bdnews24.com banglablog

রাজনীতি

আমরা কোথায় আছি!!!

বাহারুল ইসলাম | ১৬ এপ্রিল ২০০৯ ৬:২৬ অপরাহ্ন

বিগত ৩ মাসে বাংলাদেশের উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তা মনে হয় স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় ঝড়। এই ঝড়কে মোকাবেলা করার সামর্থ কি সরকারের নাই নাকি সরকারের মোকাবেলা করার স্বদ ইচ্ছা নাই। বাংলাদেশের সাধারন জনগন এই দুইটার একটা উত্তর বেছে নেবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারন জনগনের চিন্তা চেতনা অন্য দিকে ঘুরে গেছে না ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে তা আমি নিজেই বুজতে পারচি না। গত বুধবার (০৮/০৪/২০০৯) নাগাদ যেখানে সবার চিন্তা ছিলো পিলখানার হত্যাকান্ড, বসুন্ধরা সিটির অগ্নিকান্ড, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ত্রলীগের সংঘর্ষ, যুদ্ধ-অপরাধ ইস্যু ইত্যাদি কিন্তু এখন মানুষের চিন্তা- চেতনা অন্য দিকে ঘুরে গেছে না ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা চিন্তা করছে খালেদা জিয়া কি শেষ পর্যন্ত তার সেনানিবাসের বাড়ী ছাড়ছে নাকি ছাড়ছে না। আপনারা এখন একটু চিন্তা করে দেখুনতো আমাদের এখন মনে কোন ঘটনার উত্তর চাচ্ছে?

দেশ এখন কোন দিকে যাচ্ছ আমি নিজেই বুজতে পারছি না। পিলখানার ঘটনা হয়েছে প্রায় ৪৫ দিন আগে আজ পর্যন্ত তার তদন্তই শেষ হলো না। আরও ৩০ কার্য দিবস বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে তদন্ত কাজ। তার মানে আরো ৪৫ দিন। এদিকে বসুন্ধরার অগ্নিকান্ডের ঘটনাতো আমরা ভুলেই গেছি। সরকার কি তাহলে জনগনের চিন্তা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে চাচ্ছেন নাকি তারা দেশ পরিচালনা করতে হিমসিম খাচ্ছে। কোনটা সঠিক? তবে এটা বলা যায় বিগত ৩ মাসে বহিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি দারুন ভাবে খুন্ন হয়েছে। আমি মনে করি সরকার সকল মনযোগ জংগিবাদের দিকে দিতে গিয়ে এখন গোলক ধাধার ভিতর পড়ে গেছে।

খলেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ী ইস্যু নিয়ে বিএনপি কি আন্দলনের দিকে যাবে? আর সরকার কি যে কোন মুল্যে তা প্রটেক্ট করবে? তবে দেশ কি একটা অস্থিতিশীল পরিবেশের দিকে যাচ্ছে!!!!!!!!!!!!!!!!!!


স্বাধীনতার ঘোষক কে? আর কত দিন?

বাহারুল ইসলাম | ২২ মার্চ ২০০৯ ১:৩৩ অপরাহ্ন

আর কত দিন এই বিতর্ক যে স্বাধীনতার ঘোষক কে? আমরা আর সইতে পারছি না। এই বিতর্ক শুনতে শুনতে কান ঝালা পালা হয়ে গেল। এই বিতর্ক কি প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকবে? এর কি কোন শেষ হবে না? নাকি এরই নাম রাজনীতি। এই একটি বাক্যের উপর ভর করেই কি আমাদের দেশ চলবে? আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কি এটাই পুজি? হয়তোবা রাজনীতিতে আসবেন জিয়া পুত্র তারেক রহমান ও হাসিনা পুত্র জয়। তারাও কি এটাকে পুজি করে রাজনীতি করবেন? এ সকল প্রশ্নের কোন উত্তর আমি খুজে পাই না।

কে স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন এটা বড় কথা নয়। আমরা একটা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি এতাই বড় কথা। এ স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে বেশী অবদান আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রাহমান ও মেজর জিয়াউর রাহমানের এ কথা সবাই জানে। আরও অবদান আছে লাখ শহীদের রক্ত। এতো রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন বাংলাদেশ এটাই এখন মুল বিষয়। বাংলার জনসাধারন যে ইতিহাস জানে সেটা হলো মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধিনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন।

বর্তমান বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তোলপাড়, যখন তারা তাদের সমস্ত মনজোগ দিচ্ছে কিভাবে তারা তাদের অর্থনীতিকে আবার পুনরুদ্ধার করবে তখন আমরা আমাদের সংসদে বিতর্কে ব্যস্ত কে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল!
তাহলে আমাদের দেশ কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে? যখন মালয়েসিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক প্রতিদিন ফিরে আসছে, তখন আমরা ব্যস্ত আমাদের দেশ চলার কেন্দ্র বিন্দু সংসদে বিতর্কে কে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল?

আমি মনে করি কে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল তা নিয়ে বিতর্ক না করে আমরা আমাদের দেশকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেইদিকে মনজোগ দেয়া। এখেত্ত্রে এক দল আর এক দলকে কিছুটা ছাড় দেয়ার মন মানুসিকতা থাকতে হবে।

আমরা চাই একটি সম্ম্রিদ্ধ বাংলাদেশ।


পেপারের কাজ পেপার করেছে

Naznin Nahar | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১:৩৯ অপরাহ্ন

পেপারের কাজ পেপার করেছে
ছাত্রলীগের ভুলটা ধরেছে।
ছাত্ররা সব গুন্ডারাজ
রাজনীতিতে ধlন্দlবাজ,
রাজনীতির নামে দুর্নীতি করে
বন্দুক নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে।
এটাইতো পেপারে এসেছে,
জণগন তা পড়ে ফেলেছে।
এতে সরকারের কি যায় আসে,
দেশটা যে মোদের এভাবেই চলছে!


শীতার্ত মানুষের বাঁচার লড়াইয়ে সামিল হোন!

Arshad Ali | ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:১১ পুর্বাহ্ন

প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) একটি বিপ্লবি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৯৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বষের্র একদল তরুন স্বেচ্ছাসেবায় উদ্যোগী হয়ে গড়ে তোলে প্রপদ। তারুন্যের সেই অগ্রযাত্রা শুধু ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, কুমিল্লা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, জকিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যাতর্দের পাশে এরা দাঁড়িয়েছে সহযোগীতা ও মুক্তির গান নিয়ে। সাধারণ জনগণের সাথে নীরব যোগাযোগ প্রতিষ্টা, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ ও সমাধানের উপায় অনুসন্ধানে প্রপদ সবর্দাই নিবেদিত। দুগর্তদের মাঝে যাওয়া, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ করে স্থায়ী সমাধানের উপায় অনুসন্ধান, মানুষের দুঃখ কষ্ট কাছাকাছি থেকে পযর্বেক্ষণ করার এই ধারাবাহিক পথ পরিক্রমায় গড়ে উঠেছে সচেতন চিন্তা, সংগ্রামী পথযাত্রা। তারুণ্যের সেই স্বেচ্ছসেবা নিজস্ব গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রুপান্তরিত হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রম ও সংগ্রামে। গড়ে উঠেছে নাটকের দল, গানের দল, প্রকাশনা। যা কথা বলে দেশ, জাতি ও এদেশের সাধারণ মানুষের। জনগণকে সংগঠিত করে তার সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানায় প্রপদ। প্রপদ এর কাযর্ক্রমের ধারাবাহিকতায় এখন চলছে ১৩তম শীতার্ত সহযোগীতা কাযর্ক্রম। স্বেচ্ছাশ্রমিক আহবান, গণঁচাদা সংগ্রহ, পুরাতন বস্ত্র সংগ্রহ, প্রচার ও বিতরণ চলছে। প্রচার ও সংগ্রহের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দুটি টিম। সংগ্রহের পরের আসে বিতরনের কাজ। শীত দুর্গত এলাকায় গিয়ে ঘরে ঘরে জরিপ চালিয়ে ভুক্তভোগীর তালিকা তৈরি এবং মতবিনিময় করা হয়। প্রচারণার টিম প্রচারণার কাজ করে-গায় গণসঙ্গীত, মঞ্চস্থ হয় নাটক, যেখানে ফুটে ওঠে জনগণের মুক্তির সংগ্রামে সংগঠিত হোয়ার আহবান। সবশেষে হয় বিতরণ। যেকোনো প্রভাবমুক্ত থেকে পুরো কাজটি সমন্বয়ের জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় টিম। শীত বস্ত্র বেশীরভাগই বিতরণ হয় উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের মাঝে। প্রপদ এর প্রত্যেকটি কাজেই থাকে ছেলেদের সমান অংশগ্রহণ। ১৯৯৩-এ শুরু হোয়া তারুণ্যের সেই পথচলা আজ পৌঁছে গেছে ব্যাপক জনগণের মাঝে। যা এই এক সময় মুক্তির মিছিলে রূপ নেবে এই প্রত্যাশাই করে প্রগিতর পরিব্রাজক দল (প্রপদ)। প্রপদ এর যেকোন কাজে অংশগ্রহণসহ সহযোগীতার জন্য যোগাযোগ করুন
প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ)
কেন্দ্রীয় কার্যালয়
ডাকসু ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল-propod_ppd@yahoo.com
মেবাইলঃ ঢাকা-০১৭১৮৯০৫০৬০
সিলেট- ০১৭২৩৬৯৮২৪৬
চট্টগ্রাম- ০১৭১৮১৩৪০১৮
রংপুর-০১৭২৭৬৬১১২৯
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়-০১৯১৬৩৩৭৯৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ০১৯২১৬৩৮৫৪৫
শাবিপ্রবি, সিলেট-০১৭১৪৩৩০৫৩০
নিলফামারী-০১৯২২১২৮৫৫২
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)-০১৯১৮৫৫৪০৬১
হবিগঞ্জ-০১৭২৪০৫৯৭৯২
কুমিল্লা-০১৭১৭৭৪০১০৬


পবিত্র কোরান ও বিশ্বের চিন্তাবিদমহল

ফখরুল ইসলাম | ২৩ জানুয়ারি ২০০৯ ৮:১৮ পুর্বাহ্ন

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন। এই মহাগ্রন্থ ইসলামের বিশ্বজনীনতা ও চিরস্থায়ীত্বের অন্যতম প্রমাণ। খোদায়ী এই গ্রন্থ অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং তা সত্যপিপাসু মানব সমাজকে বিভ্রান্তি ও অধঃপতন থেকে রক্ষা করছে। পবিত্র কোরআনের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক হলো এই ঐশী গ্রন্থ মানবজাতির জন্য সুপথ দেখানোর ও তাদেরকে পরিচালনার বা নেতৃত্ব দেয়ার গ্যারান্টি দেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন বা কথা বলেছেন। তাই সবচেয়ে সঠিক পথের নির্দেশনা পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনে। সূরা আনফালের ২৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের নবজীবন দান করে। জেনে রাখ আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অবস্থান করেন।”
পৃথিবী যখন অজ্ঞতা, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কুসংস্কার ও বলদর্পীদের অত্যাচার এবং লুন্ঠন বা শোষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তখন ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের আলো ইসলামে দীক্ষিত মানুষের মধ্যে বিস্ময়কর পরিবর্তন আনে। ফলে অজ্ঞতা ও পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানুষগুলো স্বর্গীয় গুণাবলীতে বিভূষিত হলো। তাদের মধ্যে বিকশিত হয় মানবিকতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং নৈতিকতা। সংকীর্ণমনা এক শ্রেণীর মানুষ বিশ্ব সভ্যতায় পবিত্র কোরআনের অসাধারণ অবদানকে উপেক্ষা করলেও জাগ্রত বিবেকের অধিকারী অনেক অমুসলিম মনীষীও পবিত্র কোরআন ও ইসলামের কাছে বিশ্বসমাজের ঋণের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। সুইডেনের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ইসলাম বিষয়ের গবেষক অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে বলেছেন, মানুষের ওপর পবিত্র কোরআনের ও এর সাহিত্যের গভীর প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। পবিত্র কোরআন বেদুইন জাতিগুলোর মধ্যে স্নেহ-ভালবাসা ও বন্ধুত্বের চেতনা প্রজ্জ্বলিত করেছে। পবিত্র কোরআন মানুষের মধ্যে এখনও এ ধরনের প্রভাব রাখছে। পবিত্র কোরআনের শব্দগুলো অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও ব্যাপক ভাবযুক্ত। তাই এ ঐশীগ্রন্থের সাহিত্যিক শক্তিমত্তা বা প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে আরো বলেছেন, আমরা বর্তমানে এমন এক বিশ্বে বসবাস করছি যে বিশ্ব পুরোটাই আমাদের স্বদেশের মতো। আর ইসলাম এই স্বদেশেরই একটি অংশ। তাই ইসলাম ও পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত চিন্তাগত আদর্শকে উপেক্ষা করা যায় না। বর্তমানে পাশ্চাত্যে ইসলামের ওপর হাজার হাজার বই ও প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে। আর এ থেকেই পাশ্চাত্যে ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের উপস্থিতি বা প্রভাব আঁচ করা যায়। পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামিক স্টাডিজ বা ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভাগের অস্তিত্বও এর অন্যতম প্রমাণ । তাই ইউরোপের জন্য পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পবিত্র কোরআন সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ইউরোপ ও পাশ্চাত্যের জনগণের কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমা চিন্তাবিদদের কাছে গবেষণার বিষয় হিসেবে পবিত্র কোরআন আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এবং তারা পবিত্র কোরআনের অর্থ জানার জন্য বা এ মহাগ্রন্থকে আরো ভালোভাবে বোঝার জন্যে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অবশ্য পাশ্চাত্যে এক শ্রেণীর অসহিষ্ণু প্রকৃতির মানুষ মহান আল্লাহর এ নিদর্শনকে তুচ্ছ বা খাটো কোরে দেখানোর চেষ্টা করছে। পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত জ্ঞানের আলো পশ্চিমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক এটা তারা চায় না।

ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মানুষের জীবনের সব দিকের জন্য পথ-নির্দেশনা দেয়। মানুষ বা মানবরচিত আদর্শগুলো এ পর্যন্ত কখনও মানুষের জন্য সামগ্রীক ও নির্ভুল জীবন বিধান উপহার দিতে পারে নি এবং মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞানের কারণে তা কখনও সম্ভব নয়। তাই দেখা যায় দর্শন বা চিন্তাগত শাস্ত্রগুলোর বিভিন্ন তত্ত্ব কিছু দিন পরই বদলে যায় এবং আগের চেয়ে উন্নত তত্ত্ব এর স্থান দখল করে। কারণ, এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে যত আলোচনা ও গবেষণা হয় ততই সেসব স্পষ্টতর হয়ে ওঠে। কিন্তু সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআনের বাণীগুলো কখনও পুরনো বা সেকেলে হয় না, বরং মানুষের জ্ঞান যতই বাড়ছে পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে ততই তারা নতুন নতুন বাস্তবতা জানতে পারছে।

পবিত্র কোরআনের আহ্বান বা বাণীগুলোর রয়েছে পরিকল্পিত লক্ষ্য। এতে রয়েছে সব ক’টি জরুরী বিষয়ের আলোচনা। আল্লাহর পরিচিতি, সৃষ্টিজগত ও পরকাল বা পুনরুত্থান, পৃথিবী ও বিশ্বজগত বা নভোমন্ডল, অতীতের নবী-রাসূল ও জাতিগুলোর ইতিহাস, নৈতিকতা, পরিবারের অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, সমাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে এই কোরআন মানুষের জন্যে মৌলিক শিক্ষার আধার।

বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, কোরআন বীজগণিত কিংবা জ্যামিতি বা গণিতের বই নয়, বরং এ গ্রন্থে রয়েছে এমনসব বিধান যা মানুষকে সুপথ বা সত্যের পথে পরিচালিত করে, এই পথ হচ্ছে এমন পথ, যা নির্ধারণ করা ও যার সংজ্ঞা দেয়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
জার্মানীর বিশিষ্ট প্রাচ্যবিশারদ জোসেফ হুরডোউইচ পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরআন তার শিক্ষার মাধ্যমে মুসলমানদের চিন্তার মান বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর ভূমিকা রেখেছে, আর এ জন্যেই মুসলমানরা আমাদের আগেই চিন্তা-গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের তৎপরতা শুরু করেছে।
যারা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে এ ঐশীগ্রন্থ মানুষকে মুক্তির পথ দেখায়।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ সিদুউয়ার মতে পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য হলো মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া এবং মিথ্যার প্রতিরোধ করা। অন্যকথায় মানুষকে অজ্ঞতার আঁধার থেকে উন্নত মানবীয় চরিত্র ও আলোর দিকে পরিচালিত করা এ মহাগ্রন্থের উদ্দেশ্য।

মার্কিন চিন্তাবিদ লুমান্স পবিত্র কোরআনের আলো ও সৌন্দর্যকে বিস্ময়কর ও দৃষ্টান্তমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার প্রথম স্ফুলিঙ্গ হলো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম যার মধ্যে রয়েছে অর্থ ও তাৎপর্যের এক বিশাল জগত।

আলেম বা ধর্ম-বিশেষজ্ঞদের মতে পবিত্র কোরআন অন্য সব মোজেজার চেয়ে বড় মোজেজা। আর এ জন্যেই পবিত্র কোরআন বিবেকবান মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি গ্যাটে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে লিখেছেন, কোরআন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। প্রথমদিকে এর বাণীকে সহজ মনে হয় না, কিন্তু পাঠক খুব শিগগিরই নিজের অজান্তেই কোরআনের অসীম সৌন্দর্যে অভিভুত ও বিমুগ্ধ হয়। বহু বছর ধরে খৃষ্টান ধর্মযাজক বা পাদ্রীরা পবিত্র কোরআনের বাস্তবতা বা সত্যতা ও এর মহত্ত্ব উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু আমরা যতই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে অগ্রসর হচ্ছি এবং সংকীর্ণতা বা বিদ্বেষের পর্দা সরাচ্ছি ততই পবিত্র কোরআনের বিধানগুলোর মহত্ত্ব আমাদের মধ্যে অদ্ভুত বিস্ময় জাগাচ্ছে। অবর্ণনীয় এই গ্রন্থ শিগগিরই মানুষের চিন্তার মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে। পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য মহান, অর্থ গভীর এবং এর ভিত্তি বা যুক্তি এতো সুদৃঢ় যে প্রতি মুহূর্তে এর মহত্ত্ব আরো প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে।

পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিখ্যাত দার্শনিক ও মুফাসসির আল্লামা তাবাতাবায়ি লিখেছেন, পবিত্র কোরআনের অলংকারিক সৌন্দর্য বা বাগ্মীতা ও প্রজ্ঞা এক বড় মোজেজা। জ্ঞানীদের জন্য কোরআন যেন এক অলৌকিক সম্পদ-ভান্ডার এবং আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আধার। এই বইয়ে রয়েছে নীতিনির্ধারক বা রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে নবীন ও নজিরবিহীন নীতি । সংক্ষেপে বলা যায় পবিত্র কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এমনসব বাস্তবতা বা রহস্যের আকর যে বাস্তবতাগুলো মানুষ কোরআন ছাড়া কখনও উদঘাটন করতে পারে না। আর এ জন্যই পবিত্র কোরআন এক বিস্ময়কর মোজেজা বা অলৌকিক গ্রন্থ।

বিখ্যাত আলেম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী লিখেছেন, মোজেজা বা অলৌকিক বিষয় দু রকমঃ ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য ও চিন্তাগত । অতীতের নবীগণের জন্যে ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য মোজেজা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ইসলামের নবী বা সর্বশেষ রাসূল(সাঃ)কে দেয়া হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক বা চিন্তাগত মোজেজা। আর এ জন্যেই তা অমর ও চিরস্থায়ী। সবশেষে বলা যায় পবিত্র কোরআন সূক্ষ্ম, সমৃদ্ধ ও সামগ্রীক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে মানুষের সমস্ত আধ্যাত্মিক এবং মানসিক চাহিদাসহ মানুষের সমস্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এ জন্যেই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, কোরআন এমন এক সম্পদ যা ছাড়া মানুষ শক্তিহীন, আর এই সম্পদ থাকলে মানুষের কোনো কিছুরই অভাব বা দারিদ্র থাকে না।


প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।

ফখরুল ইসলাম | ১১ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২৩ পুর্বাহ্ন

আজ আমার সামনে একজন প্রতিবন্ধীকে তিরস্কার করতে দেখে মনে খুব ব্যাথা পেলাম।আরো বেশী দুঃখ পেলাম প্রতিবন্ধি লোকটির পরিচিত একজনের কাছে তার অতিত জীবনের গল্প শুনে। সে একসময় প্রতিবন্ধি ছিলনা,ভাল থাকা অবস্থায় এ লোক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধিকে তিরস্কার ও তাচ্ছিল্য করত। একদিন তার এলাকার ব্রেইন প্রতিবন্ধি আলম নামে এক লোককে তিরস্কার করার সময় আলম তাকে চায়ের দোকানের আধা পোড়া লাড়কি দিয়ে আঘাত করে, লোকটি বিলম্ব না করে আলমকে প্রচন্ড ভাবে মেরে রক্তাক্ত করে। আলম নাকি সেদিন সারাদিন কান্নাকাটি করেছে, কেউ তাকে সান্তনা দিতে পারেনি, বরং সান্তনা দিতে চাইলে আর ও বেশী কাদত, এ ভাবে একবার সেজদায় পড়ত আরেকবার বুক থাপড়াত সেই সাথে অভিশাপের বানীত ছিল। বেশীদিন যায়নি মাত্র আট মাসের মধ্যে
প্রহারকারী লোকটি পাগল হয়ে গেল। আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা কানে শোনে না, চোখে দেখে না, কথা বলতে পারে না এসব শারীরিক সমস্যার কারণে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। পাশাপাশি কিছু দুষ্ট লোক আছে যারা এসব শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাথে নানাভাবে ঠাট্টা মশকরা করে কিংবা তাদের কষ্ট দেয়। যারা এসব অপকর্ম করে তাদের পরিণতি কক্ষনো ভাল হয় না। এ সম্পর্কে একটি গল্প উপস্থাপন করছি, গল্পটি এইরকম
এক দেশে সালমান নামে এক বৃদ্ধ মুদি বাস করতো। সে কানে খুব কম শুনতো। কানের কাছে গিয়ে খুব জোরে কথা বললেই সে শুনতে পেতো। এজন্য লোকজন তাকে কালা সালমান বলে ডাকতো। সালমানের পাশে মহল্লায় শাবান নামে এক যুবক বাস করতো। শাবানের একটা বদ অভ্যাস ছিল। সে দোকানদারদের কাছ থেকে বাকীতে জিনিস কিনতো কিন্তু টাকা দেয়ার বেলায় ফাঁকি দিতো। তাই দোকানীরা তার কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করতো না। একদিন শাবান এলো সালমানের দোকানে । সে কিছু জিনিস বাকীতে নিতে চাইল। বৃদ্ধ সালমান জানতো যে, শাবানকে একবার বাকী দিলে সে টাকা আর পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে শাবানকে বলল, আমি বাপু লেখাপড়া জানিনে, বুড়ো মানুষ তাই মনেও রাখতে পারিনে। তাই বাকীতে কোন কিছু বিক্রি করবো না। একথা শুনে শাবানের খুব রাগ হলো। এরপর থেকে সে সব সময় কালা সালমানকে বিরক্ত ও ঠাট্টা মশকরা করতো। সে তার বখাটে বন্ধুদের বলতো, যা, সালমানের সামনে গিয়ে শব্দ না করে শুধু ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বল। শাবানের দুষ্ট বন্ধুরা যখন বুড়ো সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো তখন সে শুনতে না পেরে বলে উঠতো, তোমরা কি চাও, একটু জোরে বল । তখন শাবান এগিয়ে গিয়ে জোরে বলতো, চাচা তুমি বধির নাকি ? আমার বন্ধুরা তো তরকারি চাচ্ছে। শাবানের কথায় তার বন্ধুরা হেসে উঠতো। সালমান এতে বিরুক্ত হয়ে বলতো , আমার কাছে তরকারী নেই। এটা তরকারির দোকান নয়, মুদির দোকান।শাবানের বখাটে বন্ধুরা বৃদ্ধের কথায় আবারো হাসিতে ফেটে পড়তো।পরদিন শাবান ও তার বন্ধুরা আবারো যেতো সালমানের দোকানে। তাদের একজন সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো। সালমান কিছুই শুনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলে শাবান এগিয়ে যেতো এবং বলতো,
চাচা তুমি কি কালা ? আমার এ বন্ধু দুই গজ কাপড় চাচ্ছে। শাবানের কথায় বন্ধুরা হেসে উঠতো। অন্যদিকে বৃদ্ধ মুদি বিরক্ত হতো।

একদিন শাবানকে একা পেয়ে বৃদ্ধি মুদি বললো, দেখ্‌ শাবান! তুই ভাল করেই জানিস যে আমি কানে কম শুনি। কিন্তু তারপরও তুই আমাকে অযথায় কষ্ট দিচ্ছিস কেন ? এই যে আমি কম শুনতে পাই,এটা আমার একটা রোগ। এতে আমার অপরাধ কি দেখলি ? মনে রাখবি, এভাবে মানুষকে অযথা কষ্ট দিলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।বৃদ্ধের কথা শুনে শাবান বললো, ঠিকাছে তোমাকে আর কষ্ট দেবো না যদি আমাকে বাকীতে মাল দাও ।শাবানের চালাকী বুঝতে পেরে সালমান বললো, না, কক্ষনো তোকে বাকীতে মাল দেবো না। এরপর শাবান বললো, তাহলে আমিও তোমাকে বিরক্ত করতেই থাকবো।শাবানের কথা শুনে বৃদ্ধ সালমান খুব দুঃখ পেল। এরপর বললো, তুই আমার মত বুড়ো মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছিস একদিন দেখবি তোরও এ রকম অবস্থা হয়েছে।
এ ঘটনার কিছুদিন পরের কথা। একদিন শাবান টের পেল, তার কানে কি যেন হয়েছে। সে সবকিছু ভালভাবে শুনতে পাচ্ছে না। একদিন সে তার পরিচিত লোকের সাথে আলাপ করার সময় কথাবার্তা না শুনেই সে উল্টো জবাব দিয়ে দিলো। এতে ঐ লোকটি হেসে উঠলো এবং বলল, কিরে তুই কালা হয়ে গেলি নাকি ? শাবান এ কথা শুনে খুব কষ্ট পেল। এরপর থেকে সে কারো সাথে কথাবার্তা বলার সময় সমস্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতো যাতে সঠিক জবাব দিতে পারে এবং উপহাসের পাত্র না হয়। কিন্তু শাবান যতই চেষ্টা করতে লাগলো ততই তার কান ভারী হয়ে এলো। দেখতে দেখতে সে সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেলো।বধির হয়ে গেলেও সে মানুষকে তা বুঝতে দিতো না।
একদিন সে জানতে পারলো যে, পাশের মহল্লার এক কসাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই তাকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কসাইয়ের বাড়ীর উদ্দেশ্যে যেতে যেতে সে ভাবলো, রোগী দেখতে গিয়ে প্রথমে সালাম দেবো। সে সালামের জবাব দিলে জানতে চাইবো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ? সে হয়তো বলবে, স্যূপ, বনরুটি কিংবা অন্যকিছু খাচ্ছি। আমি বলবো, খুব ভাল ব্যবস্থা। এটাই তোমার উপযুক্ত পথ্য। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার অবস্থা এখন কেমন ? সে নিশ্চয়ই জবাব দেবে, কিছুটা ভালোর দিকে। আমি তখন বলবো, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার ডাক্তার কে ? তখন সে নিশ্চয়ই কোন ডাক্তারের নাম বলবে । আমি তখন বলবো, তিনি তো খুব ভাল ডাক্তার। এ ঘরে তার শুভাগমন হোক। এরপর খোদাহাফেজ বলে চলে আসবো । ব্যস, খুব সোজা কাজ।
বধির শাবান এসব প্রশ্ন-উত্তর মনে মনে তৈরি করে পৌছে গেল কসাইয়ের বাড়ীতে । রোগীর ঘরে প্রবেশ করেই সালাম বিনিময় করলো। রোগীর অবস্থা তখন খুব খারাপ যাচ্ছিল। শাবান তার হাত দিয়ে রোগীর বাহু ধরে জিজ্ঞেস করলো, তোমার অবস্থা কেমন ভাই, কিছুটা ভাল হয়েছে ?
রোগী গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে বললো, না বাবা, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একেবারে মরে যাচ্ছি।
শাবান বলল : আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহর বহুত শুকরিয়া ।
রোগী শাবানের কথা শুনে বিরক্ত বোধ করলো। রোগীর পাশে যারা ছিল তারাও বিষ্মিত হয়ে গেল। এরপর শাবান জিজ্ঞেস করলো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ?
রোগীর মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি হয়ে গিয়েছিল। তাই সে জবাব দিলো, যন্ত্রণা খাচ্ছি, মরণ খাচ্ছি, সাপের বিষ খাচ্ছি।
শাবান বলল : খুব ভাল পথ্য । তোমার মতো রোগীর জন্য এসবই উত্তম।
শাবানের কথা শুনে রোগীর মেজাজ আরো বিগড়ে গেল। রোগীর এক আত্মীয় বললো, এই ব্যাটা, এসব কি যা-তা বকছিস ? রোগীর সাথে তোর কোন শত্রুতা আছে নাকি ?
শাবান লোকটির কথা কিছুই বুঝতে পারলো না। তাই জবাবও দিলো না। কিছুক্ষণ পর সে আবারো রোগীকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার ডাক্তার কে ভাই ?
রোগী রেগে গিয়ে বলল : আজরাইল, আজরাইল আমার ডাক্তার।
শাবান বলল, বেশ ভাল ডাক্তার। এ বাড়ীতে তার আগমন শুভ হোক। তার মতো ডাক্তারই হয় না।
শাবানের কথা শুনে রোগী চেঁচিয়ে ওঠে বললো, এ ব্যাটাকে এখান থেকে ঘাড় ধরে বের করে দাও। এই আহম্মক আমাকে নিয়ে তামাশা শুরু করেছে।
ঘরের লোকজন শাবানের হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে এলো এবং বললো, ব্যাটা তুই আস্ত একটা বদমাশ। রোগী তোর সাথে কি দুশমনি করেছে যে তার সাথে এরকম করছিস ? রোগীর একজন আত্মীয় এসে শাবানকে ধাক্কা মেরে রাস্তার দিকে ঠেলে দিলো। আরেকজন তেড়ে গেল তাকে মারতে। সবার মারমুখী অবস্থা দেখে শাবান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সে চিৎকার করে বলে উঠলো, তোমরা আমাকে মারতে চাচ্ছো কেন ? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি ?
রাস্তার হৈ চৈ শুনে পাশের বাড়ী থেকে একজন যুবক বেরিয়ে এলো। সে ছিল বুড়ো মুদি সালমানের পুত্র। লোকদের কাছে শাবানের উল্টাপাল্টা জবাব শুনে সে শাবানকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি ?
শাবান ভাবলো যুবক তাকে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এখানে কেন এসেছিলে? তাই সে জবাব দিলো, ঐ বাড়ীর কসাই বেচারা অসুস্থ তাই তাকে দেখতে এসেছিলাম। শাবানের উল্টাপাল্টা উত্তর শুনে যুবকটি আসল রহস্য বুঝতে পারলো। এরপর যুবকটি পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম বের করে তাতে লিখল, তুমি কি লেখাপড়া জানো ? লেখাটি শাবানের সামনে তুলে ধরতেই সে বলে উঠলো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি লেখাপড়া জানি । এ কথা শুনে যুবকটি বুঝতে পারলো যে, এ বেচারাও তার বাবার মত কানে কম শুনে কিংবা একেবারেই শুনে না। কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে সে তার অক্ষমতার কথা কারো কাছে ফাঁস করতে চায় না। যুবকটি এবার উত্তেজিত জনতাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বিদায় করলো। এরপর সে কাগজের উপর লিখল, শোন ভাই, বধির হওয়া কোন অপরাধে বিষয় নয়। এতে লজ্জা শরমের কি আছে ? আমার বাবা সামলান মুদিও বধির। তাতে কি ? এটা তো একটা রোগ। কিন্তু তুমি তোমার দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে মানুষের কথাবার্তার উল্টাপাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছো। মানুষ এতে কষ্ট পাচ্ছে এবং বিরক্ত হচ্ছে। তার চেয়ে তুমি যদি মানুষকে বল যে, তুমি কানে শুন না তাহলে কোন বিপদ নেই। কেউ তোমাকে ভুল বুঝবে না। নিজের অহংকার ত্যাগ করে এখন থেকে বল যে, আমি বধির। তাহলেই বেঁচে যাবে। নইলে মারধোর তোমার ভাগ্যে নিশ্চিত।
কাগজের লেখাগুলো পড়ার পর শাবানের হুশ হলো। সে বলল, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তুমি ঠিকই বলেছে। একসময় আমি তোমার বাবার সাথে ঠাট্টা মশকরা করতাম, তাকে অযথা কষ্ট দিতাম। আজ আমি তওবা করলাম। আর কাউকে মশকরা করবো না। এরপর থেকে শাবান তার পকেটে সবসময় কাগজ কলম রাখতো। যখনি কেউ তার সাথে কথা বলতে আসতে তখনি সে কাগজের ওপর লিখে জানাতে আমি বধির। আমার সাথে কোন প্রয়োজন থাকলে এই কাগজে লিখে জানান। আমি পড়তে জানি, লেখাপড়ে জবাব দেবো। তাই আসুন আমরা প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।


আশুরার গুরুত্ব

ফখরুল ইসলাম | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৫ অপরাহ্ন

আরবী নব বর্ষের প্রথম মাস হল মহররম মাস। মহররম মাস মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন ও মর্যাদাপুর্ন মাস। মুহররম শব্দের অর্থ হারাম বা নিষিদ্ধ, কোন জাতী বা গোষ্ঠী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে না দিলে এ মাসে মুসলমানদের জন্য কোন প্রকার যুদ্ধ করা হারাম বিধায় এ মাসের নাম রাখা হয়েছে মুহররম মাস। ইসলাম ধর্মানুসারীদের মতে প্রত্যেক আরবী মাসের বিশেষ বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা থাকলে ও এমাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় বেশী ও ব্যতিক্রম। এমাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক বিস্ময়কর ও রহমত পুর্ন কাজ সম্পাদন করেছেন যা মুসলমানদের ইতিহাসে অবিস্মরনীয় হয়ে আছে এবং পৃথিবী ধংসের পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত থাকবে। এমাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা ব্যাখ্যা করা আমার মত স্বল্প জ্ঞানী ব্যক্তির পক্ষে কোন প্রকারে সম্ভব নয়।তবু ও এমাসের ১০ তারিখের বিশেষ কয়েকটি রহমতপুর্ন ঘটনা ক্ষুদ্র পরিসরে আমি উল্লেখ করতে চেষ্টা করছি।
১। এ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষব করে।
২। আদম (আঃ) কে সৃস্টির পর এ মাসের ১০ তারিখে প্রথম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।
৩। হযরত আদম(আঃ) এর অপরাধের কারনে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্ররনের পর
অনেক কান্নাকাটির কারনে এ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তার তওবা গ্রহন করে অপরাধ ক্ষমা করেছিলেন।
৪।হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে পয়দা হয়েছিলেন।
৫। হযরত মুসা(আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে ফেরাউনের সাথে জয়লাভ করেছিলেন এবং
ফেরাউন এ মাসের ১০ তারিখে নীল নদীতে ডুবে মরেছিল।
৬। হযরত আইয়ুব (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে পচন রুগ হতে মুক্তি পেয়েছিলেন।
৭। হযরত নুহ (আঃ) আমলে বন্যার পানি এ মাসের ১০ তারিখে শুকিয়ে শেষ হয়েছিল।
৮। হযরত ইউনুছ (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে মাছের পেট হতে বাহিরে আসতে পেরেছিলেন।
৯। এ মাসের ১০ তারিখে কেয়ামত সংঘটিত হবে।
১০। এ মাসের ১০ তারিখে কারবালার মরু প্রান্তরে মহানবীর আদরের নাতী হোসাইন (আঃ) ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজীরবিহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইমাম হোসাইন (আ) ইসলামের সঠিক বার্তাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। নৈতিক , চারিত্র্যিক এবং মানবীয় সকল অসৎ গুণাবলী যাদের ছিল মজ্জাগত , তারা ইসলামী খেলাফতকে পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে ভোগ করতে গিয়ে ইসলামের সুমহান আদর্শকেই কলঙ্কিত করতে বসেছিল। ইসলামের নামে এই স্বেচ্ছাচার নবী তণয় ইমাম হোসাইন (আ) কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি। উপরন্তু খেলাফতের অধিকার ছিল ইমাম হোসাইন (আ) এর। অথচ উমাইয়া শাসক মুয়াবিয়ার সাথে ইমাম হাসানের (আ) চুক্তি ভঙ্গ করে মুয়াবিয়া-পুত্র ইয়াযিদ ক্ষমতার আসনে বসেই তার সামনের সবচে বড় চ্যালেঞ্জ ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে যায়। ইমাম হোসাইন (আ) এই সঙ্কটকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবেলা করেন, যাতে বিশ্ববাসী প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবহিত হবার সুযোগ পায় এবং ইসলামের প্রকৃত বার্তা ধীরে সুস্থে হলেও সবার কাছে পৌঁছে যায়। সমাজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইমাম হোসাইনের সেই আন্দোলনকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হয়। কালের অমোঘ পরিক্রমায় দেখা গেছে, ভালো এবং মন্দের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে এসেছে আদিকাল থেকে। সত্যের পক্ষে কোনো কোনো সংগ্রাম ছিল দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আবার কোনো কোনো সংগ্রাম ছিল অত্যাচারীদের রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে অস্পষ্ট। ইমাম হোসাইন (আ) এর যে আন্দোলন তা ছিল তৎকালীন শাসকবৃন্দের ইসলামবিনাশী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সংগ্রাম। যদিও সে সময়কার জনগণের কাছে অজ্ঞানতার কারণে তা ছিল রাজনৈতিক মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো অস্পষ্ট। যার ফলে তখন ইসলাম অনুরাগীরাও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলাচলে ভুগেছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ ব্যাপক গবেষণা আর ইতিহাস পর্যালোচনায় প্রকৃত সত্য উদ্ভাসিত হয়ে গেছে সবার সামনে। গবেষকরা আজ ইমাম হোসাইনের সেই সংগ্রামের যথার্থতা খুঁজে পেয়েছেন। এতোকাল পর তাঁর আন্দোলনের যথার্থতা খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই অনুমিত হয় যে ইমাম হোসাইনের সেই আন্দোলন কতো সুদূরপ্রসারী ছিল।সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে ইমাম হোসাইনের আন্দোলনের মূল্যবোধগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়। এসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধটি হলো তাঁর সহজাত সত্যনিষ্ঠা ও অবিচল সততা। আসলে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু সহজাত বৈশিষ্ট্য থাকে। ঐ বৈশিষ্ট্যের আলোকেই তাঁর জীবনের সকল কিছু পরিচালিত হয়। ইমাম হোসাইন (আ) এর জীবনের বৈশিষ্ট্যও ছিল এরকম দৃঢ় সততায় সমৃদ্ধ। তার কারণ ইমাম হোসাইনের জীবনের যে মূল্যবোধগুলো ছিল,সেগুলো স্বয়ং রাসূলে খোদার আদর্শ ও শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত।

রাসূলের শিক্ষা মানেই হলো আল-কোরআনের শিক্ষা। আর আল-কোরআনের শিক্ষা হলো অনৈসলামি বা খোদাদ্রোহী শক্তির কাছে মাথানত না করা, শাহাদাৎকামিতা, নিজস্ব আদর্শকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। হোসাইনী আন্দোলনের মূল্যবোধগুলোকে দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। একটি ক্ষুদ্র, অপরটি বৃহত্তর মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধগুলোই ইমাম হোসাইনের আন্দোলনকে কালজয়ী স্থায়িত্ব বা চিরন্তন ঐশ্বর্য দিয়েছে। এইসব মূল্যবোধ ইমাম হোসাইনের মধ্যে যেমন ছিল তেমনি তাঁর সঙ্গী-সাথীদের মধ্যেও ছিল। ক্ষুদ্র মূল্যবোধগুলোর মধ্যে একটি হলো তাঁর সুদূরপ্রসারী ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী। সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী বলতে রূপকার্থে বলা যায় , ইমাম হোসাইন একটা ইটের মধ্যেও যা স্বাভাবিকভাবেই দেখতে পেতেন অন্যরা তা আয়নাতেও দেখতে পেত না। আমরা এখন সেইযুগের পরিস্থিতি বিশে-ষণ করছি অথচ সেইযুগের মানুষেরা ইমাম হোসাইন ইবনে আলী যেরকম বুঝতেন সেরকম বুঝতো না। হোসাইনী আন্দোলনের পেছনে ছিল একটা গভীর বোধ ও উপলব্ধি। এই বোধই তাঁর আন্দোলনকে মহান করে তুলেছে। এই উপলব্ধিটা হলো উমাইয়া শাসকরা যে খেলাফতির নেপথ্যে ইসলাম-বিরোধী কার্যকলাপ চালাতো, তা জনগণ প্রকাশ্যে দেখতে পেত না, কিন্তু ইমাম হোসাইন তাঁর দৃষ্টি প্রখরতার কারণে দেখতে পেতেন। ইমাম হোসাইন এযিদের ক্ষমতাসীন হবার কথা শুনে বলেছিলেন “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্যে এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবো ! হে ইসলাম বিদায় ! যখন উম্মতের জন্যে এযিদের মত ব্যক্তি নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়।” তাঁর এই উক্তি দূরদৃষ্টিরই পরিচায়ক, কেননা অন্যরা ইয়াযিদকে সেভাবে চিনতে পারে নি, যেভাবে চিনতে পেরেছিলেন ইমাম। সমকালীন জনগণের উপলব্ধিগত দুর্বলতা, তাঁদের স্থূলদৃষ্টি , এবং বিস্মৃতি ইমাম হোসাইনের শাহাদাৎলাভের একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ।”

উমাইয়াদের প্রতি জনগণের সমর্থনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তাদের অজ্ঞতা বা মূর্খতা। ইমাম হোসাইন ইয়াযিদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতেন না। কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা ছিল এর অনেক উর্ধ্বে । কিন্তু ইয়াযিদের সাথে যে সংঘর্ষ তাঁর বেধেছিল তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিলো ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনেক উর্ধ্বে। তাঁর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল সামগ্রিক এবং মৌলিক। বস্তুত তিনি ইয়াযিদের সাথে নয় বরং জুলুম নির্যাতন এবং অজ্ঞানতামূর্খতার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম করেছেন। কেননা ক্বাবা যেয়ারতকালে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা ও উপদেশ দিয়ে বলেছেন যে, এই সংগ্রামের লক্ষ্য হলো মূর্খতা এবং গোমরাহী দূর করা। ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের চেহলামের দোয়ায় যেমনটি রয়েছে-হে খোদা ! ইমাম হোসাইন তাঁর হৃদয়ের রক্ত তোমার পথে উৎসর্গ করে দিয়েছেন যাতে তোমার বান্দারা মূর্খতা এবং গোমরাহী থেকে মুক্তি পায়।”
সর্বোপরি বলা যায় জনগণের বিস্মৃতিই ইমাম হোসাইনের শাহাদাত ডেকে এনেছে। কেননা; জনগণ যদি তাদের বিগত পঞ্চাশ-ষাট বছরের ইতিহাসের দিকে তাকাতো, যদি সেই ইতিহাস নিয়ে খানিকটা ভাবতো এবং তাদের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাতো অর্থাৎ ঐ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতো, তাহলে হয়তো কারবালার ঐ মর্মান্তিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হতো না। দ্বিতীয় যে মূল্যবোধটি ইমাম হোসাইনের মধ্যে ছিল তা হলো বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস। বিজয় একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। সাময়িকভাবে কারবালায় ইমাম হোসাইন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন শাহাদাৎ লাভ করেছেন বটে। কিংবা তাঁদের শাহাদাতের ঘটনায় ইয়াযিদের পক্ষে যুদ্ধের ফলাফল গেছে বৈকি ! কিন্তু বৃহত্তর জয় ইমামেরই হয়েছে।
এখন কথা হলো এ বিজয় কোন্ ধরনের বিজয়। বিশে-ষকগণ এ বিজয় সম্পর্কে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কোনো আন্দোলন যদি আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভিত্তিক হয় এবং ঐ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে যদি আন্দোলনকারীরা নিশ্চিত হন, তাহলে সেই সংগ্রামে সামরিক বিজয় না হলেও আদর্শিক বিজয় ঘটে। এই বিজয় তাই সাময়িক নয় বরং সুদূরপ্রসারী। তাই যাঁরা আন্দোলন করেন, তাঁরা হয়তো এই বিজয় স্বচক্ষে নাও দেখতে পারেন, তবে তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম কিংবা দূর ভবিষ্যৎ যুগের প্রজন্ম অবশ্যই ঐ আদর্শিক বিজয় লাভ করেন। আর এ ধরনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদেরই বিজয় অর্জিত হয়। ইমাম হোসাইনের বিজয় এধরনেরই আদর্শিক বিজয় ছিল। অন্যদিকে যে-কোনো যুগেই কারো ওপর যদি আদর্শিক কোনো দায়িত্ব থাকে, এবং সেই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে গিয়ে যদি বাহ্যত পরাজয়ও পরিলক্ষিত হয়, তাহলে তা বিজয়। ইমাম হোসাইন (আ) যে আন্দোলন করেছেন, তা ছিল আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দাবী অনুযায়ী তাঁর ধর্মীয় ও ঈমানী দায়িত্ব। তিনি মক্কা থেকে কারবালা যাবার পথে বিভিন্ন ভাষণে সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, আমার যাত্রার উদ্দেশ্য হলো কপট উমাইয়া শাসকদের স্বরূপ উন্মাচন করা, অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা। আল-কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী মুহাম্মাদী দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করা ছাড়া আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। ইমাম হোসাইন (আ) এর এই আন্দোলনের আরো বহু তাৎপর্য রয়েছে। তিনি ছিলেন রাসূল পরিবারের সদস্য। ফলে তাঁর মর্যাদাও ছিল সর্বোন্নত। তিনি তো অন্য কোনো সাধারণ মানুষের মতো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সংগ্রামী পথ থেকে মৃত্যুর ভয়ে সরে যেতে পারেন না। তাঁর আন্দোলন বিপ্লবতুল্য হওয়াটাই ছিল সমীচীন। তিনি অন্যদের মতো ইসলামের নীতি আদর্শ ক্ষুনড়ব হতে দেখে চুপ করে থাকতে পারেন না। কারবালায় ইমাম হোসাইন মানুষকে এই ব্যক্তিত্ব এবং আত্মসম্মানবোধও শিক্ষা দিয়েছেন ।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তারই পথে আত্মনিবেদনে সর্বাবস্থায় দৃঢ় মনোবল থাকাটাও এই আন্দোলন থেকে শিক্ষণীয় আরেকটি মূল্যবোধ। আত্মত্যাগ, মহানুভবতা, ইসলামী সাম্য এবং আল্লাহর পথে জাগৃতির প্রেরণা প্রভৃতি দিকগুলো এই আন্দোলনের আরো কিছু মহান লক্ষ্য। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত আল-কোরআন প্রদত্ত মহান দায়িত্ব পালন, সংস্কারকামিতা, মুসলমানদের ইসলামী চেতনাকে চাঙ্গা করা, ইসলামের সার্বজনীনতাকে তুলে ধরা প্রভৃতি হোসাইনী আন্দোলনের বৃহত্তর মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আমি প্রবিত্র আশুরায় ইমাম হোসাইনের (আঃ) আত্বার মাগফেরাত কামনার মাধ্যমে আমাদের সকলের আত্বশুদ্ধির প্রার্থনা করছি।


নববর্ষের চাওয়া

Naznin Nahar | ৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১:৫২ অপরাহ্ন

২৯ শে ডিসেম্বর, মনে হচ্ছিল সারা ঢাকা শহরে রাস্তায় মেলা বসেছে। অগণিত মানুষ স্বতস্ফুর্ত মন নিয়ে ভোট দিয়েছে। ‌অন্যান্য বারের মত মানুষের মধ্যে কোন ভয় ভীতি ছিল না।
৩০ শে ডিসেম্বর পেপারে বড় বড় হেডিং-এ লেখা আওয়ামী লিগের বিশাল জয়। আমার অভিনন্দন বিজয়ী দলকে। এটা অবশ্য আমরা অনেকেই আগে জানতাম। কিন্ত এই জয়টা মনে হচ্ছে ১৬ই ডিসেম্বর-এর মতই বিজয়ের জয়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর গত পাঁচটি বছর মানুষ বহু কষ্টে দিনাতিপাত করেছে। কিন্ত কেউ মুখ খোলেনি। ১/১১-এর পর আমাদের তত্বাবধায়ক সরকার দেখিয়ে দিয়েছেন কি জন্য আমাদের দেশ বার বার দুর্নীতিতে প্রথম স্থান অধিকার করে আসছিল। আমরা আশা করি এই দুই বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কিছুটা শিক্ষা অবশ্যই পেয়েছেন। তাই আমাদের বিজয়ী দলকে বলতে চাই, আজ যে ফল পাওয়া গেছে, সেটাকে জনগণের মনের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে ধরে নিয়ে তাঁদের জন্য কাজ করে যান। আগের সবকিছু ভুলে গিয়ে ২০০৯ সালে আমাদের সকল রাজনীতিবিদরা যেন নতুন মানুষে রূপান্তরিত হয়ে এই দেশটাকে আবার সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।

আমাদের দেশের মানুষ ক্ষমতায় গেলে প্রতিশোধ নিতে চায়, কিন্তু তারা এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। তেমনিভাবে, বিরোধী দলের নেত্রীকে বলতে চাই, আপনারা হতাশ হবেন না। আমাদের গনতন্ত্র চাকার মতো ঘুরতে থাকে। দেশটাকে সুন্দর মতো গড়ে তুলতে সরকারি ও বিরোধীদল, উভয়কেই ামাদের প্রয়োজন। আমরা এই নতুন বছরে চাই না কোন হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং হরতাল। এভাবে সরকারিদলের প্রতি সহযোগীতা থাকলে, পাঁচ বছরে ভাগ্যের চাকা ঘুরেও যেতে পারে।

সবশেষে, আমাদের দুই নেত্রীর কাছেই আমাদের অনুরোধ, আপনারা হাসিমুখে এক হয়ে দেশটাকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দারিদ্র এবং বেকারমুক্ত করে গড়ে তুলুন। আমরা সেই বিজয়ের আনন্দ নিয়ে যেন গর্ব করে বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশী।


শেখ হাসিনা, আপনি কি শিক্ষা নিবেন ইতিহাস থেকে ??????

Raihan sayeed | ৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১:৫১ অপরাহ্ন

গত ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই তৃতিয়াংশ আসনে জয়ী হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে ভোটের। বিএনপির বিপর্যয়ের সমালোচনা, পর্যালোচনা চলছে, বিচার বিশ্লেষন চলছে।
২/৩ মেজরিটি আঃ লীগের জন্য অভিশাপ না আশীর্বাদ, তা সময়ই বলে দেবে।
আমরা একটু পিছনে ফিরে তাকাই। যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের দিকে। তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ এবং স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। কিন্তু দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধু প্রথম যে ভুল করে তা হল যুদ্ধের সময় নেতৃত্ব দানকারি চার নেতা কে দুরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পরিবেষ্টিত হয়ে ছিলেন চাটুকার , লোভী, ক্ষমতার অপব্যবহার কারী একদল নেতৃবৃন্দ দ্বারা। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বঙ্গবন্ধুর ইমেজ। সবশেষে তারা ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে গঠন করে - বাকশাল। বাকশাল গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর দ্বীতিয় ভুল। আরেকটা ভুল ছিল দলের লোকদের কে প্রচন্ড বিশ্বাস করা। তখন আওয়ামী লীগ সংসদে ২/৩ মেজরিটি নিয়ে সরকার করেছিল। সেই মেজরিটির জোরে তিনি বাকশাল গঠন করেছিলেন। তার এই ভুল গুলোর প্রায়শ্চিতঃ তিনি তার ও তার পরিবারের জীবন দিয়ে করে গেছেন। সেই ভুলের ধারাবাহিকতায় বি এন পি জন্ম। সেই ভুলের জন্য ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়ছে আঃ লীগ কে। আঃ লীগ কে বাধ্য হতে হয়েছে এরশাদের মত লোকের সাথে জোট করতে।

এরশাদের মত লোকের সাথে জোট করলেও আঃ লীগ একাই ২/৩ আসন পেয়েছে। সরকার গঠন করার জন্য এরশাদের অনুকম্পা দরকার নাই তাদের। এই ২/৩ মেজরিটি আগের বার বিএনপি কে ডুবিয়েছে। আর স্বাধীনতার পর আঃ লীগ কে ডুবিয়েছে। শেখ হাসিনা যদি এইসব কিছু বিবেচনা না করে এবার ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে , ঔদ্ধ্যত ভাবে দেশ চালান , তাহলে আরেকটা ১৫ ই আগস্টের জন্ম হলে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। শেখ হাসিনা কে অতিরিক্ত সাবধানী হয়ে প্রতিটা পা ফেলতে হবে। তিনি যেন মনে না করে ২/৩ আসন মানে দেশের ২/৩ নিজের সম্পত্তি। যে ভুলে যুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ ডুবেছিল। যে ভুলে বিএনপি এবার ২৯ টা আসন পেয়েছে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবার কথা সবাই বলে কিন্তু দুঃখ জনক, সবাই শিক্ষা নেয় না ইতিহাস থেকে। শেখ হাসিনা, আপনি কি শিক্ষা নিবেন ইতিহাস থেকে ??????গত ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই তৃতিয়াংশ আসনে জয়ী হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে ভোটের। বিএনপির বিপর্যয়ের সমালোচনা, পর্যালোচনা চলছে, বিচার বিশ্লেষন চলছে।
২/৩ মেজরিটি আঃ লীগের জন্য অভিশাপ না আশীর্বাদ, তা সময়ই বলে দেবে।
আমরা একটু পিছনে ফিরে তাকাই। যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের দিকে। তখন বাংলাদেশের ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ এবং স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। কিন্তু দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধু প্রথম যে ভুল করে তা হল যুদ্ধের সময় নেতৃত্ব দানকারি চার নেতা কে দুরে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পরিবেষ্টিত হয়ে ছিলেন চাটুকার , লোভী, ক্ষমতার অপব্যবহার কারী একদল নেতৃবৃন্দ দ্বারা। তারা তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বঙ্গবন্ধুর ইমেজ। সবশেষে তারা ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে গঠন করে - বাকশাল। বাকশাল গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর দ্বীতিয় ভুল। আরেকটা ভুল ছিল দলের লোকদের কে প্রচন্ড বিশ্বাস করা। তখন আওয়ামী লীগ সংসদে ২/৩ মেজরিটি নিয়ে সরকার করেছিল। সেই মেজরিটির জোরে তিনি বাকশাল গঠন করেছিলেন। তার এই ভুল গুলোর প্রায়শ্চিতঃ তিনি তার ও তার পরিবারের জীবন দিয়ে করে গেছেন। সেই ভুলের ধারাবাহিকতায় বি এন পি জন্ম। সেই ভুলের জন্য ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে হয়ছে আঃ লীগ কে। আঃ লীগ কে বাধ্য হতে হয়েছে এরশাদের মত লোকের সাথে জোট করতে।

এরশাদের মত লোকের সাথে জোট করলেও আঃ লীগ একাই ২/৩ আসন পেয়েছে। সরকার গঠন করার জন্য এরশাদের অনুকম্পা দরকার নাই তাদের। এই ২/৩ মেজরিটি আগের বার বিএনপি কে ডুবিয়েছে। আর স্বাধীনতার পর আঃ লীগ কে ডুবিয়েছে। শেখ হাসিনা যদি এইসব কিছু বিবেচনা না করে এবার ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে , ঔদ্ধ্যত ভাবে দেশ চালান , তাহলে আরেকটা ২৯ শে ডিসেম্বরের জন্ম হলে অবাক হবার কিছু থাকবেনা। শেখ হাসিনা কে অতিরিক্ত সাবধানী হয়ে প্রতিটা পা ফেলতে হবে। তিনি যেন মনে না করে ২/৩ আসন মানে দেশের ২/৩ নিজের সম্পত্তি। যে ভুলে যুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ ডুবেছিল। যে ভুলে বিএনপি এবার ২৯ টা আসন পেয়েছে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবার কথা সবাই বলে কিন্তু দুঃখ জনক, সবাই শিক্ষা নেয় না ইতিহাস থেকে। শেখ হাসিনা, আপনি কি শিক্ষা নিবেন ইতিহাস থেকে ??????


হাসিনার বদল, খালেদা অটল!

মোস্তফা মামুন | ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮ ৯:২৫ অপরাহ্ন

প্রশ্ন : আপনার বন্ধু কারা?
সম্ভাব্য উত্তর : গণতন্ত্র এবং অসামপ্রদায়িক শক্তিসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী যারা বিগত সরকারের সময় নানা অত্যাচার সহ্য করেও আমার এবং আমাদের পক্ষে ছিলেন…
বাস্তব উত্তর : এই বাংলাদেশের জনগণ।
প্রশ্ন : আর আপনার শত্রু?
সম্ভাব্য উত্তর : গত জোট সরকারের সময় যারা দুঃশাসন চালিয়ে দেশ ও জনগণকে জিম্মি করে রেখেছিল। এই দেশের যাবতীয় প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি…
বাস্তব উত্তর : এই দেশের দারিদ্র্য। বিস্তারিত…