে গেল? বোধহয় না। কারণ পেশাগত জীবনেও তিনি একজন সফল ব্যাংকার। তার কার্যক্ষেত্রেও ধরে রেখেছেন সাফল্য আর কাজের ফাকেই লেখনি দিয়ে তার চারপাশের পৃথিবীকে দেখেছেন- বর্ষা কাজল চোখে।

বর্ষা কাজল চোখে উপন্যাসের নায়ক আতাউল্লা অতুর অদম্য তারুণ্যকে ঘিরে বেড়ে উঠেছে এর কাহিনী। তার আকাঙ্খা কখনও ছুঁয়ে যেতে চায় সবকিছু। কখনও তার পছন্দ-অপছন্দের দ্বন্ধে, কখনও তার করা-না করার অপারগতার দ্বিধায় আবার কখনও বা পাওয়া-না পাওয়ার দুঃখবোধের তাড়িত হবার গল্প এটা। অতুর ভালোবাসার কাছের মানুষদের সহযোগীতায় দুঃস্বপ্নের বেলাভূমি থেকে ফের চন্দ্রালোকের আহ্বানে ফিরে আসার গল্পই আমাদের শুনিয়েছেন শাহদাত সোহাগ তার বর্ষা কাজল চোখে উপন্যাসে।

সাধারন সকল গল্প উপন্যাসের ভীড়ে এই বইটির ভেতরে কোথাও যেন একটি অন্য আলোর রশ্মি দেখা যায়। এর কাহিনীর বেড়ে ওঠায়, শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠনে পাওয়া যায় নতুনত্বের গন্ধ। আর সেজন্যেই হয়ত, তার লেখালেখি ও এই উপন্যাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে লেখক শাহাদাত সোহাগ বলেন- পরিবর্তন হোক লেখালেখিতেও।

বর্ষা কাজল চোখে উপন্যাসটি ২১শে বইমেলা ২০০৯ উপলক্ষ্যে প্রকাশ করেছে শিখা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী মশিউর রহমান। বইটির মূল্য ৭৫ টাকা মাত্র।


পবিত্র কোরান ও বিশ্বের চিন্তাবিদমহল

ফখরুল ইসলাম | ২৩ জানুয়ারি ২০০৯ ৮:১৮ পুর্বাহ্ন

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন। এই মহাগ্রন্থ ইসলামের বিশ্বজনীনতা ও চিরস্থায়ীত্বের অন্যতম প্রমাণ। খোদায়ী এই গ্রন্থ অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং তা সত্যপিপাসু মানব সমাজকে বিভ্রান্তি ও অধঃপতন থেকে রক্ষা করছে। পবিত্র কোরআনের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক হলো এই ঐশী গ্রন্থ মানবজাতির জন্য সুপথ দেখানোর ও তাদেরকে পরিচালনার বা নেতৃত্ব দেয়ার গ্যারান্টি দেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন বা কথা বলেছেন। তাই সবচেয়ে সঠিক পথের নির্দেশনা পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনে। সূরা আনফালের ২৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের নবজীবন দান করে। জেনে রাখ আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অবস্থান করেন।”
পৃথিবী যখন অজ্ঞতা, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কুসংস্কার ও বলদর্পীদের অত্যাচার এবং লুন্ঠন বা শোষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তখন ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের আলো ইসলামে দীক্ষিত মানুষের মধ্যে বিস্ময়কর পরিবর্তন আনে। ফলে অজ্ঞতা ও পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানুষগুলো স্বর্গীয় গুণাবলীতে বিভূষিত হলো। তাদের মধ্যে বিকশিত হয় মানবিকতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং নৈতিকতা। সংকীর্ণমনা এক শ্রেণীর মানুষ বিশ্ব সভ্যতায় পবিত্র কোরআনের অসাধারণ অবদানকে উপেক্ষা করলেও জাগ্রত বিবেকের অধিকারী অনেক অমুসলিম মনীষীও পবিত্র কোরআন ও ইসলামের কাছে বিশ্বসমাজের ঋণের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। সুইডেনের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ইসলাম বিষয়ের গবেষক অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে বলেছেন, মানুষের ওপর পবিত্র কোরআনের ও এর সাহিত্যের গভীর প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। পবিত্র কোরআন বেদুইন জাতিগুলোর মধ্যে স্নেহ-ভালবাসা ও বন্ধুত্বের চেতনা প্রজ্জ্বলিত করেছে। পবিত্র কোরআন মানুষের মধ্যে এখনও এ ধরনের প্রভাব রাখছে। পবিত্র কোরআনের শব্দগুলো অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও ব্যাপক ভাবযুক্ত। তাই এ ঐশীগ্রন্থের সাহিত্যিক শক্তিমত্তা বা প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে আরো বলেছেন, আমরা বর্তমানে এমন এক বিশ্বে বসবাস করছি যে বিশ্ব পুরোটাই আমাদের স্বদেশের মতো। আর ইসলাম এই স্বদেশেরই একটি অংশ। তাই ইসলাম ও পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত চিন্তাগত আদর্শকে উপেক্ষা করা যায় না। বর্তমানে পাশ্চাত্যে ইসলামের ওপর হাজার হাজার বই ও প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে। আর এ থেকেই পাশ্চাত্যে ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের উপস্থিতি বা প্রভাব আঁচ করা যায়। পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামিক স্টাডিজ বা ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভাগের অস্তিত্বও এর অন্যতম প্রমাণ । তাই ইউরোপের জন্য পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পবিত্র কোরআন সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ইউরোপ ও পাশ্চাত্যের জনগণের কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমা চিন্তাবিদদের কাছে গবেষণার বিষয় হিসেবে পবিত্র কোরআন আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এবং তারা পবিত্র কোরআনের অর্থ জানার জন্য বা এ মহাগ্রন্থকে আরো ভালোভাবে বোঝার জন্যে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অবশ্য পাশ্চাত্যে এক শ্রেণীর অসহিষ্ণু প্রকৃতির মানুষ মহান আল্লাহর এ নিদর্শনকে তুচ্ছ বা খাটো কোরে দেখানোর চেষ্টা করছে। পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত জ্ঞানের আলো পশ্চিমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক এটা তারা চায় না।

ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মানুষের জীবনের সব দিকের জন্য পথ-নির্দেশনা দেয়। মানুষ বা মানবরচিত আদর্শগুলো এ পর্যন্ত কখনও মানুষের জন্য সামগ্রীক ও নির্ভুল জীবন বিধান উপহার দিতে পারে নি এবং মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞানের কারণে তা কখনও সম্ভব নয়। তাই দেখা যায় দর্শন বা চিন্তাগত শাস্ত্রগুলোর বিভিন্ন তত্ত্ব কিছু দিন পরই বদলে যায় এবং আগের চেয়ে উন্নত তত্ত্ব এর স্থান দখল করে। কারণ, এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে যত আলোচনা ও গবেষণা হয় ততই সেসব স্পষ্টতর হয়ে ওঠে। কিন্তু সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআনের বাণীগুলো কখনও পুরনো বা সেকেলে হয় না, বরং মানুষের জ্ঞান যতই বাড়ছে পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে ততই তারা নতুন নতুন বাস্তবতা জানতে পারছে।

পবিত্র কোরআনের আহ্বান বা বাণীগুলোর রয়েছে পরিকল্পিত লক্ষ্য। এতে রয়েছে সব ক’টি জরুরী বিষয়ের আলোচনা। আল্লাহর পরিচিতি, সৃষ্টিজগত ও পরকাল বা পুনরুত্থান, পৃথিবী ও বিশ্বজগত বা নভোমন্ডল, অতীতের নবী-রাসূল ও জাতিগুলোর ইতিহাস, নৈতিকতা, পরিবারের অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, সমাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে এই কোরআন মানুষের জন্যে মৌলিক শিক্ষার আধার।

বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, কোরআন বীজগণিত কিংবা জ্যামিতি বা গণিতের বই নয়, বরং এ গ্রন্থে রয়েছে এমনসব বিধান যা মানুষকে সুপথ বা সত্যের পথে পরিচালিত করে, এই পথ হচ্ছে এমন পথ, যা নির্ধারণ করা ও যার সংজ্ঞা দেয়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
জার্মানীর বিশিষ্ট প্রাচ্যবিশারদ জোসেফ হুরডোউইচ পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরআন তার শিক্ষার মাধ্যমে মুসলমানদের চিন্তার মান বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর ভূমিকা রেখেছে, আর এ জন্যেই মুসলমানরা আমাদের আগেই চিন্তা-গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের তৎপরতা শুরু করেছে।
যারা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে এ ঐশীগ্রন্থ মানুষকে মুক্তির পথ দেখায়।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ সিদুউয়ার মতে পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য হলো মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া এবং মিথ্যার প্রতিরোধ করা। অন্যকথায় মানুষকে অজ্ঞতার আঁধার থেকে উন্নত মানবীয় চরিত্র ও আলোর দিকে পরিচালিত করা এ মহাগ্রন্থের উদ্দেশ্য।

মার্কিন চিন্তাবিদ লুমান্স পবিত্র কোরআনের আলো ও সৌন্দর্যকে বিস্ময়কর ও দৃষ্টান্তমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার প্রথম স্ফুলিঙ্গ হলো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম যার মধ্যে রয়েছে অর্থ ও তাৎপর্যের এক বিশাল জগত।

আলেম বা ধর্ম-বিশেষজ্ঞদের মতে পবিত্র কোরআন অন্য সব মোজেজার চেয়ে বড় মোজেজা। আর এ জন্যেই পবিত্র কোরআন বিবেকবান মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি গ্যাটে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে লিখেছেন, কোরআন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। প্রথমদিকে এর বাণীকে সহজ মনে হয় না, কিন্তু পাঠক খুব শিগগিরই নিজের অজান্তেই কোরআনের অসীম সৌন্দর্যে অভিভুত ও বিমুগ্ধ হয়। বহু বছর ধরে খৃষ্টান ধর্মযাজক বা পাদ্রীরা পবিত্র কোরআনের বাস্তবতা বা সত্যতা ও এর মহত্ত্ব উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু আমরা যতই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে অগ্রসর হচ্ছি এবং সংকীর্ণতা বা বিদ্বেষের পর্দা সরাচ্ছি ততই পবিত্র কোরআনের বিধানগুলোর মহত্ত্ব আমাদের মধ্যে অদ্ভুত বিস্ময় জাগাচ্ছে। অবর্ণনীয় এই গ্রন্থ শিগগিরই মানুষের চিন্তার মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে। পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য মহান, অর্থ গভীর এবং এর ভিত্তি বা যুক্তি এতো সুদৃঢ় যে প্রতি মুহূর্তে এর মহত্ত্ব আরো প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে।

পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিখ্যাত দার্শনিক ও মুফাসসির আল্লামা তাবাতাবায়ি লিখেছেন, পবিত্র কোরআনের অলংকারিক সৌন্দর্য বা বাগ্মীতা ও প্রজ্ঞা এক বড় মোজেজা। জ্ঞানীদের জন্য কোরআন যেন এক অলৌকিক সম্পদ-ভান্ডার এবং আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আধার। এই বইয়ে রয়েছে নীতিনির্ধারক বা রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে নবীন ও নজিরবিহীন নীতি । সংক্ষেপে বলা যায় পবিত্র কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এমনসব বাস্তবতা বা রহস্যের আকর যে বাস্তবতাগুলো মানুষ কোরআন ছাড়া কখনও উদঘাটন করতে পারে না। আর এ জন্যই পবিত্র কোরআন এক বিস্ময়কর মোজেজা বা অলৌকিক গ্রন্থ।

বিখ্যাত আলেম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী লিখেছেন, মোজেজা বা অলৌকিক বিষয় দু রকমঃ ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য ও চিন্তাগত । অতীতের নবীগণের জন্যে ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য মোজেজা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ইসলামের নবী বা সর্বশেষ রাসূল(সাঃ)কে দেয়া হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক বা চিন্তাগত মোজেজা। আর এ জন্যেই তা অমর ও চিরস্থায়ী। সবশেষে বলা যায় পবিত্র কোরআন সূক্ষ্ম, সমৃদ্ধ ও সামগ্রীক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে মানুষের সমস্ত আধ্যাত্মিক এবং মানসিক চাহিদাসহ মানুষের সমস্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এ জন্যেই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, কোরআন এমন এক সম্পদ যা ছাড়া মানুষ শক্তিহীন, আর এই সম্পদ থাকলে মানুষের কোনো কিছুরই অভাব বা দারিদ্র থাকে না।


প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।

ফখরুল ইসলাম | ১১ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২৩ পুর্বাহ্ন

আজ আমার সামনে একজন প্রতিবন্ধীকে তিরস্কার করতে দেখে মনে খুব ব্যাথা পেলাম।আরো বেশী দুঃখ পেলাম প্রতিবন্ধি লোকটির পরিচিত একজনের কাছে তার অতিত জীবনের গল্প শুনে। সে একসময় প্রতিবন্ধি ছিলনা,ভাল থাকা অবস্থায় এ লোক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধিকে তিরস্কার ও তাচ্ছিল্য করত। একদিন তার এলাকার ব্রেইন প্রতিবন্ধি আলম নামে এক লোককে তিরস্কার করার সময় আলম তাকে চায়ের দোকানের আধা পোড়া লাড়কি দিয়ে আঘাত করে, লোকটি বিলম্ব না করে আলমকে প্রচন্ড ভাবে মেরে রক্তাক্ত করে। আলম নাকি সেদিন সারাদিন কান্নাকাটি করেছে, কেউ তাকে সান্তনা দিতে পারেনি, বরং সান্তনা দিতে চাইলে আর ও বেশী কাদত, এ ভাবে একবার সেজদায় পড়ত আরেকবার বুক থাপড়াত সেই সাথে অভিশাপের বানীত ছিল। বেশীদিন যায়নি মাত্র আট মাসের মধ্যে
প্রহারকারী লোকটি পাগল হয়ে গেল। আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা কানে শোনে না, চোখে দেখে না, কথা বলতে পারে না এসব শারীরিক সমস্যার কারণে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। পাশাপাশি কিছু দুষ্ট লোক আছে যারা এসব শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাথে নানাভাবে ঠাট্টা মশকরা করে কিংবা তাদের কষ্ট দেয়। যারা এসব অপকর্ম করে তাদের পরিণতি কক্ষনো ভাল হয় না। এ সম্পর্কে একটি গল্প উপস্থাপন করছি, গল্পটি এইরকম
এক দেশে সালমান নামে এক বৃদ্ধ মুদি বাস করতো। সে কানে খুব কম শুনতো। কানের কাছে গিয়ে খুব জোরে কথা বললেই সে শুনতে পেতো। এজন্য লোকজন তাকে কালা সালমান বলে ডাকতো। সালমানের পাশে মহল্লায় শাবান নামে এক যুবক বাস করতো। শাবানের একটা বদ অভ্যাস ছিল। সে দোকানদারদের কাছ থেকে বাকীতে জিনিস কিনতো কিন্তু টাকা দেয়ার বেলায় ফাঁকি দিতো। তাই দোকানীরা তার কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করতো না। একদিন শাবান এলো সালমানের দোকানে । সে কিছু জিনিস বাকীতে নিতে চাইল। বৃদ্ধ সালমান জানতো যে, শাবানকে একবার বাকী দিলে সে টাকা আর পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে শাবানকে বলল, আমি বাপু লেখাপড়া জানিনে, বুড়ো মানুষ তাই মনেও রাখতে পারিনে। তাই বাকীতে কোন কিছু বিক্রি করবো না। একথা শুনে শাবানের খুব রাগ হলো। এরপর থেকে সে সব সময় কালা সালমানকে বিরক্ত ও ঠাট্টা মশকরা করতো। সে তার বখাটে বন্ধুদের বলতো, যা, সালমানের সামনে গিয়ে শব্দ না করে শুধু ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বল। শাবানের দুষ্ট বন্ধুরা যখন বুড়ো সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো তখন সে শুনতে না পেরে বলে উঠতো, তোমরা কি চাও, একটু জোরে বল । তখন শাবান এগিয়ে গিয়ে জোরে বলতো, চাচা তুমি বধির নাকি ? আমার বন্ধুরা তো তরকারি চাচ্ছে। শাবানের কথায় তার বন্ধুরা হেসে উঠতো। সালমান এতে বিরুক্ত হয়ে বলতো , আমার কাছে তরকারী নেই। এটা তরকারির দোকান নয়, মুদির দোকান।শাবানের বখাটে বন্ধুরা বৃদ্ধের কথায় আবারো হাসিতে ফেটে পড়তো।পরদিন শাবান ও তার বন্ধুরা আবারো যেতো সালমানের দোকানে। তাদের একজন সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো। সালমান কিছুই শুনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলে শাবান এগিয়ে যেতো এবং বলতো,
চাচা তুমি কি কালা ? আমার এ বন্ধু দুই গজ কাপড় চাচ্ছে। শাবানের কথায় বন্ধুরা হেসে উঠতো। অন্যদিকে বৃদ্ধ মুদি বিরক্ত হতো।

একদিন শাবানকে একা পেয়ে বৃদ্ধি মুদি বললো, দেখ্‌ শাবান! তুই ভাল করেই জানিস যে আমি কানে কম শুনি। কিন্তু তারপরও তুই আমাকে অযথায় কষ্ট দিচ্ছিস কেন ? এই যে আমি কম শুনতে পাই,এটা আমার একটা রোগ। এতে আমার অপরাধ কি দেখলি ? মনে রাখবি, এভাবে মানুষকে অযথা কষ্ট দিলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।বৃদ্ধের কথা শুনে শাবান বললো, ঠিকাছে তোমাকে আর কষ্ট দেবো না যদি আমাকে বাকীতে মাল দাও ।শাবানের চালাকী বুঝতে পেরে সালমান বললো, না, কক্ষনো তোকে বাকীতে মাল দেবো না। এরপর শাবান বললো, তাহলে আমিও তোমাকে বিরক্ত করতেই থাকবো।শাবানের কথা শুনে বৃদ্ধ সালমান খুব দুঃখ পেল। এরপর বললো, তুই আমার মত বুড়ো মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছিস একদিন দেখবি তোরও এ রকম অবস্থা হয়েছে।
এ ঘটনার কিছুদিন পরের কথা। একদিন শাবান টের পেল, তার কানে কি যেন হয়েছে। সে সবকিছু ভালভাবে শুনতে পাচ্ছে না। একদিন সে তার পরিচিত লোকের সাথে আলাপ করার সময় কথাবার্তা না শুনেই সে উল্টো জবাব দিয়ে দিলো। এতে ঐ লোকটি হেসে উঠলো এবং বলল, কিরে তুই কালা হয়ে গেলি নাকি ? শাবান এ কথা শুনে খুব কষ্ট পেল। এরপর থেকে সে কারো সাথে কথাবার্তা বলার সময় সমস্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতো যাতে সঠিক জবাব দিতে পারে এবং উপহাসের পাত্র না হয়। কিন্তু শাবান যতই চেষ্টা করতে লাগলো ততই তার কান ভারী হয়ে এলো। দেখতে দেখতে সে সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেলো।বধির হয়ে গেলেও সে মানুষকে তা বুঝতে দিতো না।
একদিন সে জানতে পারলো যে, পাশের মহল্লার এক কসাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই তাকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কসাইয়ের বাড়ীর উদ্দেশ্যে যেতে যেতে সে ভাবলো, রোগী দেখতে গিয়ে প্রথমে সালাম দেবো। সে সালামের জবাব দিলে জানতে চাইবো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ? সে হয়তো বলবে, স্যূপ, বনরুটি কিংবা অন্যকিছু খাচ্ছি। আমি বলবো, খুব ভাল ব্যবস্থা। এটাই তোমার উপযুক্ত পথ্য। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার অবস্থা এখন কেমন ? সে নিশ্চয়ই জবাব দেবে, কিছুটা ভালোর দিকে। আমি তখন বলবো, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার ডাক্তার কে ? তখন সে নিশ্চয়ই কোন ডাক্তারের নাম বলবে । আমি তখন বলবো, তিনি তো খুব ভাল ডাক্তার। এ ঘরে তার শুভাগমন হোক। এরপর খোদাহাফেজ বলে চলে আসবো । ব্যস, খুব সোজা কাজ।
বধির শাবান এসব প্রশ্ন-উত্তর মনে মনে তৈরি করে পৌছে গেল কসাইয়ের বাড়ীতে । রোগীর ঘরে প্রবেশ করেই সালাম বিনিময় করলো। রোগীর অবস্থা তখন খুব খারাপ যাচ্ছিল। শাবান তার হাত দিয়ে রোগীর বাহু ধরে জিজ্ঞেস করলো, তোমার অবস্থা কেমন ভাই, কিছুটা ভাল হয়েছে ?
রোগী গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে বললো, না বাবা, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একেবারে মরে যাচ্ছি।
শাবান বলল : আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহর বহুত শুকরিয়া ।
রোগী শাবানের কথা শুনে বিরক্ত বোধ করলো। রোগীর পাশে যারা ছিল তারাও বিষ্মিত হয়ে গেল। এরপর শাবান জিজ্ঞেস করলো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ?
রোগীর মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি হয়ে গিয়েছিল। তাই সে জবাব দিলো, যন্ত্রণা খাচ্ছি, মরণ খাচ্ছি, সাপের বিষ খাচ্ছি।
শাবান বলল : খুব ভাল পথ্য । তোমার মতো রোগীর জন্য এসবই উত্তম।
শাবানের কথা শুনে রোগীর মেজাজ আরো বিগড়ে গেল। রোগীর এক আত্মীয় বললো, এই ব্যাটা, এসব কি যা-তা বকছিস ? রোগীর সাথে তোর কোন শত্রুতা আছে নাকি ?
শাবান লোকটির কথা কিছুই বুঝতে পারলো না। তাই জবাবও দিলো না। কিছুক্ষণ পর সে আবারো রোগীকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার ডাক্তার কে ভাই ?
রোগী রেগে গিয়ে বলল : আজরাইল, আজরাইল আমার ডাক্তার।
শাবান বলল, বেশ ভাল ডাক্তার। এ বাড়ীতে তার আগমন শুভ হোক। তার মতো ডাক্তারই হয় না।
শাবানের কথা শুনে রোগী চেঁচিয়ে ওঠে বললো, এ ব্যাটাকে এখান থেকে ঘাড় ধরে বের করে দাও। এই আহম্মক আমাকে নিয়ে তামাশা শুরু করেছে।
ঘরের লোকজন শাবানের হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে এলো এবং বললো, ব্যাটা তুই আস্ত একটা বদমাশ। রোগী তোর সাথে কি দুশমনি করেছে যে তার সাথে এরকম করছিস ? রোগীর একজন আত্মীয় এসে শাবানকে ধাক্কা মেরে রাস্তার দিকে ঠেলে দিলো। আরেকজন তেড়ে গেল তাকে মারতে। সবার মারমুখী অবস্থা দেখে শাবান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সে চিৎকার করে বলে উঠলো, তোমরা আমাকে মারতে চাচ্ছো কেন ? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি ?
রাস্তার হৈ চৈ শুনে পাশের বাড়ী থেকে একজন যুবক বেরিয়ে এলো। সে ছিল বুড়ো মুদি সালমানের পুত্র। লোকদের কাছে শাবানের উল্টাপাল্টা জবাব শুনে সে শাবানকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি ?
শাবান ভাবলো যুবক তাকে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এখানে কেন এসেছিলে? তাই সে জবাব দিলো, ঐ বাড়ীর কসাই বেচারা অসুস্থ তাই তাকে দেখতে এসেছিলাম। শাবানের উল্টাপাল্টা উত্তর শুনে যুবকটি আসল রহস্য বুঝতে পারলো। এরপর যুবকটি পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম বের করে তাতে লিখল, তুমি কি লেখাপড়া জানো ? লেখাটি শাবানের সামনে তুলে ধরতেই সে বলে উঠলো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি লেখাপড়া জানি । এ কথা শুনে যুবকটি বুঝতে পারলো যে, এ বেচারাও তার বাবার মত কানে কম শুনে কিংবা একেবারেই শুনে না। কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে সে তার অক্ষমতার কথা কারো কাছে ফাঁস করতে চায় না। যুবকটি এবার উত্তেজিত জনতাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বিদায় করলো। এরপর সে কাগজের উপর লিখল, শোন ভাই, বধির হওয়া কোন অপরাধে বিষয় নয়। এতে লজ্জা শরমের কি আছে ? আমার বাবা সামলান মুদিও বধির। তাতে কি ? এটা তো একটা রোগ। কিন্তু তুমি তোমার দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে মানুষের কথাবার্তার উল্টাপাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছো। মানুষ এতে কষ্ট পাচ্ছে এবং বিরক্ত হচ্ছে। তার চেয়ে তুমি যদি মানুষকে বল যে, তুমি কানে শুন না তাহলে কোন বিপদ নেই। কেউ তোমাকে ভুল বুঝবে না। নিজের অহংকার ত্যাগ করে এখন থেকে বল যে, আমি বধির। তাহলেই বেঁচে যাবে। নইলে মারধোর তোমার ভাগ্যে নিশ্চিত।
কাগজের লেখাগুলো পড়ার পর শাবানের হুশ হলো। সে বলল, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তুমি ঠিকই বলেছে। একসময় আমি তোমার বাবার সাথে ঠাট্টা মশকরা করতাম, তাকে অযথা কষ্ট দিতাম। আজ আমি তওবা করলাম। আর কাউকে মশকরা করবো না। এরপর থেকে শাবান তার পকেটে সবসময় কাগজ কলম রাখতো। যখনি কেউ তার সাথে কথা বলতে আসতে তখনি সে কাগজের ওপর লিখে জানাতে আমি বধির। আমার সাথে কোন প্রয়োজন থাকলে এই কাগজে লিখে জানান। আমি পড়তে জানি, লেখাপড়ে জবাব দেবো। তাই আসুন আমরা প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।