bdnews24.com banglablog

সংস্কৃতি

শাহদাত সোহাগের বর্ষা কাজল চোখে

raihan.choudhury | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১০:২১ অপরাহ্ন

শাহদাত সোহাগের লেখালেখির শখ ছিল ছোটবেলা থেকেই। তৎকালীন দেশ পত্রিকায় তার গল্প ছাপা হয়েছিল আর নিজের লেখা কবিতা দিয়ে বন্ধুমহলের আড্ডা মাতিয়ে রাখতেন তিনি। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে গল্প লিখে পুরস্কারও পেয়েছিলন। তার্কিক ও উপস্থাপক হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন বেশ। তবে জীবনের এক পর্য্যায়ে এসে পেশাগত জীবনের কাছে হেরে গেল সোহাগের সৃষ্টিশীল সত্ত্বা। কিন্তু আসলেই কি হেরে গেল? বোধহয় না। কারণ পেশাগত জীবনেও তিনি একজন সফল ব্যাংকার। তার কার্যক্ষেত্রেও ধরে রেখেছেন সাফল্য আর কাজের ফাকেই লেখনি দিয়ে তার চারপাশের পৃথিবীকে দেখেছেন- বর্ষা কাজল চোখে।

বর্ষা কাজল চোখে উপন্যাসের নায়ক আতাউল্লা অতুর অদম্য তারুণ্যকে ঘিরে বেড়ে উঠেছে এর কাহিনী। তার আকাঙ্খা কখনও ছুঁয়ে যেতে চায় সবকিছু। কখনও তার পছন্দ-অপছন্দের দ্বন্ধে, কখনও তার করা-না করার অপারগতার দ্বিধায় আবার কখনও বা পাওয়া-না পাওয়ার দুঃখবোধের তাড়িত হবার গল্প এটা। অতুর ভালোবাসার কাছের মানুষদের সহযোগীতায় দুঃস্বপ্নের বেলাভূমি থেকে ফের চন্দ্রালোকের আহ্বানে ফিরে আসার গল্পই আমাদের শুনিয়েছেন শাহদাত সোহাগ তার বর্ষা কাজল চোখে উপন্যাসে।

সাধারন সকল গল্প উপন্যাসের ভীড়ে এই বইটির ভেতরে কোথাও যেন একটি অন্য আলোর রশ্মি দেখা যায়। এর কাহিনীর বেড়ে ওঠায়, শব্দ চয়ন ও বাক্য গঠনে পাওয়া যায় নতুনত্বের গন্ধ। আর সেজন্যেই হয়ত, তার লেখালেখি ও এই উপন্যাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে লেখক শাহাদাত সোহাগ বলেন- পরিবর্তন হোক লেখালেখিতেও।

বর্ষা কাজল চোখে উপন্যাসটি ২১শে বইমেলা ২০০৯ উপলক্ষ্যে প্রকাশ করেছে শিখা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন শিল্পী মশিউর রহমান। বইটির মূল্য ৭৫ টাকা মাত্র।


শীতার্ত মানুষের বাঁচার লড়াইয়ে সামিল হোন!

Arshad Ali | ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:১১ পুর্বাহ্ন

প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) একটি বিপ্লবি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৯৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বষের্র একদল তরুন স্বেচ্ছাসেবায় উদ্যোগী হয়ে গড়ে তোলে প্রপদ। তারুন্যের সেই অগ্রযাত্রা শুধু ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, কুমিল্লা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, জকিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যাতর্দের পাশে এরা দাঁড়িয়েছে সহযোগীতা ও মুক্তির গান নিয়ে। সাধারণ জনগণের সাথে নীরব যোগাযোগ প্রতিষ্টা, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ ও সমাধানের উপায় অনুসন্ধানে প্রপদ সবর্দাই নিবেদিত। দুগর্তদের মাঝে যাওয়া, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ করে স্থায়ী সমাধানের উপায় অনুসন্ধান, মানুষের দুঃখ কষ্ট কাছাকাছি থেকে পযর্বেক্ষণ করার এই ধারাবাহিক পথ পরিক্রমায় গড়ে উঠেছে সচেতন চিন্তা, সংগ্রামী পথযাত্রা। তারুণ্যের সেই স্বেচ্ছসেবা নিজস্ব গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রুপান্তরিত হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রম ও সংগ্রামে। গড়ে উঠেছে নাটকের দল, গানের দল, প্রকাশনা। যা কথা বলে দেশ, জাতি ও এদেশের সাধারণ মানুষের। জনগণকে সংগঠিত করে তার সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানায় প্রপদ। প্রপদ এর কাযর্ক্রমের ধারাবাহিকতায় এখন চলছে ১৩তম শীতার্ত সহযোগীতা কাযর্ক্রম। স্বেচ্ছাশ্রমিক আহবান, গণঁচাদা সংগ্রহ, পুরাতন বস্ত্র সংগ্রহ, প্রচার ও বিতরণ চলছে। প্রচার ও সংগ্রহের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দুটি টিম। সংগ্রহের পরের আসে বিতরনের কাজ। শীত দুর্গত এলাকায় গিয়ে ঘরে ঘরে জরিপ চালিয়ে ভুক্তভোগীর তালিকা তৈরি এবং মতবিনিময় করা হয়। প্রচারণার টিম প্রচারণার কাজ করে-গায় গণসঙ্গীত, মঞ্চস্থ হয় নাটক, যেখানে ফুটে ওঠে জনগণের মুক্তির সংগ্রামে সংগঠিত হোয়ার আহবান। সবশেষে হয় বিতরণ। যেকোনো প্রভাবমুক্ত থেকে পুরো কাজটি সমন্বয়ের জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় টিম। শীত বস্ত্র বেশীরভাগই বিতরণ হয় উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের মাঝে। প্রপদ এর প্রত্যেকটি কাজেই থাকে ছেলেদের সমান অংশগ্রহণ। ১৯৯৩-এ শুরু হোয়া তারুণ্যের সেই পথচলা আজ পৌঁছে গেছে ব্যাপক জনগণের মাঝে। যা এই এক সময় মুক্তির মিছিলে রূপ নেবে এই প্রত্যাশাই করে প্রগিতর পরিব্রাজক দল (প্রপদ)। প্রপদ এর যেকোন কাজে অংশগ্রহণসহ সহযোগীতার জন্য যোগাযোগ করুন
প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ)
কেন্দ্রীয় কার্যালয়
ডাকসু ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল-propod_ppd@yahoo.com
মেবাইলঃ ঢাকা-০১৭১৮৯০৫০৬০
সিলেট- ০১৭২৩৬৯৮২৪৬
চট্টগ্রাম- ০১৭১৮১৩৪০১৮
রংপুর-০১৭২৭৬৬১১২৯
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়-০১৯১৬৩৩৭৯৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ০১৯২১৬৩৮৫৪৫
শাবিপ্রবি, সিলেট-০১৭১৪৩৩০৫৩০
নিলফামারী-০১৯২২১২৮৫৫২
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)-০১৯১৮৫৫৪০৬১
হবিগঞ্জ-০১৭২৪০৫৯৭৯২
কুমিল্লা-০১৭১৭৭৪০১০৬


পবিত্র কোরান ও বিশ্বের চিন্তাবিদমহল

ফখরুল ইসলাম | ২৩ জানুয়ারি ২০০৯ ৮:১৮ পুর্বাহ্ন

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন। এই মহাগ্রন্থ ইসলামের বিশ্বজনীনতা ও চিরস্থায়ীত্বের অন্যতম প্রমাণ। খোদায়ী এই গ্রন্থ অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং তা সত্যপিপাসু মানব সমাজকে বিভ্রান্তি ও অধঃপতন থেকে রক্ষা করছে। পবিত্র কোরআনের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক হলো এই ঐশী গ্রন্থ মানবজাতির জন্য সুপথ দেখানোর ও তাদেরকে পরিচালনার বা নেতৃত্ব দেয়ার গ্যারান্টি দেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন বা কথা বলেছেন। তাই সবচেয়ে সঠিক পথের নির্দেশনা পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনে। সূরা আনফালের ২৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের নবজীবন দান করে। জেনে রাখ আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অবস্থান করেন।”
পৃথিবী যখন অজ্ঞতা, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কুসংস্কার ও বলদর্পীদের অত্যাচার এবং লুন্ঠন বা শোষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তখন ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের আলো ইসলামে দীক্ষিত মানুষের মধ্যে বিস্ময়কর পরিবর্তন আনে। ফলে অজ্ঞতা ও পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানুষগুলো স্বর্গীয় গুণাবলীতে বিভূষিত হলো। তাদের মধ্যে বিকশিত হয় মানবিকতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং নৈতিকতা। সংকীর্ণমনা এক শ্রেণীর মানুষ বিশ্ব সভ্যতায় পবিত্র কোরআনের অসাধারণ অবদানকে উপেক্ষা করলেও জাগ্রত বিবেকের অধিকারী অনেক অমুসলিম মনীষীও পবিত্র কোরআন ও ইসলামের কাছে বিশ্বসমাজের ঋণের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। সুইডেনের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ইসলাম বিষয়ের গবেষক অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে বলেছেন, মানুষের ওপর পবিত্র কোরআনের ও এর সাহিত্যের গভীর প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। পবিত্র কোরআন বেদুইন জাতিগুলোর মধ্যে স্নেহ-ভালবাসা ও বন্ধুত্বের চেতনা প্রজ্জ্বলিত করেছে। পবিত্র কোরআন মানুষের মধ্যে এখনও এ ধরনের প্রভাব রাখছে। পবিত্র কোরআনের শব্দগুলো অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও ব্যাপক ভাবযুক্ত। তাই এ ঐশীগ্রন্থের সাহিত্যিক শক্তিমত্তা বা প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে আরো বলেছেন, আমরা বর্তমানে এমন এক বিশ্বে বসবাস করছি যে বিশ্ব পুরোটাই আমাদের স্বদেশের মতো। আর ইসলাম এই স্বদেশেরই একটি অংশ। তাই ইসলাম ও পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত চিন্তাগত আদর্শকে উপেক্ষা করা যায় না। বর্তমানে পাশ্চাত্যে ইসলামের ওপর হাজার হাজার বই ও প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে। আর এ থেকেই পাশ্চাত্যে ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের উপস্থিতি বা প্রভাব আঁচ করা যায়। পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামিক স্টাডিজ বা ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভাগের অস্তিত্বও এর অন্যতম প্রমাণ । তাই ইউরোপের জন্য পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পবিত্র কোরআন সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ইউরোপ ও পাশ্চাত্যের জনগণের কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমা চিন্তাবিদদের কাছে গবেষণার বিষয় হিসেবে পবিত্র কোরআন আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এবং তারা পবিত্র কোরআনের অর্থ জানার জন্য বা এ মহাগ্রন্থকে আরো ভালোভাবে বোঝার জন্যে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অবশ্য পাশ্চাত্যে এক শ্রেণীর অসহিষ্ণু প্রকৃতির মানুষ মহান আল্লাহর এ নিদর্শনকে তুচ্ছ বা খাটো কোরে দেখানোর চেষ্টা করছে। পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত জ্ঞানের আলো পশ্চিমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক এটা তারা চায় না।

ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মানুষের জীবনের সব দিকের জন্য পথ-নির্দেশনা দেয়। মানুষ বা মানবরচিত আদর্শগুলো এ পর্যন্ত কখনও মানুষের জন্য সামগ্রীক ও নির্ভুল জীবন বিধান উপহার দিতে পারে নি এবং মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞানের কারণে তা কখনও সম্ভব নয়। তাই দেখা যায় দর্শন বা চিন্তাগত শাস্ত্রগুলোর বিভিন্ন তত্ত্ব কিছু দিন পরই বদলে যায় এবং আগের চেয়ে উন্নত তত্ত্ব এর স্থান দখল করে। কারণ, এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে যত আলোচনা ও গবেষণা হয় ততই সেসব স্পষ্টতর হয়ে ওঠে। কিন্তু সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআনের বাণীগুলো কখনও পুরনো বা সেকেলে হয় না, বরং মানুষের জ্ঞান যতই বাড়ছে পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে ততই তারা নতুন নতুন বাস্তবতা জানতে পারছে।

পবিত্র কোরআনের আহ্বান বা বাণীগুলোর রয়েছে পরিকল্পিত লক্ষ্য। এতে রয়েছে সব ক’টি জরুরী বিষয়ের আলোচনা। আল্লাহর পরিচিতি, সৃষ্টিজগত ও পরকাল বা পুনরুত্থান, পৃথিবী ও বিশ্বজগত বা নভোমন্ডল, অতীতের নবী-রাসূল ও জাতিগুলোর ইতিহাস, নৈতিকতা, পরিবারের অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, সমাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে এই কোরআন মানুষের জন্যে মৌলিক শিক্ষার আধার।

বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, কোরআন বীজগণিত কিংবা জ্যামিতি বা গণিতের বই নয়, বরং এ গ্রন্থে রয়েছে এমনসব বিধান যা মানুষকে সুপথ বা সত্যের পথে পরিচালিত করে, এই পথ হচ্ছে এমন পথ, যা নির্ধারণ করা ও যার সংজ্ঞা দেয়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
জার্মানীর বিশিষ্ট প্রাচ্যবিশারদ জোসেফ হুরডোউইচ পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরআন তার শিক্ষার মাধ্যমে মুসলমানদের চিন্তার মান বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর ভূমিকা রেখেছে, আর এ জন্যেই মুসলমানরা আমাদের আগেই চিন্তা-গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের তৎপরতা শুরু করেছে।
যারা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে এ ঐশীগ্রন্থ মানুষকে মুক্তির পথ দেখায়।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ সিদুউয়ার মতে পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য হলো মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া এবং মিথ্যার প্রতিরোধ করা। অন্যকথায় মানুষকে অজ্ঞতার আঁধার থেকে উন্নত মানবীয় চরিত্র ও আলোর দিকে পরিচালিত করা এ মহাগ্রন্থের উদ্দেশ্য।

মার্কিন চিন্তাবিদ লুমান্স পবিত্র কোরআনের আলো ও সৌন্দর্যকে বিস্ময়কর ও দৃষ্টান্তমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার প্রথম স্ফুলিঙ্গ হলো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম যার মধ্যে রয়েছে অর্থ ও তাৎপর্যের এক বিশাল জগত।

আলেম বা ধর্ম-বিশেষজ্ঞদের মতে পবিত্র কোরআন অন্য সব মোজেজার চেয়ে বড় মোজেজা। আর এ জন্যেই পবিত্র কোরআন বিবেকবান মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি গ্যাটে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে লিখেছেন, কোরআন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। প্রথমদিকে এর বাণীকে সহজ মনে হয় না, কিন্তু পাঠক খুব শিগগিরই নিজের অজান্তেই কোরআনের অসীম সৌন্দর্যে অভিভুত ও বিমুগ্ধ হয়। বহু বছর ধরে খৃষ্টান ধর্মযাজক বা পাদ্রীরা পবিত্র কোরআনের বাস্তবতা বা সত্যতা ও এর মহত্ত্ব উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু আমরা যতই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে অগ্রসর হচ্ছি এবং সংকীর্ণতা বা বিদ্বেষের পর্দা সরাচ্ছি ততই পবিত্র কোরআনের বিধানগুলোর মহত্ত্ব আমাদের মধ্যে অদ্ভুত বিস্ময় জাগাচ্ছে। অবর্ণনীয় এই গ্রন্থ শিগগিরই মানুষের চিন্তার মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে। পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য মহান, অর্থ গভীর এবং এর ভিত্তি বা যুক্তি এতো সুদৃঢ় যে প্রতি মুহূর্তে এর মহত্ত্ব আরো প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে।

পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিখ্যাত দার্শনিক ও মুফাসসির আল্লামা তাবাতাবায়ি লিখেছেন, পবিত্র কোরআনের অলংকারিক সৌন্দর্য বা বাগ্মীতা ও প্রজ্ঞা এক বড় মোজেজা। জ্ঞানীদের জন্য কোরআন যেন এক অলৌকিক সম্পদ-ভান্ডার এবং আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আধার। এই বইয়ে রয়েছে নীতিনির্ধারক বা রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে নবীন ও নজিরবিহীন নীতি । সংক্ষেপে বলা যায় পবিত্র কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এমনসব বাস্তবতা বা রহস্যের আকর যে বাস্তবতাগুলো মানুষ কোরআন ছাড়া কখনও উদঘাটন করতে পারে না। আর এ জন্যই পবিত্র কোরআন এক বিস্ময়কর মোজেজা বা অলৌকিক গ্রন্থ।

বিখ্যাত আলেম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী লিখেছেন, মোজেজা বা অলৌকিক বিষয় দু রকমঃ ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য ও চিন্তাগত । অতীতের নবীগণের জন্যে ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য মোজেজা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ইসলামের নবী বা সর্বশেষ রাসূল(সাঃ)কে দেয়া হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক বা চিন্তাগত মোজেজা। আর এ জন্যেই তা অমর ও চিরস্থায়ী। সবশেষে বলা যায় পবিত্র কোরআন সূক্ষ্ম, সমৃদ্ধ ও সামগ্রীক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে মানুষের সমস্ত আধ্যাত্মিক এবং মানসিক চাহিদাসহ মানুষের সমস্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এ জন্যেই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, কোরআন এমন এক সম্পদ যা ছাড়া মানুষ শক্তিহীন, আর এই সম্পদ থাকলে মানুষের কোনো কিছুরই অভাব বা দারিদ্র থাকে না।


আশুরার গুরুত্ব

ফখরুল ইসলাম | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৫ অপরাহ্ন

আরবী নব বর্ষের প্রথম মাস হল মহররম মাস। মহররম মাস মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন ও মর্যাদাপুর্ন মাস। মুহররম শব্দের অর্থ হারাম বা নিষিদ্ধ, কোন জাতী বা গোষ্ঠী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে না দিলে এ মাসে মুসলমানদের জন্য কোন প্রকার যুদ্ধ করা হারাম বিধায় এ মাসের নাম রাখা হয়েছে মুহররম মাস। ইসলাম ধর্মানুসারীদের মতে প্রত্যেক আরবী মাসের বিশেষ বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা থাকলে ও এমাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় বেশী ও ব্যতিক্রম। এমাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক বিস্ময়কর ও রহমত পুর্ন কাজ সম্পাদন করেছেন যা মুসলমানদের ইতিহাসে অবিস্মরনীয় হয়ে আছে এবং পৃথিবী ধংসের পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত থাকবে। এমাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা ব্যাখ্যা করা আমার মত স্বল্প জ্ঞানী ব্যক্তির পক্ষে কোন প্রকারে সম্ভব নয়।তবু ও এমাসের ১০ তারিখের বিশেষ কয়েকটি রহমতপুর্ন ঘটনা ক্ষুদ্র পরিসরে আমি উল্লেখ করতে চেষ্টা করছি।
১। এ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষব করে।
২। আদম (আঃ) কে সৃস্টির পর এ মাসের ১০ তারিখে প্রথম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।
৩। হযরত আদম(আঃ) এর অপরাধের কারনে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্ররনের পর
অনেক কান্নাকাটির কারনে এ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তার তওবা গ্রহন করে অপরাধ ক্ষমা করেছিলেন।
৪।হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে পয়দা হয়েছিলেন।
৫। হযরত মুসা(আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে ফেরাউনের সাথে জয়লাভ করেছিলেন এবং
ফেরাউন এ মাসের ১০ তারিখে নীল নদীতে ডুবে মরেছিল।
৬। হযরত আইয়ুব (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে পচন রুগ হতে মুক্তি পেয়েছিলেন।
৭। হযরত নুহ (আঃ) আমলে বন্যার পানি এ মাসের ১০ তারিখে শুকিয়ে শেষ হয়েছিল।
৮। হযরত ইউনুছ (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে মাছের পেট হতে বাহিরে আসতে পেরেছিলেন।
৯। এ মাসের ১০ তারিখে কেয়ামত সংঘটিত হবে।
১০। এ মাসের ১০ তারিখে কারবালার মরু প্রান্তরে মহানবীর আদরের নাতী হোসাইন (আঃ) ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজীরবিহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইমাম হোসাইন (আ) ইসলামের সঠিক বার্তাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। নৈতিক , চারিত্র্যিক এবং মানবীয় সকল অসৎ গুণাবলী যাদের ছিল মজ্জাগত , তারা ইসলামী খেলাফতকে পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে ভোগ করতে গিয়ে ইসলামের সুমহান আদর্শকেই কলঙ্কিত করতে বসেছিল। ইসলামের নামে এই স্বেচ্ছাচার নবী তণয় ইমাম হোসাইন (আ) কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি। উপরন্তু খেলাফতের অধিকার ছিল ইমাম হোসাইন (আ) এর। অথচ উমাইয়া শাসক মুয়াবিয়ার সাথে ইমাম হাসানের (আ) চুক্তি ভঙ্গ করে মুয়াবিয়া-পুত্র ইয়াযিদ ক্ষমতার আসনে বসেই তার সামনের সবচে বড় চ্যালেঞ্জ ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে যায়। ইমাম হোসাইন (আ) এই সঙ্কটকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবেলা করেন, যাতে বিশ্ববাসী প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবহিত হবার সুযোগ পায় এবং ইসলামের প্রকৃত বার্তা ধীরে সুস্থে হলেও সবার কাছে পৌঁছে যায়। সমাজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইমাম হোসাইনের সেই আন্দোলনকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হয়। কালের অমোঘ পরিক্রমায় দেখা গেছে, ভালো এবং মন্দের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে এসেছে আদিকাল থেকে। সত্যের পক্ষে কোনো কোনো সংগ্রাম ছিল দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আবার কোনো কোনো সংগ্রাম ছিল অত্যাচারীদের রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে অস্পষ্ট। ইমাম হোসাইন (আ) এর যে আন্দোলন তা ছিল তৎকালীন শাসকবৃন্দের ইসলামবিনাশী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সংগ্রাম। যদিও সে সময়কার জনগণের কাছে অজ্ঞানতার কারণে তা ছিল রাজনৈতিক মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো অস্পষ্ট। যার ফলে তখন ইসলাম অনুরাগীরাও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলাচলে ভুগেছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ ব্যাপক গবেষণা আর ইতিহাস পর্যালোচনায় প্রকৃত সত্য উদ্ভাসিত হয়ে গেছে সবার সামনে। গবেষকরা আজ ইমাম হোসাইনের সেই সংগ্রামের যথার্থতা খুঁজে পেয়েছেন। এতোকাল পর তাঁর আন্দোলনের যথার্থতা খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই অনুমিত হয় যে ইমাম হোসাইনের সেই আন্দোলন কতো সুদূরপ্রসারী ছিল।সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে ইমাম হোসাইনের আন্দোলনের মূল্যবোধগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়। এসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধটি হলো তাঁর সহজাত সত্যনিষ্ঠা ও অবিচল সততা। আসলে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু সহজাত বৈশিষ্ট্য থাকে। ঐ বৈশিষ্ট্যের আলোকেই তাঁর জীবনের সকল কিছু পরিচালিত হয়। ইমাম হোসাইন (আ) এর জীবনের বৈশিষ্ট্যও ছিল এরকম দৃঢ় সততায় সমৃদ্ধ। তার কারণ ইমাম হোসাইনের জীবনের যে মূল্যবোধগুলো ছিল,সেগুলো স্বয়ং রাসূলে খোদার আদর্শ ও শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত।

রাসূলের শিক্ষা মানেই হলো আল-কোরআনের শিক্ষা। আর আল-কোরআনের শিক্ষা হলো অনৈসলামি বা খোদাদ্রোহী শক্তির কাছে মাথানত না করা, শাহাদাৎকামিতা, নিজস্ব আদর্শকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। হোসাইনী আন্দোলনের মূল্যবোধগুলোকে দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। একটি ক্ষুদ্র, অপরটি বৃহত্তর মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধগুলোই ইমাম হোসাইনের আন্দোলনকে কালজয়ী স্থায়িত্ব বা চিরন্তন ঐশ্বর্য দিয়েছে। এইসব মূল্যবোধ ইমাম হোসাইনের মধ্যে যেমন ছিল তেমনি তাঁর সঙ্গী-সাথীদের মধ্যেও ছিল। ক্ষুদ্র মূল্যবোধগুলোর মধ্যে একটি হলো তাঁর সুদূরপ্রসারী ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী। সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী বলতে রূপকার্থে বলা যায় , ইমাম হোসাইন একটা ইটের মধ্যেও যা স্বাভাবিকভাবেই দেখতে পেতেন অন্যরা তা আয়নাতেও দেখতে পেত না। আমরা এখন সেইযুগের পরিস্থিতি বিশে-ষণ করছি অথচ সেইযুগের মানুষেরা ইমাম হোসাইন ইবনে আলী যেরকম বুঝতেন সেরকম বুঝতো না। হোসাইনী আন্দোলনের পেছনে ছিল একটা গভীর বোধ ও উপলব্ধি। এই বোধই তাঁর আন্দোলনকে মহান করে তুলেছে। এই উপলব্ধিটা হলো উমাইয়া শাসকরা যে খেলাফতির নেপথ্যে ইসলাম-বিরোধী কার্যকলাপ চালাতো, তা জনগণ প্রকাশ্যে দেখতে পেত না, কিন্তু ইমাম হোসাইন তাঁর দৃষ্টি প্রখরতার কারণে দেখতে পেতেন। ইমাম হোসাইন এযিদের ক্ষমতাসীন হবার কথা শুনে বলেছিলেন “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্যে এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবো ! হে ইসলাম বিদায় ! যখন উম্মতের জন্যে এযিদের মত ব্যক্তি নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়।” তাঁর এই উক্তি দূরদৃষ্টিরই পরিচায়ক, কেননা অন্যরা ইয়াযিদকে সেভাবে চিনতে পারে নি, যেভাবে চিনতে পেরেছিলেন ইমাম। সমকালীন জনগণের উপলব্ধিগত দুর্বলতা, তাঁদের স্থূলদৃষ্টি , এবং বিস্মৃতি ইমাম হোসাইনের শাহাদাৎলাভের একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ।”

উমাইয়াদের প্রতি জনগণের সমর্থনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তাদের অজ্ঞতা বা মূর্খতা। ইমাম হোসাইন ইয়াযিদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতেন না। কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা ছিল এর অনেক উর্ধ্বে । কিন্তু ইয়াযিদের সাথে যে সংঘর্ষ তাঁর বেধেছিল তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিলো ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনেক উর্ধ্বে। তাঁর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল সামগ্রিক এবং মৌলিক। বস্তুত তিনি ইয়াযিদের সাথে নয় বরং জুলুম নির্যাতন এবং অজ্ঞানতামূর্খতার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম করেছেন। কেননা ক্বাবা যেয়ারতকালে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা ও উপদেশ দিয়ে বলেছেন যে, এই সংগ্রামের লক্ষ্য হলো মূর্খতা এবং গোমরাহী দূর করা। ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের চেহলামের দোয়ায় যেমনটি রয়েছে-হে খোদা ! ইমাম হোসাইন তাঁর হৃদয়ের রক্ত তোমার পথে উৎসর্গ করে দিয়েছেন যাতে তোমার বান্দারা মূর্খতা এবং গোমরাহী থেকে মুক্তি পায়।”
সর্বোপরি বলা যায় জনগণের বিস্মৃতিই ইমাম হোসাইনের শাহাদাত ডেকে এনেছে। কেননা; জনগণ যদি তাদের বিগত পঞ্চাশ-ষাট বছরের ইতিহাসের দিকে তাকাতো, যদি সেই ইতিহাস নিয়ে খানিকটা ভাবতো এবং তাদের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাতো অর্থাৎ ঐ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতো, তাহলে হয়তো কারবালার ঐ মর্মান্তিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হতো না। দ্বিতীয় যে মূল্যবোধটি ইমাম হোসাইনের মধ্যে ছিল তা হলো বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস। বিজয় একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। সাময়িকভাবে কারবালায় ইমাম হোসাইন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন শাহাদাৎ লাভ করেছেন বটে। কিংবা তাঁদের শাহাদাতের ঘটনায় ইয়াযিদের পক্ষে যুদ্ধের ফলাফল গেছে বৈকি ! কিন্তু বৃহত্তর জয় ইমামেরই হয়েছে।
এখন কথা হলো এ বিজয় কোন্ ধরনের বিজয়। বিশে-ষকগণ এ বিজয় সম্পর্কে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কোনো আন্দোলন যদি আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভিত্তিক হয় এবং ঐ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে যদি আন্দোলনকারীরা নিশ্চিত হন, তাহলে সেই সংগ্রামে সামরিক বিজয় না হলেও আদর্শিক বিজয় ঘটে। এই বিজয় তাই সাময়িক নয় বরং সুদূরপ্রসারী। তাই যাঁরা আন্দোলন করেন, তাঁরা হয়তো এই বিজয় স্বচক্ষে নাও দেখতে পারেন, তবে তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম কিংবা দূর ভবিষ্যৎ যুগের প্রজন্ম অবশ্যই ঐ আদর্শিক বিজয় লাভ করেন। আর এ ধরনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদেরই বিজয় অর্জিত হয়। ইমাম হোসাইনের বিজয় এধরনেরই আদর্শিক বিজয় ছিল। অন্যদিকে যে-কোনো যুগেই কারো ওপর যদি আদর্শিক কোনো দায়িত্ব থাকে, এবং সেই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে গিয়ে যদি বাহ্যত পরাজয়ও পরিলক্ষিত হয়, তাহলে তা বিজয়। ইমাম হোসাইন (আ) যে আন্দোলন করেছেন, তা ছিল আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দাবী অনুযায়ী তাঁর ধর্মীয় ও ঈমানী দায়িত্ব। তিনি মক্কা থেকে কারবালা যাবার পথে বিভিন্ন ভাষণে সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, আমার যাত্রার উদ্দেশ্য হলো কপট উমাইয়া শাসকদের স্বরূপ উন্মাচন করা, অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা। আল-কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী মুহাম্মাদী দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করা ছাড়া আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। ইমাম হোসাইন (আ) এর এই আন্দোলনের আরো বহু তাৎপর্য রয়েছে। তিনি ছিলেন রাসূল পরিবারের সদস্য। ফলে তাঁর মর্যাদাও ছিল সর্বোন্নত। তিনি তো অন্য কোনো সাধারণ মানুষের মতো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সংগ্রামী পথ থেকে মৃত্যুর ভয়ে সরে যেতে পারেন না। তাঁর আন্দোলন বিপ্লবতুল্য হওয়াটাই ছিল সমীচীন। তিনি অন্যদের মতো ইসলামের নীতি আদর্শ ক্ষুনড়ব হতে দেখে চুপ করে থাকতে পারেন না। কারবালায় ইমাম হোসাইন মানুষকে এই ব্যক্তিত্ব এবং আত্মসম্মানবোধও শিক্ষা দিয়েছেন ।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তারই পথে আত্মনিবেদনে সর্বাবস্থায় দৃঢ় মনোবল থাকাটাও এই আন্দোলন থেকে শিক্ষণীয় আরেকটি মূল্যবোধ। আত্মত্যাগ, মহানুভবতা, ইসলামী সাম্য এবং আল্লাহর পথে জাগৃতির প্রেরণা প্রভৃতি দিকগুলো এই আন্দোলনের আরো কিছু মহান লক্ষ্য। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত আল-কোরআন প্রদত্ত মহান দায়িত্ব পালন, সংস্কারকামিতা, মুসলমানদের ইসলামী চেতনাকে চাঙ্গা করা, ইসলামের সার্বজনীনতাকে তুলে ধরা প্রভৃতি হোসাইনী আন্দোলনের বৃহত্তর মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আমি প্রবিত্র আশুরায় ইমাম হোসাইনের (আঃ) আত্বার মাগফেরাত কামনার মাধ্যমে আমাদের সকলের আত্বশুদ্ধির প্রার্থনা করছি।


নির্বাচন মানেই সংখ্যালঘু নির্যাতন ও কিছু হাহাকার

বেতাল বলেন | ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ ১১:৫৬ পুর্বাহ্ন


বাংলাদেশের জম্ম যদিও ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে জম্ম হয়েছিল, বাস্তবে এখন আর নেই।এরশাদ
সরকার উনার বাবার সম্পত্তির মতই একে মুসলিম দেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর জন্য তিনি নেননি
কোন জনসাধারণের মতামত। সাথে সাথেই বাংলাদেশের কপালে আরেকবার কালিমা লেপন করা হলো।
পর্যায়ক্রমিকভাবে সময় এগিয়ে গেলেও অসভ্যতার মায়াজাল আরো ঘনীভূত হয় বাংলাদেশে।

Religious Demography


২০০১ এর উপাত্ত অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ ছিল হিন্দু
ধর্মাবলম্নী। মোট জনসংখ্যার মাত্র নয় শতাংশ মানুষ যদি আঃ লীগে ভোটও দেয়, তাহলে কোন
ভাবেই আঃ লীগ জয়ী হতে পারেনা। এর মানে, এই হলো বাংলাদেশ সরকার গঠনে আঃ লীগকে ভোট
সংখ্যা গরিষ্ঠতায় আংশিক বা পূর্ণাংগভাবে জয়ী হতে হলে, অবশ্যই অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও
সহযোগী থাকতেই হবে।


কিন্তু, দূর্ভাগ্য হলেও সত্যি, ২০০১ সালে সবচেয়ে বেশি হেনস্থা হতে হয়েছিল একদল
মানুষদের যাদের ধর্ম ছিল হিন্দু। হত্যা, সম্পত্তি লুন্ঠন, অকথিত অত্যাচার ও গণধর্ষনের
মতো বেশ ভয়াবহ অপরাধ উঠে আসে কোন এক দল রাজনৈতিক দলগোষ্ঠির কর্মীদের সাহায্যে। তাদের
অপরাধ, তারা মালাউন। তারা আঃ লীগের ভোট ব্যাংক। ভোট যদি নাগরিক মৌলিক অধিকার হয়, তবে
আঃ লীগকে ভোট দেওয়াও কোন অপরাধ নয়। তবে, এর শাস্তি হিন্দুসহ সমস্ত সংখ্যালঘুদের কেন
দিতে হবে? মানবতা বিরোধী এই অসুস্থ মানসিকতার আসল হোতা কারা? তাদেরই বা কেন বিচার হলো
না? আপনার বা আমার কারো কিছু হয় নি বলে মুখে কলুপ এটে কতক্ষণ? নারকীয় অতি অল্প কিছু
সত্য দৃশ্য দেখুন,

October,<br />
2001. | PLACE: Gangni, Meherpur, Kushtia.

November<br />
18, 2003 | PLACE: Banskhali coast, Chittagong

April<br />
22, 2003 | PLACE: Chitalmari, Bagerhat.

October 10,<br />
2002. | PLACE: Keranigonj, Dhaka.

October,<br />
2001. | PLACE: Ramshil, Gopalgonj.

October 16,<br />
2001. | PLACE: Ramshil, Gopalgonj.

বিস্তারিত


বাংলাদেশের যেকোন রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুদের ও তাদের স্বার্থ সংক্রান্ত মুখ ভরা বুলি
থাকলেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। শুধু সংখ্যালঘু কেন, কতো সাধারণ
মানুষ হেনস্তা হয়েছেন। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যা লঘুদের জামাই আদরে রাখা হয়েছে।
আমি শুনি আর হাসি। সরকারী বড় কোন পোস্টে কতজন সংখ্যালঘু রয়েছে, বলুন তো? দেখাতে
পারবেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংখ্যালঘু কি কখনো প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন, বা
প্রেসিডেন্ট বা স্পিকার? আমাদের নিজেদের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশে এখনো
সংখ্যালঘু ভিত্তিক কোন উগ্র সম্প্রদায়ের উথ্থান ঘটেনি। ভুলে গেলে চলবে না, সময়ের সাথে
সাথে অত্যাচারিত মানুষদের ভাষা প্রতিবাদ কঠোর হয়ে আসে। ভৌগলিক দিক থেকে বিবেচনা করলে
বাংলাদেশের প্রায় সব অংশই ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত। নিজামীর ভাষায়, “বাংলাদেশ ভারতের
তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত চলেছে” লিংকটা দাও। সঠিকভাবে নির্বাচনপূর্ব ও
পরবর্তি সময়গুলো সংখ্যালঘু ও সবার মানবাধিকার সঠিকভাবে পালন না করলে, আমাদের অনেক বেশি
মূল্য দিতে হতে পারে।

একগাদা
মানুষের অভিশাপ হাহাকার হয়ে পিছু লাগবে।


সুখের রুপটা কেমন? কি-ই বা তার উৎস

মাহমুদ রহমান | ২০ নভেম্বর ২০০৮ ১১:২৭ পুর্বাহ্ন

সুখ শব্দটা কি পজিটিভ? সুখের আবহে যারা বাস করেন তারা কি স্বার্থপর? এটা যদি নেগেটিভ শব্দ হয়, তবে এর বিপরীতে কোন্ শব্দটি বেশি মানায়?

সুখ মাপার কোন ম্যাকানিজম আছে কি? .. বিস্তারিত…


নোয়াখালীর কৃতি সন্তান রামেন্দু মজুমদার দ্বিতীয় এশিয়ান হিসাবে বিশ্ব নাট্যসভার সভাপতি নির্বাচিত

ডিজিটাল বাংলাদেশ | ১৭ নভেম্বর ২০০৮ ১১:৫৭ পুর্বাহ্ন

নোয়াখালীর কৃতি সন্তান রামেন্দু মজুমদার দ্বিতীয় এশিয়ান হিসাবে বিশ্ব নাট্যসভার সভাপতি নির্বাচিত
বাংলাদেশের জাতীয় সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব, বৃহত্তর নোয়াখালীর লক্ষীপুর জেলার কৃতি সন্তান রামেন্দু মজুমদার সমপ্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ করেছেন। তিনি বিশ্বনাট্য সভা- ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউশনের (আই টি আই ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। গত ২২সেপ্টেম্বর-২৭ সেপ্টেম্বর স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত আই টি আই’র ৩২তম বিশ্ব কংগ্রেসে তিনি এ পদ লাভ করেছেন। প্রতি দু’বছর অন্তর আই টি আই’র বিশ্ব কংগ্রেস তথা বিশ্বনাট্যজনের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। রামেন্দু মজুমদারের আগে বাংলাদেশের কোন শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী, সংগঠকের জন্য এর চেয়ে বড় কোন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বা সম্মান আসেনি। তিনি আই টি আইতে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সভাপতি হিসেবে ২য় জন। এর পূর্বে কোরিয়ার কিন নাম সভাপতি ছিলেন। ৩২তম বিশ্ব কংগ্রেসের সভাপতি (জার্মানী) নিজ থেকে সভাপতি পদে রামেন্দু মজুমদারের নাম প্রস্তাব করেন। বিস্তারিত


বারাক হোসেন ওবামা

লিঙ্কন | ৬ নভেম্বর ২০০৮ ৭:১৪ অপরাহ্ন

“বারাক হোসেন ওবামা” ‘বারাক ওবামা’, ‘ওবামা’, ‘ওবামা’ - গত ক’দিন এই একটা নাম এতো বেশি আলোচিত হয়েছে!! ‘বিডিনিউজ২৪.কম বাংলাব্লগ’ এর জন্মলগ্ন সমসাময়িক হওয়ায় এই ব্লগ যতটা কভারেজ পাওয়ার কথা, ঠিক সেটা পায়নি যেন। আমি বিশ্ব শান্তি-সমৃদ্ধিতে ‘বারাক ওবামা’ এবং বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির সুস্থ্য-সুন্দর বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে ‘বিডিনিউজ২৪.কম বাংলাব্লগ’ -এর সাফল্য কামনা করি।


হৃদয় নিকুঞ্জে…১

faysal | ৬ নভেম্বর ২০০৮ ১২:৫২ অপরাহ্ন

সিদুর মেঘের মত সুন্দর দেহতনু
স্নিগ্ধ ঠোট, মিষ্টি হাসি
নীলাভ নয়নে হরিনীর করুন চাহনিতে
আমাকে বিদ্ধ করে ছিনিয়ে নিয়েছো
মোর অন্তর।

স্বপ্নের আস্পরা সেজে অচেতন হিয়া নিয়ে
আমার ক্ষুদ্র জীবনের পথ গতিরোধ করে
পথহারা পথিক বানিয়েছো
তোমার ঐ রুপের ঝংকারে
হে প্রিয়া আমার !


সংক্ষিপ্ত সংলাপ - ৬৭ (মশারী টানাবে কে!)

সুখীমানুষ | ৬ নভেম্বর ২০০৮ ১২:৩৯ অপরাহ্ন

: চল্ বিয়ে করি
: শর্ত আছে
: রাজি আছি
: মশারী টানাতে হবে
: না না, রাজী নই তবে ;)
: তবে বিবাহ বাতিল
: অন্য শর্ত বল্
: আর যা আছে তা শর্তে হবার নয়…. বিস্তারিত…