bdnews24.com banglablog

মুক্তিযুদ্ধ

স্বাধীনতার ঘোষক কে? আর কত দিন?

বাহারুল ইসলাম | ২২ মার্চ ২০০৯ ১:৩৩ অপরাহ্ন

আর কত দিন এই বিতর্ক যে স্বাধীনতার ঘোষক কে? আমরা আর সইতে পারছি না। এই বিতর্ক শুনতে শুনতে কান ঝালা পালা হয়ে গেল। এই বিতর্ক কি প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলতে থাকবে? এর কি কোন শেষ হবে না? নাকি এরই নাম রাজনীতি। এই একটি বাক্যের উপর ভর করেই কি আমাদের দেশ চলবে? আমাদের দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কি এটাই পুজি? হয়তোবা রাজনীতিতে আসবেন জিয়া পুত্র তারেক রহমান ও হাসিনা পুত্র জয়। তারাও কি এটাকে পুজি করে রাজনীতি করবেন? এ সকল প্রশ্নের কোন উত্তর আমি খুজে পাই না।

কে স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন এটা বড় কথা নয়। আমরা একটা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি এতাই বড় কথা। এ স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে বেশী অবদান আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রাহমান ও মেজর জিয়াউর রাহমানের এ কথা সবাই জানে। আরও অবদান আছে লাখ শহীদের রক্ত। এতো রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন বাংলাদেশ এটাই এখন মুল বিষয়। বাংলার জনসাধারন যে ইতিহাস জানে সেটা হলো মেজর জিয়া বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধিনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন।

বর্তমান বিশ্বে যখন অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে তোলপাড়, যখন তারা তাদের সমস্ত মনজোগ দিচ্ছে কিভাবে তারা তাদের অর্থনীতিকে আবার পুনরুদ্ধার করবে তখন আমরা আমাদের সংসদে বিতর্কে ব্যস্ত কে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল!
তাহলে আমাদের দেশ কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে? যখন মালয়েসিয়া, সিঙ্গাপুর, দুবাই, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক প্রতিদিন ফিরে আসছে, তখন আমরা ব্যস্ত আমাদের দেশ চলার কেন্দ্র বিন্দু সংসদে বিতর্কে কে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল?

আমি মনে করি কে স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিল তা নিয়ে বিতর্ক না করে আমরা আমাদের দেশকে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেইদিকে মনজোগ দেয়া। এখেত্ত্রে এক দল আর এক দলকে কিছুটা ছাড় দেয়ার মন মানুসিকতা থাকতে হবে।

আমরা চাই একটি সম্ম্রিদ্ধ বাংলাদেশ।


যুদ্ধাপরাধীদের আস্ফালন পুলিশ প্রশাসন ও একজন মেজারুল

jahangiralamakash | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৮ অপরাহ্ন

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
বাংলাদেশে একাত্তরের শত্রু স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকদের আস্ফালন বন্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট গত ২৯ ডিসেম্বরের মাধ্যমে গণরায়ের মধ্য দিয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করার পরও জামায়াতিদের দৌরাত্ম কমেনি। এখনও তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ওপর নানান কৌশলে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এমনই একটি আলোচিত ঘটনা এখন ‘টক অফ দি কান্ট্রি’ তে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা জঙ্গি মহড়া দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্র একাত্তরের গণহত্যায় সহায়তাকারি যুদ্ধাপরাধীদের নামে মামলা করে বেকায়দায় পড়েছেন রাজশাহীর এক শহীদ পরিবার। রাজশাহীতে এক শহীদ পরিবারের ওপর নানানমুখী অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। অব্যাহত হুমকি আর ষড়যন্ত্রের কারণে শহীদ পরিবারের সন্তান মেজারুল শেখ (৫৪) ঘর-বাড়ি ও স্ত্রী-পুত্র ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তারপরও আত্মপ্রত্যয়ী মেজারুল হতাশ নন। তিনি তার পিতা শহীদ বশিরউদ্দিন শেখসহ ১৫ জনের হত্যাকারি রাজাকারদের বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তার সংগ্রাম থেকে মেজারুল পিছপা হবেন না। এমনই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন শহীদ পরিবারের এই অকুতোভয় সন্তান।
রাজশাহী প্রেসকাবে ৪ জানুয়ারি রাতে পরিচয় হলো শহীদ বশিরউদ্দিন এর ছেলে মেজারুল শেখ ওরফে কটু শেখের সঙ্গে। মেজারুলরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী ইউনিয়নের মুগরুল গ্রামে বসবাস করতেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে চলে আসেন রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানাধীন বায়া বিরস্তইল গ্রামে। মেজারুলের পিতা কৃষি শ্রমিক ছিলেন। ১৯৬২ সনে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজশাহী জেলার পবা উপজেলাধীন দারুশা গ্রামে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার পর মেজারুলের বাবা ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন। এর আগে তারা ভারতের মুর্শিদাবাদের রানীনগরে বসবাস করতেন।
৫ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখ সকাল ৭টায় শহীদ বশিরউদ্দিন এর ছেলে মেজারুলকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে গেলাম মোহনপুরের মুগরুল গ্রামে। মুগরুল গ্রামের প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে আছে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি ছোট্র শহীদ মিনার। মিনারের নামফলকে শহীদদের তালিকায় আছেন মুগরুল গ্রামের হাবিল শেখের ছেলে নজরউদ্দিন শেখ, কবির শেখের পুত্র ইদ্রিস আলী শেখ, ছবির শেখের ছেলে হাবিবর রহমান শেখ, জিয়াউর শেখের ছেলে রশিদ শেখ ও জেকের আলী শেখ, হেকমত শেখের ছেলে বশিরউদ্দিন শেখ, শাহাবান খাঁর ছেলে মফিরউদ্দিন খাঁ, অছির খাঁয়ের ছেলে মফিজউদ্দিন খাঁ, আরমান আলী খাঁয়ের ছেলে ইয়ানুছ আলী খাঁ, আতিউজ্জামানের ছেলে নূরুজ্জামান মন্ডল, ভেকু সরদারের ছেলে শেকু সরদার, মদনহাটি গ্রামের মমিন মন্ডলের ছেলে কুশব আলী মন্ডল, জমির মন্ডলের ছেলে মেছের আলী, আরমান আলীর ছেলে রিয়াজউদ্দিন সরকার, হরি ঋষীর ছেলে বৈদ্যনাথ ঋষী।। মুগরইল গ্রামের মৃত শাহাবান খাঁয়ের ছেলে ময়েজউদ্দিন খাঁ (৭২), ডা. ইয়াসিনের স্ত্রী মোমেনা (৬০), হাশিমউদ্দিন এর স্ত্রী জমেলা (৫৪), সদরউদ্দিন শেখ এর ছেলে নাজিমউদ্দিন (৫১) প্রমূখ প্রবীণরা জানালেন, স্থানীয় রাজাকারদের প্রত্য সহায়তায় পাক সেনারা ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর ভোরে অভিযান চালায় মুগরুল গ্রামে। যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের, মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের থাকা, খাওয়া, আশ্রয় দেয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করেছিলেন তাদের শায়েস্তা করতে পুরো গ্রাম ঘেরাও করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে ধরে আনে পাক সেনারা। ইউসুফ মন্ডলের ছেলে ছইমউদ্দিনসহ ১৬ জনকে (মুগরুল শহীদ মিনারে উল্লিখিত ১৫ জন শহীদসহ) পিঠমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটিয়ার পুকুর পাড়ে। এরপর ঘটিয়ার পুকুরের উত্তরে আখ ক্ষেতে (তৎকালে) ১৬জনকে লাইন করে একসাথে গুলি (ব্রাশফায়ার) করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন শহীদ হন। অপরজন ছইমউদ্দিন বেঁচে যান। ঘটনার ১০ বছর পরে তিনি মারা যান।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মতা নেয়। এরপর টেলিভিশনে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। আর এর থেকেই মেজারুল উদ্বুদ্ধ হন সেই একাত্তরের গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করতে। ২০০৮ সালের ২৬ জুন (জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে) রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শহীদ সন্তান মেজারুল শেখ কটু মামলা (মামলা নম্বর ১৫৯ পি/২০০৮) ঠুকে দেন রাজাকারদের নামে। মামলায় ৩৮ জনকে সাক্ষী করে মোট ১৯ জনের নামে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদালত মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। মোহনপুর থানা অভিযোগটিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। কিন্তু অদ্যাবধি একজন অভিযুক্ত রাজাকারকেও গ্রেফতার করেনি। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য মেজারুলকে নানাভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন এবং বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা (রাজাকার) হলো রাজশাহীর পবা উপজেলার মদনহাটির ফারাতুল সরদার এর ছেলে শফিউল্লাহ সরদার, মইনউদ্দিন সরদার ও বায়েনউদ্দিন সরদার, মোহনপুরের বেড়াবাড়ী বামদদিঘীর মৃত আলহাজ্ব উমর আলীর ছেলে মাওলানা দাউদ আলী, মৃত মুনতাজ আলীর ছেলে শামসুদ্দিন, মৃত আবদুস সাত্তার এর ছেলে নূরে আলম, মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মৃত নইমউদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান রহমান, মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে আউয়াল, রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন মহিষবাথানের মৃত আবদুল বারীর ছেলে আবদুল আলিম, আবদুল হাই, আবদুল হক ও ডা. মান্নান, দূর্গাপুর উপজেলার কানপাড়ার মৃত আবদুল বারীর ছেলে আবু সাঈদ ও আবদুল কুদ্দুস, (উপরোক্ত ১৫ জন অভিযুক্ত রাজাকার বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত) মহানগরীর শাহ মখদুম থানাধীন বায়ার মৃজ্জব্বারউদ্দিনের ছেলে আবদুল, একই থানার বিরস্তইল মধ্যপাড়ার মৃত ফুলবাস মন্ডলের ছেলে জান বক্স মন্ডল, মৃত মসলেমের ছেলে রেজাবুল এবং ছলেমানের ছেলে কালু (এই চারজন বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত)।
মামলা করার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে জান বক্স মন্ডল, শরিফ মন্ডল, কালু শেখ, রেজাউল, বাবর আলী, সাইদুর, নুহের মন্ডল, ডাকর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গত ৮ নভেম্বর, ২০০৮ রাত অনুমান ৯টার সময় শাহ মখদুম থানাধীন বিরস্তইল বিশুর মোড়ে মামলার বাদী মেজারুল শেখকে ঘেরাও করে। সন্ত্রাসীরা মেজারুলকে জিজ্ঞাসা করে বলে, ‘তুমি রাজাকারের বিরুদ্ধে কেন মামলা করলে। তুমি ভারতের দালাল, ভারতে চলে যাও।’ তারা মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা মেজারুলের বাড়ির জানালায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে মেজারুল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন। পরদিন ৯ নভেম্বর মেজারুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান রাজশাহী শহরে। এই হামলা ও ঘেরাওয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বরাবর জমা দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ সেই এজাহারটি গ্রহণ করেনি। গত ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পরদিন ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী দল মেজারুলের বাড়ি আক্রমণ করে। এসময় বাড়িতে ছিলেন মেরাজুলের স্ত্রী চান্নেহার (৪০), মেজারুলের পালিত সন্তান মিলন এর স্ত্রী সিমা (২০), মিলনের শিশুকন্যা মিলি (২)। মেজারুলের করা মামলার অন্যতম আসামি জান বক্সের বোনের স্বামী বাবর এর ছেলে সাজ্জাদ এর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকালে চান্নেহারকে কিল-ঘুষি মারা ও তার মাথার চুল ধরে টানা-হ্যাঁচড়া করা হয়।
একাত্তরের শহীদ এই পরিবোরটির গল্প এখানেই শেষ নয়। এই পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিনের। রাজাকারের দল ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে মেজারুলকে দেশের ভোটার হতেও দেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেজারুল মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ করেন। ভোটার না করার বিষয়ে ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর অভিযোগ করার পর একই সালের ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টায় শাহ মখদুম থানার পুলিশ আকস্মিকভাবে মেজারুলকে তার বির¯Íইল এর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। মেজারুলকে শাহ মখদুম থানায় নিয়ে আসার এক ঘন্টা পর তার ওপর শুরু হয় পুলিশি বর্বর নির্যাতন। মেজারুল জানালেন, শাহ মখদুম থানার এসআই ইউনুস, শাহজাহান মেজারুল এর লুঙ্গি খুলে নেয়। এসময় মেজারুল শুধুমাত্র জাঙ্গিয়া পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এরপর তাকে উপুড় করে থানার মেঝেতে শুইয়ে দেয়া হয়। এরপর ওই দুই পুলিশ লাঠি দিয়ে মেজারুল এর কোমর থেকে পা পর্যন্ত এলোপাতাড়ী পেটাতে থাকে। নির্যাতনের ফলে মেজারুলের নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ে পড়ে। সকাল অনুমান ১০টার দিকে এসআই হান্নান মোটা লাঠি দিয়ে কোমরের পেছন দিকে পেটাতে থাকে। এসময় হান্নান বলতে থাকে, ‘মিথ্যা অভিযোগ করার শখ মিটিয়ে দেবো, বেটা মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে।’
আদালতে চালান দেয়ার জন্য পুলিশের গাড়িতে তোলার আগমুহুর্ত পর্যন্ত পুলিশ তাকে পিটিয়েছে। এরপর পুলিশ তাকে নিয়ে যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ এর ধারায় (সন্দেহজনকভাবে রা¯Íায় ঘোরাফেরার অভিযোগে) কোর্টে চালান দেয়া হয়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। তিনদিন পর আদালতে দোষ স্বীকার করে ২০০ টাকার জরিমানা দিয়ে মেজারুল জেল থেকে মুক্তি পান। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মেজারুল পবা উপজেলার নওহাটার আল আমান হাসপাতালে ১৬ দিন ধরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এখনও তিনি সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন ভুলতে পারছেন না। মেজারুলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর এর নির্দেশে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে (স্মারক নং-নবিশা রাজশাহী স্মারক নং-৮২৮৪, তারিখ-২৬/১১/২০০৭)। এরপর তিনি ভোটার হন এবং বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পান (নম্বর-৮১১৭২২৭৫৬২৮১৫)।
রাজশাহীর পুলিশও মেজারুলের মামলার আসামিদের অর্থাৎ একাত্তরের রাজাকারদের পÿ নিয়েছে। মেজারুলের স্ত্রী চান্নেহার জানালেন, গত ২ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে শাহ মখদুম থানার ওসি আবদুল লতিফ ফোর্স নিয়ে বির¯Íইলের বাড়িতে আসেন। এসময় তাকে (মেজারুলের স্ত্রী চান্নেহারকে) উদ্দেশ্য করে ওসি বলেন, ‘তুমি বেয়াদব, তোমার স্বামীও বেয়াদপ। রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করা ঠিক হয়নি। তোমরা একাই মুক্তিযোদ্ধা নাকি আর কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি বুঝি’। পুলিশ চেষ্টা করছে মেজারুলকে ভারতীয় নাগরিক ও গাঁজা ব্যবসায়ী প্রমাণ করার জন্য।
অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্বের চেতনার পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তখন স্বাধীনতাবিরোধীরা মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। যদিও গোটা দেশের মানুষ এবার জামায়াত-শিবির তথা স্বাধীনতাবিরোধিদের প্রত্যাখ্যান করেছে ভোটের মাধ্যমে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত-শিবির চক্র দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। ঠিক যেভাবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জামায়াত-শিবিরের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জঙ্গিরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। নির্বাচনের পর সাতক্ষীরায় জামায়াতকর্মীরা আওয়ামী লীগের এক নারী কর্মীকে হত্যা করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫ জানুয়ারি জঙ্গি মিছিল শো-ডাউন দিয়েছে শিবির ক্যাডাররা। আর রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করায় জামায়াত-শিবির চক্রের কারণে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শহীদ পরিবারের সন্তান মেজারুল।
তাই মুক্তিযুদ্ধের পরে নতুন সরকার তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ও আহবান, মতা গ্রহণের পরপরই কালবিলম্ব না করে জামায়াত-শিবির চক্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেলার জন্য বাস্তবমুখী কার্যকর পদপে নেয়া হোক। উদ্যোগ দেয়া হোক গণহত্যার সাথে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের। #

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মী
বাংলাদেশ, ০৫.০১.২০০৯
নির্বাহী পরচালক
জাষ্টিজ ফাউন্ডেশন
http://www.humanrightstoday.info
jahangiralamakash@gmail.com


শহীদ পরিবারের সন্তান মেজারুলের পরিবারকে রা যুদ্ধপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবির চক্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকারের কাছে আহবান

jahangiralamakash | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৭ অপরাহ্ন

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
বাংলাদেশে একাত্তরের শত্র“ স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকদের আস্ফালন বন্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট গত ২৯ ডিসেম্বরের মাধ্যমে গণরায়ের মধ্য দিয়ে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করার পরও জামায়াতিদের দৌরাত্ম কমেনি। এখনও তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের ওপর নানান কৌশলে নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে এমনই একটি আলোচিত ঘটনা এখন ‘টক অফ দি কান্ট্রি’ তে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারি সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা জঙ্গি মহড়া দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতক চক্র একাত্তরের গণহত্যায় সহায়তাকারি যুদ্ধাপরাধীদের নামে মামলা করে বেকায়দায় পড়েছেন রাজশাহীর এক শহীদ পরিবার। রাজশাহীতে এক শহীদ পরিবারের ওপর নানানমুখী অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। অব্যাহত হুমকি আর ষড়যন্ত্রের কারণে শহীদ পরিবারের সন্তান মেজারুল শেখ (৫৪) ঘর-বাড়ি ও স্ত্রী-পুত্র ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু তারপরও আত্মপ্রত্যয়ী মেজারুল হতাশ নন। তিনি তার পিতা শহীদ বশিরউদ্দিন শেখসহ ১৫ জনের হত্যাকারি রাজাকারদের বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তার সংগ্রাম থেকে মেজারুল পিছপা হবেন না। এমনই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন শহীদ পরিবারের এই অকুতোভয় সন্তান।
রাজশাহী প্রেসকাবে ৪ জানুয়ারি রাতে পরিচয় হলো শহীদ বশিরউদ্দিন এর ছেলে মেজারুল শেখ ওরফে কটু শেখের সঙ্গে। মেজারুলরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছী ইউনিয়নের মুগরুল গ্রামে বসবাস করতেন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে চলে আসেন রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানাধীন বায়া বির¯Íইল গ্রামে। মেজারুলের পিতা কৃষি শ্রমিক ছিলেন। ১৯৬২ সনে তৎকালীন পূর্ব পাকি¯Íানের রাজশাহী জেলার পবা উপজেলাধীন দারুশা গ্রামে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার পর মেজারুলের বাবা ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে আসেন। এর আগে তারা ভারতের মুর্শিদাবাদের রানীনগরে বসবাস করতেন।
৫ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখ সকাল ৭টায় শহীদ বশিরউদ্দিন এর ছেলে মেজারুলকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে গেলাম মোহনপুরের মুগরুল গ্রামে। মুগরুল গ্রামের প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে আছে একাত্তরের শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি ছোট্র শহীদ মিনার। মিনারের নামফলকে শহীদদের তালিকায় আছেন মুগরুল গ্রামের হাবিল শেখের ছেলে নজরউদ্দিন শেখ, কবির শেখের পুত্র ইদ্রিস আলী শেখ, ছবির শেখের ছেলে হাবিবর রহমান শেখ, জিয়াউর শেখের ছেলে রশিদ শেখ ও জেকের আলী শেখ, হেকমত শেখের ছেলে বশিরউদ্দিন শেখ, শাহাবান খাঁর ছেলে মফিরউদ্দিন খাঁ, অছির খাঁয়ের ছেলে মফিজউদ্দিন খাঁ, আরমান আলী খাঁয়ের ছেলে ইয়ানুছ আলী খাঁ, আতিউজ্জামানের ছেলে নূরুজ্জামান মন্ডল, ভেকু সরদারের ছেলে শেকু সরদার, মদনহাটি গ্রামের মমিন মন্ডলের ছেলে কুশব আলী মন্ডল, জমির মন্ডলের ছেলে মেছের আলী, আরমান আলীর ছেলে রিয়াজউদ্দিন সরকার, হরি ঋষীর ছেলে বৈদ্যনাথ ঋষী।। মুগরইল গ্রামের মৃত শাহাবান খাঁয়ের ছেলে ময়েজউদ্দিন খাঁ (৭২), ডা. ইয়াসিনের স্ত্রী মোমেনা (৬০), হাশিমউদ্দিন এর স্ত্রী জমেলা (৫৪), সদরউদ্দিন শেখ এর ছেলে নাজিমউদ্দিন (৫১) প্রমূখ প্রবীণরা জানালেন, স্থানীয় রাজাকারদের প্রত্য সহায়তায় পাক সেনারা ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর ভোরে অভিযান চালায় মুগরুল গ্রামে। যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের, মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের থাকা, খাওয়া, আশ্রয় দেয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করেছিলেন তাদের শায়ে¯Íা করতে পুরো গ্রাম ঘেরাও করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে ধরে আনে পাক সেনারা। ইউসুফ মন্ডলের ছেলে ছইমউদ্দিনসহ ১৬ জনকে (মুগরুল শহীদ মিনারে উল্লিখিত ১৫ জন শহীদসহ) পিঠমোড়া করে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটিয়ার পুকুর পাড়ে। এরপর ঘটিয়ার পুকুরের উত্তরে আখ েেত (তৎকালে) ১৬জনকে লাইন করে একসাথে গুলি (ব্রাশফায়ার) করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন শহীদ হন। অপরজন ছইমউদ্দিন বেঁচে যান। ঘটনার ১০ বছর পরে তিনি মারা যান।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে তত্ত¡াবধায়ক সরকার মতা নেয়। এরপর টেলিভিশনে যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচারণা শুরু হয়। আর এর থেকেই মেজারুল উদ্বুদ্ধ হন সেই একাত্তরের গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করতে। ২০০৮ সালের ২৬ জুন (জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সংহতি দিবসে) রাজশাহীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শহীদ সন্তান মেজারুল শেখ কটু মামলা (মামলা নম্বর ১৫৯ পি/২০০৮) ঠুকে দেন রাজাকারদের নামে। মামলায় ৩৮ জনকে সাী করে মোট ১৯ জনের নামে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদালত মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। মোহনপুর থানা অভিযোগটিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। কিন্তু অদ্যাবধি একজন অভিযুক্ত রাজাকারকেও গ্রেফতার করেনি। অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেয়ার জন্য মেজারুলকে নানাভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন এবং বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে।
মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা (রাজাকার) হলো রাজশাহীর পবা উপজেলার মদনহাটির ফারাতুল সরদার এর ছেলে শফিউলøাহ সরদার, মইনউদ্দিন সরদার ও বায়েনউদ্দিন সরদার, মোহনপুরের বেড়াবাড়ী বামদদিঘীর মৃত আলহাজ্ব উমর আলীর ছেলে মাওলানা দাউদ আলী, মৃত মুনতাজ আলীর ছেলে শামসুদ্দিন, মৃত আবদুস সাত্তার এর ছেলে নূরে আলম, মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মৃত নইমউদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান রহমান, মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে আউয়াল, রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন মহিষবাথানের মৃত আবদুল বারীর ছেলে আবদুল আলিম, আবদুল হাই, আবদুল হক ও ডা. মান্নান, দূর্গাপুর উপজেলার কানপাড়ার মৃত আবদুল বারীর ছেলে আবু সাঈদ ও আবদুল কুদ্দুস, (্উপরোক্ত ১৫ জন অভিযুক্ত রাজাকার বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত) মহানগরীর শাহ মখদুম থানাধীন বায়ার মৃজ্জব্বারউদ্দিনের ছেলে আবদুল, একই থানার বির¯Íইল মধ্যপাড়ার মৃত ফুলবাস মন্ডলের ছেলে জান বক্স মন্ডল, মৃত মসলেমের ছেলে রেজাবুল এবং ছলেমানের ছেলে কালু (এই চারজন বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত)।
মামলা করার পর অভিযুক্তদের পÿ থেকে জান বক্স মন্ডল, শরিফ মন্ডল, কালু শেখ, রেজাউল, বাবর আলী, সাইদুর, নুহের মন্ডল, ডাকর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গত ৮ নভেম্বর, ২০০৮ রাত অনুমান ৯টার সময় শাহ মখদুম থানাধীন বির¯Íইল বিশুর মোড়ে মামলার বাদী মেজারুল শেখকে ঘেরাও করে। সন্ত্রাসীরা মেজারুলকে জিজ্ঞাসা করে বলে, ‘তুমি রাজাকারের বিরুদ্ধে কেন মামলা করলে। তুমি ভারতের দালাল, ভারতে চলে যাও।’ তারা মামলা তুলে না নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার কিছুÿণ পর সন্ত্রাসীরা মেজারুলের বাড়ির জানালায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এরই প্রেÿিতে মেজারুল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন। পরদিন ৯ নভেম্বর মেজারুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান রাজশাহী শহরে। এই হামলা ও ঘেরাওয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বরাবর জমা দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশ সেই এজাহারটি গ্রহণ করেনি। গত ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পরদিন ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী দল মেজারুলের বাড়ি আক্রমণ করে। এসময় বাড়িতে ছিলেন মেরাজুলের স্ত্রী চান্নেহার (৪০), মেজারুলের পালিত সন্তান মিলন এর স্ত্রী সিমা (২০), মিলনের শিশুকন্যা মিলি (২)। মেজারুলের করা মামলার অন্যতম আসামি জান বক্সের বোনের স্বামী বাবর এর ছেলে সাজ্জাদ এর নেতৃুত্বে এই হামলা চালানো হয়। হামলাকালে চান্নেহারকে কিল-ঘুষি মারা ও তার মাথার চুল ধরে টানা-হ্যাঁচড়া করা হয়।
একাত্তরের শহীদ এই পরিবোরটির গল্প এখানেই শেষ নয়। এই পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিনের। রাজাকারের দল ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে মেজারুলকে দেশের ভোটার হতেও দেননি। এরই পরিপ্রেÿিতে মেজারুল মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ করেন। ভোটার না করার বিষয়ে ২০০৭ সালের ২৩ অক্টোবর অভিযোগ করার পর একই সালের ২৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টায় শাহ মখদুম থানার পুলিশ আকস্মিকভাবে মেজারুলকে তার বির¯Íইল এর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। মেজারুলকে শাহ মখদুম থানায় নিয়ে আসার এক ঘন্টা পর তার ওপর শুরু হয় পুলিশি বর্বর নির্যাতন। মেজারুল জানালেন, শাহ মখদুম থানার এসআই ইউনুস, শাহজাহান মেজারুল এর লুঙ্গি খুলে নেয়। এসময় মেজারুল শুধুমাত্র জাঙ্গিয়া পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। এরপর তাকে উপুড় করে থানার মেঝেতে শুইয়ে দেয়া হয়। এরপর ওই দুই পুলিশ লাঠি দিয়ে মেজারুল এর কোমর থেকে পা পর্যন্ত এলোপাতাড়ী পেটাতে থাকে। নির্যাতনের ফলে মেজারুলের নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ে পড়ে। সকাল অনুমান ১০টার দিকে এসআই হান্নান মোটা লাঠি দিয়ে কোমরের পেছন দিকে পেটাতে থাকে। এসময় হান্নান বলতে থাকে, ‘মিথ্যা অভিযোগ করার শখ মিটিয়ে দেবো, বেটা মুক্তিযোদ্ধা সেজেছে।’
আদালতে চালান দেয়ার জন্য পুলিশের গাড়িতে তোলার আগমুহুর্ত পর্যন্ত পুলিশ তাকে পিটিয়েছে। এরপর পুলিশ তাকে নিয়ে যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ এর ধারায় (সন্দেহজনকভাবে রা¯Íায় ঘোরাফেরার অভিযোগে) কোর্টে চালান দেয়া হয়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে তাকে ভর্তি করে কারা কর্তৃপÿ। তিনদিন পর আদালতে দোষ স্বীকার করে ২০০ টাকার জরিমানা দিয়ে মেজারুল জেল থেকে মুক্তি পান। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মেজারুল পবা উপজেলার নওহাটার আল আমান হাসপাতালে ১৬ দিন ধরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এখনও তিনি সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন ভুলতে পারছেন না। মেজারুলের অভিযোগের পরিপ্রেÿিতে পুলিশ সদর দপ্তর এর নির্দেশে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করে (স্মারক নং-নবিশা রাজশাহী স্মারক নং-৮২৮৪, তারিখ-২৬/১১/২০০৭)। এরপর তিনি ভোটার হন এবং বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পান (নম্বর-৮১১৭২২৭৫৬২৮১৫)।
রাজশাহীর পুলিশও মেজারুলের মামলার আসামিদের অর্থাৎ একাত্তরের রাজাকারদের পÿ নিয়েছে। মেজারুলের স্ত্রী চান্নেহার জানালেন, গত ২ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে শাহ মখদুম থানার ওসি আবদুল লতিফ ফোর্স নিয়ে বির¯Íইলের বাড়িতে আসেন। এসময় তাকে (মেজারুলের স্ত্রী চান্নেহারকে) উদ্দেশ্য করে ওসি বলেন, ‘তুমি বেয়াদব, তোমার স্বামীও বেয়াদপ। রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করা ঠিক হয়নি। তোমরা একাই মুক্তিযোদ্ধা নাকি আর কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি বুঝি’।
অতীতের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্বের চেতনার পÿের রাজনৈতিক শক্তি যখন রাষ্ট্র ÿমতায় অধিষ্ঠিত হয় তখন স্বাধীনতাবিরোধীরা মাথা চাঁড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। যদিও গোটা দেশের মানুষ এবার জামায়াত-শিবির তথা স্বাধীনতাবিরোধিদের প্রত্যাখ্যান করেছে ভোটের মাধ্যমে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াত-শিবির চক্র দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। ঠিক যেভাবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জামায়াত-শিবিরের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জঙ্গিরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। নির্বাচনের পর সাতÿীরায় জামায়াতকর্মীরা আওয়ামী লীগের এক নারী কর্মীকে হত্যা করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫ জানুয়ারি জঙ্গি মিছিল শো-ডাউন দিয়েছে শিবির ক্যাডাররা। আর রাজাকারদের বিরুদ্ধে মামলা করায় জামায়াত-শিবির চক্রের কারণে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শহীদ পরিবারের সন্তান মেজারুল।
তাই মুক্তিযুদ্ধের পরে নতুন সরকার তথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ও আহবান, মতা গ্রহণের পরপরই কালবিলম্ব না করে জামায়াত-শিবির চক্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে ফেলার জন্য বা¯Íবমুখী কার্যকর পদপে নেয়া হোক। উদ্যোগ দেয়া হোক গণহত্যার সাথে জড়িত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের। #

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মী
বাংলাদেশ, ০৫.০১.২০০৯।
www.humanrightstoday.info
jahangiralamakash@gmail.com


রাজাকারদের ছেলেমেয়েদের কি আমরা ঘৃণা করব না?

ব্রাত্য রাইসু | ৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১:৫৫ অপরাহ্ন

[সামহোয়্যারইনব্লগে এই পোস্টটা বাইর হয় ৩/১০/২০০৭-এ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পাওয়ারফুল অবস্থায় পোস্টটার সবিশেষ গুরুত্ব বিবেচনা কইরা বিডিনিউজ-এর বাংলা ব্লগে এইটা পোস্ট করলাম। সামহোয়্যারইনব্লগের মন্তব্যগুলা দেখার জন্য লিংক-এ ক্লিক করতে হইব। আর এইখানকার মন্তব্যগুলার একটা লিংক ওইখানে দিয়া দেব। - ব্রারা]

এরও আগে যেই প্রশ্ন জারী থাকে তা হলো মুক্তিযোদ্ধারা কি ঘৃণা সহকারে যুদ্ধ করছেন? যুদ্ধ করতে গেলে কি ঘৃণা অবশ্যম্ভাবী? জাতিঘৃণা বা এথনিক ক্লিনিজং-এ যারা খুশি বিশ্বাস রাখতে পারেন; আমি তাদের সঙ্গে নাই। যারা জাতিঘৃণা বা গোষ্ঠীঘৃণা করেন আমি তাদেরও ঘৃণা করি না।

আমার দেশ যদি কেউ আক্রমণ করে তবে কি মাতৃভূমি রক্ষার জন্য ঘৃণা অত্যাবশ্যকীয় জিনিস? যদি তাই হয় তবে সর্বশেষ শত্রুসেনাকে হত্যা করার আগ পর্যন্ত দেশপ্রেমিকরা কীভাবে থামবেন?

যারা রাজাকারের সন্তানের (এইভাবে আমি বলতে চাই না) পছন্দের লিংকে আমার নাম দেইখা আমারে রাজাকারের তালিকায় উঠাইতে চান, তাদের প্রতি বক্তব্য: কেউ যদি আমার লেখালেখি পছন্দ করেন আমার জন্য সেইটা আনন্দদায়ক। তিনি যদি খুনী বা ধর্ষণকারীও হন আমার তাতে আনন্দ কমবে না। আমি গোষ্ঠীর জন্য লিখি না। আমার উপ্রে কোনো ফরজ জারী নাই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া লেইখা ফাটাইয়া ফেলাইয়া আমার প্রমাণ করতে হবে না যে আমি রাজাকার নই।

আমি দেশপ্রেমে বা সীমান্ত প্রেমে বিশ্বাস রাখি না, কাজে কাজেই বিদেশ প্রেমেও না। আমার পাকিস্তান বা ভারতপ্রীতি নাই। বাংলাদেশপ্রীতিও না। ফলে আমারে রাজাকার বলা যাবে না। দেশের আইন যদি রাজাকারদের সন্তানদের ঘৃণা করার বিধান তৈরি করে আমি সেইটারও বিরোধিতা করব।

যদি কোনোদিন অন্য কোনো দেশ আমার নিজের দেশ আক্রমণ করে তখনো যেন সেই দেশের মানুষকে ঘৃণা করার মত অবস্থা আমার তৈরি না হয়। ঘৃণা ছাড়াই যুদ্ধ করা সম্ভব। তাতে যুদ্ধের পাপ হত্যাকারীকে স্পর্শ করে না। যদি আবার পাকিস্তানপন্থী বা নব্য ভারতপন্থীদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তার জন্য দেশপ্রেম ঘৃণা বা রাজাকারদের সংশ্রব এড়ানো কোনো কাজে আসবে না। কৌশল এবং তৎপরতাই কাজে আসবে। যারা গীতা পড়তে চান পইড়া নিয়েন। গীতা এই ব্যাপারে আমার চেয়ে ভালো বলছেন।

যারা জামাতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান তারা কেবল ঘৃণা দিয়াই তা সারতে চান। তাতে জামাত শক্তিশালী হয় মাত্র। জামাতের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো এজেন্ডা নাই। গণতন্ত্র বিরোধী একটা দলরে সবাই ভোটে অংশগ্রহণ করতে দিতেছে। মে বি তারা সকলেই রাজাকার হইয়া গেছে!

কমেন্টগুলা দেখার জন্য লিংকে ক্লিক করুন।


ঢাকার অদৃশ্য হাওয়া!

মোস্তফা মামুন | ২৮ ডিসেম্বর ২০০৮ ১২:২৬ পুর্বাহ্ন

মোস্তফা মামুন

গত কিছুদিন ধরেই নিজের স্থায়ী ঠিকানা থেকে নিয়মিত ফোন পাচ্ছি। আমার ধারণা যারা ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকে এবং এরকম একটা স্থায়ী ঠিকানা আছে দেশের কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের প্রত্যেকের কাছেই এমন ফোন আসছে। সবাই জানতে চায়, ঢাকার নির্বাচনী হাওয়া কোন দিকে বইছে? কারণ তারা জানে এবং বিশ্বাস করে ঢাকার হাওয়া মানেই সারাদেশের হাওয়া। ঢাকায় যারা জিতবে তারাই আসলে ক্ষমতায় যাবে। বিস্তারিত…


অচেনা এক বোন।

M. A. Zubair | ৮ ডিসেম্বর ২০০৮ ১২:৪১ অপরাহ্ন

সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাস ১৯৭১, সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে। আমরা তখন মেহেরপুর থাকি এইচ এস সি পড়ি। ঢাকায় যাব, আগের দিন ঝিনাইদহ এসে খালার বাসায় রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে বাসে উঠেছি। ঝিনাইদহের কয়েকজন স্বল্প পরিচিত/ মুখ চেনা ছেলেও একই বাসে উঠেছে। .. বিস্তারিত…