bdnews24.com banglablog

দেশ

আমরা কোথায় আছি!!!

বাহারুল ইসলাম | ১৬ এপ্রিল ২০০৯ ৬:২৬ অপরাহ্ন

বিগত ৩ মাসে বাংলাদেশের উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তা মনে হয় স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় ঝড়। এই ঝড়কে মোকাবেলা করার সামর্থ কি সরকারের নাই নাকি সরকারের মোকাবেলা করার স্বদ ইচ্ছা নাই। বাংলাদেশের সাধারন জনগন এই দুইটার একটা উত্তর বেছে নেবে এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারন জনগনের চিন্তা চেতনা অন্য দিকে ঘুরে গেছে না ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে তা আমি নিজেই বুজতে পারচি না। গত বুধবার (০৮/০৪/২০০৯) নাগাদ যেখানে সবার চিন্তা ছিলো পিলখানার হত্যাকান্ড, বসুন্ধরা সিটির অগ্নিকান্ড, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ত্রলীগের সংঘর্ষ, যুদ্ধ-অপরাধ ইস্যু ইত্যাদি কিন্তু এখন মানুষের চিন্তা- চেতনা অন্য দিকে ঘুরে গেছে না ঘুরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা চিন্তা করছে খালেদা জিয়া কি শেষ পর্যন্ত তার সেনানিবাসের বাড়ী ছাড়ছে নাকি ছাড়ছে না। আপনারা এখন একটু চিন্তা করে দেখুনতো আমাদের এখন মনে কোন ঘটনার উত্তর চাচ্ছে?

দেশ এখন কোন দিকে যাচ্ছ আমি নিজেই বুজতে পারছি না। পিলখানার ঘটনা হয়েছে প্রায় ৪৫ দিন আগে আজ পর্যন্ত তার তদন্তই শেষ হলো না। আরও ৩০ কার্য দিবস বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে তদন্ত কাজ। তার মানে আরো ৪৫ দিন। এদিকে বসুন্ধরার অগ্নিকান্ডের ঘটনাতো আমরা ভুলেই গেছি। সরকার কি তাহলে জনগনের চিন্তা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে চাচ্ছেন নাকি তারা দেশ পরিচালনা করতে হিমসিম খাচ্ছে। কোনটা সঠিক? তবে এটা বলা যায় বিগত ৩ মাসে বহিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি দারুন ভাবে খুন্ন হয়েছে। আমি মনে করি সরকার সকল মনযোগ জংগিবাদের দিকে দিতে গিয়ে এখন গোলক ধাধার ভিতর পড়ে গেছে।

খলেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ী ইস্যু নিয়ে বিএনপি কি আন্দলনের দিকে যাবে? আর সরকার কি যে কোন মুল্যে তা প্রটেক্ট করবে? তবে দেশ কি একটা অস্থিতিশীল পরিবেশের দিকে যাচ্ছে!!!!!!!!!!!!!!!!!!


আমরা কি আদো জানতে পরব এ সব গটনার মদদ দাতা কারা?

Muhammed Jamal Uddin | ৮ এপ্রিল ২০০৯ ১২:২৪ পুর্বাহ্ন

বিগত জোট সরকার, তত্তাবদায়ক সরকার, বত`মান সরকার সহ এ পয`ন্ত দশ টাক অশ্র্, জংগী ও বত`মান সেনা বিদ্র্হ এই সব বিষয় গুলির তদন্ত হেচ্ছে বিচার হেচ্ছে কিন্তু এসব গটনার আসল হোতা কারা, এদের মধদ দাতা করা, টাকার উৎস কোথা থেকে আসে তাকি কখনও উদ্ধঘাটিত হেবনা, জনগণ কি জানতে পারেবনা এটাই আমার প্রশ্ন জাতির নিকট।


একটি গুলি..একজন পুলিশকে বাঁচানোর চেষ্টা..এবং তারপর..মৃত্যু!

আমিনুল ইসলাম সজীব | ৮ মার্চ ২০০৯ ২:২৫ অপরাহ্ন

চারিদিকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ। মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি। এরই মাঝে ছুটে এসে একুশ বছরের এক ছাত্রের হাঁপাতে থাকা। হঠাৎই পাশে হাতে গুলি খেয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়া। পুলিশের লোকটিকে বাঁচাতে সেই ছাত্রের দৌড়ে যাওয়া। সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গুলির শব্দ। তারপর পুলিশকে বাঁচাতে যাওয়া সেই ছাত্রেরও মাটিতে লুটিয়ে পড়া। বার দুয়েক “আরাফাত আরাফাত” নাম উচ্চারণ করা। এবং তারপর…মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া।

না, যেকোন যুদ্ধের সিনেমার চেয়ে ভয়াবহ হলেও ঘটনাটি একটি বাস্তব সত্য। গত বুধবার বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তার পাশাপাশি নিহত হয় তিনজন সিভিলিয়ান। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন পিপলস ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বিবিএ’র ছাত্র খন্দকার তারেক আজিজ (ডাকনাম সজীব)। একুশ বছর বয়সী এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে দেশের প্রায় সবক’টি স্যাটেলাইট চ্যানেলে। কাকতালীয়ভাবে তারেক আজিজ সজীবের বড় বোন আমার বড় বোনের খুব কাছের বান্ধবী। তাই মর্মান্তিক মৃত্যুর দুঃসংবাদটা আমাদেরকেই প্রথম পেতে হয়েছিল।

তারেক আজিজ (সজীব) মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোন পায়েলের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই শুভ। বয়স আট কি নয় বছর। ঢাকার টোলারবাগে একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকতো সজীব। খুব উচ্ছল, প্রাণবন্ত একটি ছেলে ছিলো সে। প্রচুর কথা বলতো। খুব হাসাতে পারতো সবাইকে। এছাড়াও খুব মিশুক প্রকৃতির ছিলো। সবাইকে খুব সহজেই আপন করে নেয়ার ক্ষমতা ছিলো ওর। আমি অবশ্য সজীব ভাইয়াকে দেখিনি। আমি শুধু পায়েল আপু আর শুভকেই চিনতাম। দুঃসংবাদটি শোনার পর দেরি না করে আমি, আমার বোন আর দুলাভাই রওনা হলাম সজীব ভাইয়াদের বাসায়। রাত প্রায় এগারোটার দিকে পৌঁছলাম টোলারবাগস্থ ফ্ল্যাটে। সেখানে ছিল এক করুণ পরিস্থিতি। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি গতকালের প্রাণচঞ্চল যুবক আজ লাশ হয়ে পড়ে থাকবে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। অথচ কল্পনাকেও হার মানিয়ে ঠিকই নিষ্ঠুর বাস্তবতা সজীবকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের গুলিতে নিহত করে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

সজীব ভাইয়ার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ছেলের রক্তাক্ত চেহারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে বারবার চিৎকার করে উঠছিলেন। বিডিআরের একটি গুলি তারেক আজিজ সজীবের মাথার একপাশে লেগে মাথা ভেদ করে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তার মৃতদেহ কয়েকজনে মিলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বারবার প্রদর্শিত হয় চ্যানেল আইসহ বেশকিছু চ্যানেলে, যা দেখে বারবার কেঁদে উঠছিলেন সজীব ভাইয়ার মা। অন্যদিকে সজীবের বাবা অনেক শক্ত। নিজেকে সামলাতে পেরেছিলেন তিনি। কারণ তিনি জানতেন, পরদিন (বৃহস্পতিবার) তাকে অনেক কাজ করতে হবে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে পোস্ট মর্টেম করানোর পর লাশ আনতে হবে। তারপর আবার তাকে তাদের দেশের বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না। তবে তার চোখও সময় সময় ভেজা দেখা যাচ্ছিলো। টেলিভিশনের পর্দায় ছোট ভাইয়ের ছবি দেখে বড় বোন পায়েল আপুও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলো না। বড় আদরের ভাই ছিলো ওর।
আর ছোট ভাই শুভ। ওর কান্না থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সজীব ভাইয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ টিভিতে দেখার পর তার সে কি প্রশ্ন! “বিডিআররা আমার ভাইকেই কেন মারলো? বিডিআররা আমার ভাইয়ার কাছে টাকা চাইতো, তাহলেই তো টাকা দিয়ে দিতো। কী দোষ করেছিলো আমার ভাইয়া? গুলি মাথায়ই লাগলো কেন? পায়ে বা হাতেও তো লাগতে পারতো? বিডিআর গুলি কেন করলো? আমি বিডিআরকে ছাড়বো না!” এরকম শত শত জবাব না জানা প্রশ্ন করে যাচ্ছিল শুভ একনাগাড়ে। এভাবে একসময় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লো শুভ।
ঘরের অন্যান্য সদস্যদেরও একই অবস্থা। কেউ কথা বলছিলো না, কেউ পাথরের মতো চুপচাপ বসেছিলো। কেউ বা আবার স্মৃতিচারণ করছিলো সজীবের বেঁচে থাকার সময়কার স্মৃতিময় কথা। সজীবের খুব কাছের বন্ধু আরাফাত, যার নাম গুলি খাওয়ার পরপর মুখে এনেছিল সজীব। সে বললো, দুপুর আড়াইটার দিকে অচেনা এক নাম্বার থেকে ফোন রিসিভ করে সে। অপরিচিত একজন লোক জানায়, পুলিশের লোককে বাঁচাতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তারেক আজিজ। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি তিনি সত্যি কথা বলছেন। পরে অবশ্য ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে পোস্ট মর্টেমের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।

রাতে থমথমে এক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সজীবের ঘরে। কারো চোখে ঘুম নেই। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলো না সজীব আর নেই। আর কোনোদিন কথা বলে সারা ঘর মাথায় তুলবে না সজীব। সজীবের বাবা জানায়, কিছুদিন আগেও নাকি সজীব বলছিলো, “আমাকে ঘরেই সবাই শুধু অভদ্র অভদ্র বলে ডাকে। বাইরে সবাই আমাকে ভালো জানে। দেখে নিয়ো, আমি এমন কোন ভালো কাজ করবো, যাতে সব টিভি চ্যানেলে আমাকে ফলাও করে দেখানো হয়।” তখন তো আর সে ভাবতেও পারেনি, টিভি চ্যানেলে তাকে দেখানো হবে ঠিকই, তবে জীবিত সজীবকে নয়, নিহত ও রক্তাক্ত সজীবের লাশকে।
রাতে জোরাজুরি করে শুতে যেতে বলল বাসার সবাই। সজীব ভাইয়ার খাটেই আমি শুয়েছিলাম। পাশে ছিলো শুভ ও তার বাবা। উল্লেখ্য, আমার ডাকনামও সজীব। তখন আঙ্কেল বলে উঠলেন, কাল এই বিছানায় শুয়েছিল সজীব। আজও এই বিছানায় সজীব শুয়ে আছে। কিন্তু আমার সজীব আর নেই!

রাত তিনটায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন সজীব ভাইয়ার বড় বোন পায়েল আপুও বারান্দায় গেলো। বললো, গতকালও এই সময় সজীব পাশের ঘরে ঘোরাঘুরি করছিল। আমার আগে ও কোনদিন শুয়ে পড়তো না। অথচ আজ ও আমার আগেই শুয়ে আছে। মর্গে।

পায়েল আপুকে সান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা ছিলো না।

[এতো এতো উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তার মৃত্যুর আড়ালে হারিয়ে গেছে তিনজন সাধারণ মানুষের করুণ মৃত্যুর কথা। আমরা যদি স্বাভাবিকভাবে বিচার করি, তাহলে দেখবো, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার আগে তাদের প্রত্যেকেরই একটা পরিচয় আছে। সেটা হলো এই যে, তারা মানুষ। একইভাবে নিরাপরাধ তিনজন বেসামরিক ব্যক্তিও মানুষই ছিলেন। সাধারণ রিক্সাওয়ালা বা সজীবের মতো তরুণদের বেঁচে থাকার অধিকার সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিন্তু তাদের কথা বলার কেউ নেই। মূলত এজন্যই এই পোস্টটি লিখি আমি। পোস্টটি সর্বপ্রথম ২৮শে ফেব্রুয়ারি সামহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়।]


পেপারের কাজ পেপার করেছে

Naznin Nahar | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১:৩৯ অপরাহ্ন

পেপারের কাজ পেপার করেছে
ছাত্রলীগের ভুলটা ধরেছে।
ছাত্ররা সব গুন্ডারাজ
রাজনীতিতে ধlন্দlবাজ,
রাজনীতির নামে দুর্নীতি করে
বন্দুক নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে।
এটাইতো পেপারে এসেছে,
জণগন তা পড়ে ফেলেছে।
এতে সরকারের কি যায় আসে,
দেশটা যে মোদের এভাবেই চলছে!


আমােদর েদেশ পিরবতর্ন আমারা িক েদখেত পাব না।

Muhammed Jamal Uddin | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ ১১:১৮ পুর্বাহ্ন

বতর্মান সংসেদ সরকার ো িবেরাধী দল আসন বন্টন িনেয় েয অচল অবস্থা সৃিষ্ট হেয়েছ তা েদেখ সত্যই মম~াহত, একই কেক্ষ্য বসা িনেয় এত িকছু যােদর মােদর তােদর প্রিত িক আশা করা যায়।


শীতার্ত মানুষের বাঁচার লড়াইয়ে সামিল হোন!

Arshad Ali | ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:১১ পুর্বাহ্ন

প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ) একটি বিপ্লবি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৯৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বষের্র একদল তরুন স্বেচ্ছাসেবায় উদ্যোগী হয়ে গড়ে তোলে প্রপদ। তারুন্যের সেই অগ্রযাত্রা শুধু ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর, কুমিল্লা, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, জকিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যাতর্দের পাশে এরা দাঁড়িয়েছে সহযোগীতা ও মুক্তির গান নিয়ে। সাধারণ জনগণের সাথে নীরব যোগাযোগ প্রতিষ্টা, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ ও সমাধানের উপায় অনুসন্ধানে প্রপদ সবর্দাই নিবেদিত। দুগর্তদের মাঝে যাওয়া, তাদের সমস্যার কারণ বিশ্লেষণ করে স্থায়ী সমাধানের উপায় অনুসন্ধান, মানুষের দুঃখ কষ্ট কাছাকাছি থেকে পযর্বেক্ষণ করার এই ধারাবাহিক পথ পরিক্রমায় গড়ে উঠেছে সচেতন চিন্তা, সংগ্রামী পথযাত্রা। তারুণ্যের সেই স্বেচ্ছসেবা নিজস্ব গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রুপান্তরিত হয়েছে স্বেচ্ছাশ্রম ও সংগ্রামে। গড়ে উঠেছে নাটকের দল, গানের দল, প্রকাশনা। যা কথা বলে দেশ, জাতি ও এদেশের সাধারণ মানুষের। জনগণকে সংগঠিত করে তার সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হওয়ার আহবান জানায় প্রপদ। প্রপদ এর কাযর্ক্রমের ধারাবাহিকতায় এখন চলছে ১৩তম শীতার্ত সহযোগীতা কাযর্ক্রম। স্বেচ্ছাশ্রমিক আহবান, গণঁচাদা সংগ্রহ, পুরাতন বস্ত্র সংগ্রহ, প্রচার ও বিতরণ চলছে। প্রচার ও সংগ্রহের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দুটি টিম। সংগ্রহের পরের আসে বিতরনের কাজ। শীত দুর্গত এলাকায় গিয়ে ঘরে ঘরে জরিপ চালিয়ে ভুক্তভোগীর তালিকা তৈরি এবং মতবিনিময় করা হয়। প্রচারণার টিম প্রচারণার কাজ করে-গায় গণসঙ্গীত, মঞ্চস্থ হয় নাটক, যেখানে ফুটে ওঠে জনগণের মুক্তির সংগ্রামে সংগঠিত হোয়ার আহবান। সবশেষে হয় বিতরণ। যেকোনো প্রভাবমুক্ত থেকে পুরো কাজটি সমন্বয়ের জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় টিম। শীত বস্ত্র বেশীরভাগই বিতরণ হয় উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের মাঝে। প্রপদ এর প্রত্যেকটি কাজেই থাকে ছেলেদের সমান অংশগ্রহণ। ১৯৯৩-এ শুরু হোয়া তারুণ্যের সেই পথচলা আজ পৌঁছে গেছে ব্যাপক জনগণের মাঝে। যা এই এক সময় মুক্তির মিছিলে রূপ নেবে এই প্রত্যাশাই করে প্রগিতর পরিব্রাজক দল (প্রপদ)। প্রপদ এর যেকোন কাজে অংশগ্রহণসহ সহযোগীতার জন্য যোগাযোগ করুন
প্রগতির পরিব্রাজক দল (প্রপদ)
কেন্দ্রীয় কার্যালয়
ডাকসু ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল-propod_ppd@yahoo.com
মেবাইলঃ ঢাকা-০১৭১৮৯০৫০৬০
সিলেট- ০১৭২৩৬৯৮২৪৬
চট্টগ্রাম- ০১৭১৮১৩৪০১৮
রংপুর-০১৭২৭৬৬১১২৯
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়-০১৯১৬৩৩৭৯৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- ০১৯২১৬৩৮৫৪৫
শাবিপ্রবি, সিলেট-০১৭১৪৩৩০৫৩০
নিলফামারী-০১৯২২১২৮৫৫২
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)-০১৯১৮৫৫৪০৬১
হবিগঞ্জ-০১৭২৪০৫৯৭৯২
কুমিল্লা-০১৭১৭৭৪০১০৬


ভোটের জন্য আহবান

Naznin Nahar | ১৬ জানুয়ারি ২০০৯ ৪:৩৪ অপরাহ্ন

সুন্দরবন ও কক্সবাজার বাংলাদেশের সৌন্দর্য
এদেরকে রক্ষা করা মোদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
যদি এরা উঠে যায় সপ্তাশ্চর্যের তালিকায়
এ দেশ পৌছে যাবে বিশ্ব পরিচিতির চুড়ায়।
তাই তো দেশের হয়ে সবাইকে করি আহবান,
অনলাইন ভোটিং করে দিয়ে দাও তাদের যোগ্য স্থান।


প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।

ফখরুল ইসলাম | ১১ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২৩ পুর্বাহ্ন

আজ আমার সামনে একজন প্রতিবন্ধীকে তিরস্কার করতে দেখে মনে খুব ব্যাথা পেলাম।আরো বেশী দুঃখ পেলাম প্রতিবন্ধি লোকটির পরিচিত একজনের কাছে তার অতিত জীবনের গল্প শুনে। সে একসময় প্রতিবন্ধি ছিলনা,ভাল থাকা অবস্থায় এ লোক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধিকে তিরস্কার ও তাচ্ছিল্য করত। একদিন তার এলাকার ব্রেইন প্রতিবন্ধি আলম নামে এক লোককে তিরস্কার করার সময় আলম তাকে চায়ের দোকানের আধা পোড়া লাড়কি দিয়ে আঘাত করে, লোকটি বিলম্ব না করে আলমকে প্রচন্ড ভাবে মেরে রক্তাক্ত করে। আলম নাকি সেদিন সারাদিন কান্নাকাটি করেছে, কেউ তাকে সান্তনা দিতে পারেনি, বরং সান্তনা দিতে চাইলে আর ও বেশী কাদত, এ ভাবে একবার সেজদায় পড়ত আরেকবার বুক থাপড়াত সেই সাথে অভিশাপের বানীত ছিল। বেশীদিন যায়নি মাত্র আট মাসের মধ্যে
প্রহারকারী লোকটি পাগল হয়ে গেল। আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা কানে শোনে না, চোখে দেখে না, কথা বলতে পারে না এসব শারীরিক সমস্যার কারণে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। পাশাপাশি কিছু দুষ্ট লোক আছে যারা এসব শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাথে নানাভাবে ঠাট্টা মশকরা করে কিংবা তাদের কষ্ট দেয়। যারা এসব অপকর্ম করে তাদের পরিণতি কক্ষনো ভাল হয় না। এ সম্পর্কে একটি গল্প উপস্থাপন করছি, গল্পটি এইরকম
এক দেশে সালমান নামে এক বৃদ্ধ মুদি বাস করতো। সে কানে খুব কম শুনতো। কানের কাছে গিয়ে খুব জোরে কথা বললেই সে শুনতে পেতো। এজন্য লোকজন তাকে কালা সালমান বলে ডাকতো। সালমানের পাশে মহল্লায় শাবান নামে এক যুবক বাস করতো। শাবানের একটা বদ অভ্যাস ছিল। সে দোকানদারদের কাছ থেকে বাকীতে জিনিস কিনতো কিন্তু টাকা দেয়ার বেলায় ফাঁকি দিতো। তাই দোকানীরা তার কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করতো না। একদিন শাবান এলো সালমানের দোকানে । সে কিছু জিনিস বাকীতে নিতে চাইল। বৃদ্ধ সালমান জানতো যে, শাবানকে একবার বাকী দিলে সে টাকা আর পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে শাবানকে বলল, আমি বাপু লেখাপড়া জানিনে, বুড়ো মানুষ তাই মনেও রাখতে পারিনে। তাই বাকীতে কোন কিছু বিক্রি করবো না। একথা শুনে শাবানের খুব রাগ হলো। এরপর থেকে সে সব সময় কালা সালমানকে বিরক্ত ও ঠাট্টা মশকরা করতো। সে তার বখাটে বন্ধুদের বলতো, যা, সালমানের সামনে গিয়ে শব্দ না করে শুধু ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বল। শাবানের দুষ্ট বন্ধুরা যখন বুড়ো সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো তখন সে শুনতে না পেরে বলে উঠতো, তোমরা কি চাও, একটু জোরে বল । তখন শাবান এগিয়ে গিয়ে জোরে বলতো, চাচা তুমি বধির নাকি ? আমার বন্ধুরা তো তরকারি চাচ্ছে। শাবানের কথায় তার বন্ধুরা হেসে উঠতো। সালমান এতে বিরুক্ত হয়ে বলতো , আমার কাছে তরকারী নেই। এটা তরকারির দোকান নয়, মুদির দোকান।শাবানের বখাটে বন্ধুরা বৃদ্ধের কথায় আবারো হাসিতে ফেটে পড়তো।পরদিন শাবান ও তার বন্ধুরা আবারো যেতো সালমানের দোকানে। তাদের একজন সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো। সালমান কিছুই শুনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলে শাবান এগিয়ে যেতো এবং বলতো,
চাচা তুমি কি কালা ? আমার এ বন্ধু দুই গজ কাপড় চাচ্ছে। শাবানের কথায় বন্ধুরা হেসে উঠতো। অন্যদিকে বৃদ্ধ মুদি বিরক্ত হতো।

একদিন শাবানকে একা পেয়ে বৃদ্ধি মুদি বললো, দেখ্‌ শাবান! তুই ভাল করেই জানিস যে আমি কানে কম শুনি। কিন্তু তারপরও তুই আমাকে অযথায় কষ্ট দিচ্ছিস কেন ? এই যে আমি কম শুনতে পাই,এটা আমার একটা রোগ। এতে আমার অপরাধ কি দেখলি ? মনে রাখবি, এভাবে মানুষকে অযথা কষ্ট দিলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।বৃদ্ধের কথা শুনে শাবান বললো, ঠিকাছে তোমাকে আর কষ্ট দেবো না যদি আমাকে বাকীতে মাল দাও ।শাবানের চালাকী বুঝতে পেরে সালমান বললো, না, কক্ষনো তোকে বাকীতে মাল দেবো না। এরপর শাবান বললো, তাহলে আমিও তোমাকে বিরক্ত করতেই থাকবো।শাবানের কথা শুনে বৃদ্ধ সালমান খুব দুঃখ পেল। এরপর বললো, তুই আমার মত বুড়ো মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছিস একদিন দেখবি তোরও এ রকম অবস্থা হয়েছে।
এ ঘটনার কিছুদিন পরের কথা। একদিন শাবান টের পেল, তার কানে কি যেন হয়েছে। সে সবকিছু ভালভাবে শুনতে পাচ্ছে না। একদিন সে তার পরিচিত লোকের সাথে আলাপ করার সময় কথাবার্তা না শুনেই সে উল্টো জবাব দিয়ে দিলো। এতে ঐ লোকটি হেসে উঠলো এবং বলল, কিরে তুই কালা হয়ে গেলি নাকি ? শাবান এ কথা শুনে খুব কষ্ট পেল। এরপর থেকে সে কারো সাথে কথাবার্তা বলার সময় সমস্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতো যাতে সঠিক জবাব দিতে পারে এবং উপহাসের পাত্র না হয়। কিন্তু শাবান যতই চেষ্টা করতে লাগলো ততই তার কান ভারী হয়ে এলো। দেখতে দেখতে সে সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেলো।বধির হয়ে গেলেও সে মানুষকে তা বুঝতে দিতো না।
একদিন সে জানতে পারলো যে, পাশের মহল্লার এক কসাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই তাকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কসাইয়ের বাড়ীর উদ্দেশ্যে যেতে যেতে সে ভাবলো, রোগী দেখতে গিয়ে প্রথমে সালাম দেবো। সে সালামের জবাব দিলে জানতে চাইবো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ? সে হয়তো বলবে, স্যূপ, বনরুটি কিংবা অন্যকিছু খাচ্ছি। আমি বলবো, খুব ভাল ব্যবস্থা। এটাই তোমার উপযুক্ত পথ্য। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার অবস্থা এখন কেমন ? সে নিশ্চয়ই জবাব দেবে, কিছুটা ভালোর দিকে। আমি তখন বলবো, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার ডাক্তার কে ? তখন সে নিশ্চয়ই কোন ডাক্তারের নাম বলবে । আমি তখন বলবো, তিনি তো খুব ভাল ডাক্তার। এ ঘরে তার শুভাগমন হোক। এরপর খোদাহাফেজ বলে চলে আসবো । ব্যস, খুব সোজা কাজ।
বধির শাবান এসব প্রশ্ন-উত্তর মনে মনে তৈরি করে পৌছে গেল কসাইয়ের বাড়ীতে । রোগীর ঘরে প্রবেশ করেই সালাম বিনিময় করলো। রোগীর অবস্থা তখন খুব খারাপ যাচ্ছিল। শাবান তার হাত দিয়ে রোগীর বাহু ধরে জিজ্ঞেস করলো, তোমার অবস্থা কেমন ভাই, কিছুটা ভাল হয়েছে ?
রোগী গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে বললো, না বাবা, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একেবারে মরে যাচ্ছি।
শাবান বলল : আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহর বহুত শুকরিয়া ।
রোগী শাবানের কথা শুনে বিরক্ত বোধ করলো। রোগীর পাশে যারা ছিল তারাও বিষ্মিত হয়ে গেল। এরপর শাবান জিজ্ঞেস করলো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ?
রোগীর মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি হয়ে গিয়েছিল। তাই সে জবাব দিলো, যন্ত্রণা খাচ্ছি, মরণ খাচ্ছি, সাপের বিষ খাচ্ছি।
শাবান বলল : খুব ভাল পথ্য । তোমার মতো রোগীর জন্য এসবই উত্তম।
শাবানের কথা শুনে রোগীর মেজাজ আরো বিগড়ে গেল। রোগীর এক আত্মীয় বললো, এই ব্যাটা, এসব কি যা-তা বকছিস ? রোগীর সাথে তোর কোন শত্রুতা আছে নাকি ?
শাবান লোকটির কথা কিছুই বুঝতে পারলো না। তাই জবাবও দিলো না। কিছুক্ষণ পর সে আবারো রোগীকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার ডাক্তার কে ভাই ?
রোগী রেগে গিয়ে বলল : আজরাইল, আজরাইল আমার ডাক্তার।
শাবান বলল, বেশ ভাল ডাক্তার। এ বাড়ীতে তার আগমন শুভ হোক। তার মতো ডাক্তারই হয় না।
শাবানের কথা শুনে রোগী চেঁচিয়ে ওঠে বললো, এ ব্যাটাকে এখান থেকে ঘাড় ধরে বের করে দাও। এই আহম্মক আমাকে নিয়ে তামাশা শুরু করেছে।
ঘরের লোকজন শাবানের হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে এলো এবং বললো, ব্যাটা তুই আস্ত একটা বদমাশ। রোগী তোর সাথে কি দুশমনি করেছে যে তার সাথে এরকম করছিস ? রোগীর একজন আত্মীয় এসে শাবানকে ধাক্কা মেরে রাস্তার দিকে ঠেলে দিলো। আরেকজন তেড়ে গেল তাকে মারতে। সবার মারমুখী অবস্থা দেখে শাবান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সে চিৎকার করে বলে উঠলো, তোমরা আমাকে মারতে চাচ্ছো কেন ? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি ?
রাস্তার হৈ চৈ শুনে পাশের বাড়ী থেকে একজন যুবক বেরিয়ে এলো। সে ছিল বুড়ো মুদি সালমানের পুত্র। লোকদের কাছে শাবানের উল্টাপাল্টা জবাব শুনে সে শাবানকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি ?
শাবান ভাবলো যুবক তাকে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এখানে কেন এসেছিলে? তাই সে জবাব দিলো, ঐ বাড়ীর কসাই বেচারা অসুস্থ তাই তাকে দেখতে এসেছিলাম। শাবানের উল্টাপাল্টা উত্তর শুনে যুবকটি আসল রহস্য বুঝতে পারলো। এরপর যুবকটি পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম বের করে তাতে লিখল, তুমি কি লেখাপড়া জানো ? লেখাটি শাবানের সামনে তুলে ধরতেই সে বলে উঠলো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি লেখাপড়া জানি । এ কথা শুনে যুবকটি বুঝতে পারলো যে, এ বেচারাও তার বাবার মত কানে কম শুনে কিংবা একেবারেই শুনে না। কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে সে তার অক্ষমতার কথা কারো কাছে ফাঁস করতে চায় না। যুবকটি এবার উত্তেজিত জনতাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বিদায় করলো। এরপর সে কাগজের উপর লিখল, শোন ভাই, বধির হওয়া কোন অপরাধে বিষয় নয়। এতে লজ্জা শরমের কি আছে ? আমার বাবা সামলান মুদিও বধির। তাতে কি ? এটা তো একটা রোগ। কিন্তু তুমি তোমার দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে মানুষের কথাবার্তার উল্টাপাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছো। মানুষ এতে কষ্ট পাচ্ছে এবং বিরক্ত হচ্ছে। তার চেয়ে তুমি যদি মানুষকে বল যে, তুমি কানে শুন না তাহলে কোন বিপদ নেই। কেউ তোমাকে ভুল বুঝবে না। নিজের অহংকার ত্যাগ করে এখন থেকে বল যে, আমি বধির। তাহলেই বেঁচে যাবে। নইলে মারধোর তোমার ভাগ্যে নিশ্চিত।
কাগজের লেখাগুলো পড়ার পর শাবানের হুশ হলো। সে বলল, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তুমি ঠিকই বলেছে। একসময় আমি তোমার বাবার সাথে ঠাট্টা মশকরা করতাম, তাকে অযথা কষ্ট দিতাম। আজ আমি তওবা করলাম। আর কাউকে মশকরা করবো না। এরপর থেকে শাবান তার পকেটে সবসময় কাগজ কলম রাখতো। যখনি কেউ তার সাথে কথা বলতে আসতে তখনি সে কাগজের ওপর লিখে জানাতে আমি বধির। আমার সাথে কোন প্রয়োজন থাকলে এই কাগজে লিখে জানান। আমি পড়তে জানি, লেখাপড়ে জবাব দেবো। তাই আসুন আমরা প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে জামায়াত-শিবির মুক্ত করতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের ভিসি প্রোভিসি করা জরুরি

jahangiralamakash | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৫ অপরাহ্ন

জাহাঙ্গীর আলম আকাশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ও উপ-উপাচার্য (প্রোভিসি) পদে নিয়োগ পাবার লক্ষ্যে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা সরকারের উচ্চমহলে ব্যাপক লবিং-গ্রুপিং শুরু করেছেন। পদ-পদবি নিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মাঝে কোন্দল, দলাদলি, আঞ্চলিকতা, গ্রুপিংও বাড়ছে সমানতালে। সাধারণ শিক্ষকদের অভিমত, মৌলবাদী অপশক্তির গ্রাস থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা ও চেতনাগত পরিবর্তন আনতে চাইলে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলকে অত্যন্ত বিচক্ষণ বিবেচনার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা জামায়াত-শিবির স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা এমন মন্তব্য করেছেন।
শিক্ষকরা জানান, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও তৎপরবর্তী দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে যে অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাতে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কাউকে ভিসি বা প্রেভিসি নিয়োগ করা না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ধকার অবস্থা দূর হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে মহাবিজয়ের পরপরই ভিসি ও প্রোভিসি পদে নিয়োগ প্রত্যাশী আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। এদের মধ্যে অন্তত: অর্ধ ডজন শিক্ষক আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। অনেকেই আবার ঢাকায় অবস্থান করছেন।
সূত্র মতে, শিক্ষকদের মধ্যে আঞ্চলিকতা প্রবণতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চল, রাজশাহী অঞ্চল, রংপুর অঞ্চল এবং যমুনার ওপারের অঞ্চলের কয়েকজন প্রভাবশালী শিক্ষক ভিসি হবার জন্য লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপকভাবে। লবিং চালিয়ে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের অতীত সুবিধাবাদী আচরণ আলোচিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষকদের মুখে মুখে।
কলা অনুষদভুক্ত একটি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একজন শিক্ষক, বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের অধীন দু’টি বিভাগের প্রথম সারির দুইজন অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশি দিন আগের কথা নয় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেফতারের পর ভিসি ও প্রেভিসি হবার জন্য লবিংকারী অধ্যাপকদের ভূমিকা দারুনভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে। অথচ ওইসময় বিএনপি সমর্থক সিনিয়র অধ্যাপকরা গ্রেফতার হওয়া শিক্ষকদের প্রতি সহানুভুতিশীল ছিলেন। কিন্তু আওয়ামীপন্থি সিনিয়র অধ্যাপকদের অনেককেই প্রশাসনের সাথে লিঁয়াজো করে চলতে দেখা গেছে। এসব শিক্ষকদের একই ধরনের আচরণ ছিল বিএনপি-জামায়াত জোর সরকারের আমলেও। ভিসি প্রেভিসি হতে চাচ্ছেন এমন কতিপয় আওয়ামীপন্থি অধ্যাপক (যারা লবিং চালাচ্ছেন) বিএনপি-জামায়াত সমর্থক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দহরম মহরম করে চলেছেন।
শিক্ষকরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুইটি পদ নিয়ে আওয়ামপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে কামড়া কামড়ি চলছে। এই অবস্থায় নিদেনপক্ষে হলেও বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক আবদুল খালেক ও অধ্যাপক সাইদুর রহমান খান এর মধ্য থেকে যে কোন একজনকে ভিসির দায়িত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যেতে পারে। এই দুই অধ্যাপক তুলনামূলক বিচারে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য।
উল্লেখ্য, মূলত: ১৯৯০ সালের পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মৌলবাদী জামায়াত-শিবির চক্রের হাতে নিয়ন্ত্রিত। এখানকার সর্বস্তরে মৌলবাদী চরিত্র স্থায়ীভাবে বাসা বেঁধেছে। এই অবস্থায় চেতনাগত পরিবর্তনের লÿ্যে যোগ্য এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের শীর্ষ দুই পদে না বকসালে জামায়াত-শিবিরের ভুত তাড়ানো সম্ভব হবে না বলে আওয়ামীপন্থি সাধারণ শিক্ষকরা মনে করছেন। #
http://www.humanrightstoday.info


আশুরার গুরুত্ব

ফখরুল ইসলাম | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৫ অপরাহ্ন

আরবী নব বর্ষের প্রথম মাস হল মহররম মাস। মহররম মাস মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ন ও মর্যাদাপুর্ন মাস। মুহররম শব্দের অর্থ হারাম বা নিষিদ্ধ, কোন জাতী বা গোষ্ঠী মুসলমানদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে না দিলে এ মাসে মুসলমানদের জন্য কোন প্রকার যুদ্ধ করা হারাম বিধায় এ মাসের নাম রাখা হয়েছে মুহররম মাস। ইসলাম ধর্মানুসারীদের মতে প্রত্যেক আরবী মাসের বিশেষ বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা থাকলে ও এমাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা অন্য মাসের তুলনায় বেশী ও ব্যতিক্রম। এমাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক বিস্ময়কর ও রহমত পুর্ন কাজ সম্পাদন করেছেন যা মুসলমানদের ইতিহাসে অবিস্মরনীয় হয়ে আছে এবং পৃথিবী ধংসের পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত থাকবে। এমাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা ব্যাখ্যা করা আমার মত স্বল্প জ্ঞানী ব্যক্তির পক্ষে কোন প্রকারে সম্ভব নয়।তবু ও এমাসের ১০ তারিখের বিশেষ কয়েকটি রহমতপুর্ন ঘটনা ক্ষুদ্র পরিসরে আমি উল্লেখ করতে চেষ্টা করছি।
১। এ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষব করে।
২। আদম (আঃ) কে সৃস্টির পর এ মাসের ১০ তারিখে প্রথম তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।
৩। হযরত আদম(আঃ) এর অপরাধের কারনে জান্নাত থেকে দুনিয়াতে প্ররনের পর
অনেক কান্নাকাটির কারনে এ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তার তওবা গ্রহন করে অপরাধ ক্ষমা করেছিলেন।
৪।হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত ঈসা (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে পয়দা হয়েছিলেন।
৫। হযরত মুসা(আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে ফেরাউনের সাথে জয়লাভ করেছিলেন এবং
ফেরাউন এ মাসের ১০ তারিখে নীল নদীতে ডুবে মরেছিল।
৬। হযরত আইয়ুব (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে পচন রুগ হতে মুক্তি পেয়েছিলেন।
৭। হযরত নুহ (আঃ) আমলে বন্যার পানি এ মাসের ১০ তারিখে শুকিয়ে শেষ হয়েছিল।
৮। হযরত ইউনুছ (আঃ) এ মাসের ১০ তারিখে মাছের পেট হতে বাহিরে আসতে পেরেছিলেন।
৯। এ মাসের ১০ তারিখে কেয়ামত সংঘটিত হবে।
১০। এ মাসের ১০ তারিখে কারবালার মরু প্রান্তরে মহানবীর আদরের নাতী হোসাইন (আঃ) ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে এক নজীরবিহীন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইমাম হোসাইন (আ) ইসলামের সঠিক বার্তাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন। নৈতিক , চারিত্র্যিক এবং মানবীয় সকল অসৎ গুণাবলী যাদের ছিল মজ্জাগত , তারা ইসলামী খেলাফতকে পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে ভোগ করতে গিয়ে ইসলামের সুমহান আদর্শকেই কলঙ্কিত করতে বসেছিল। ইসলামের নামে এই স্বেচ্ছাচার নবী তণয় ইমাম হোসাইন (আ) কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি। উপরন্তু খেলাফতের অধিকার ছিল ইমাম হোসাইন (আ) এর। অথচ উমাইয়া শাসক মুয়াবিয়ার সাথে ইমাম হাসানের (আ) চুক্তি ভঙ্গ করে মুয়াবিয়া-পুত্র ইয়াযিদ ক্ষমতার আসনে বসেই তার সামনের সবচে বড় চ্যালেঞ্জ ইমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগে যায়। ইমাম হোসাইন (আ) এই সঙ্কটকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবেলা করেন, যাতে বিশ্ববাসী প্রকৃত সত্য সম্পর্কে অবহিত হবার সুযোগ পায় এবং ইসলামের প্রকৃত বার্তা ধীরে সুস্থে হলেও সবার কাছে পৌঁছে যায়। সমাজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ইমাম হোসাইনের সেই আন্দোলনকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা হয়। কালের অমোঘ পরিক্রমায় দেখা গেছে, ভালো এবং মন্দের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে এসেছে আদিকাল থেকে। সত্যের পক্ষে কোনো কোনো সংগ্রাম ছিল দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আবার কোনো কোনো সংগ্রাম ছিল অত্যাচারীদের রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে অস্পষ্ট। ইমাম হোসাইন (আ) এর যে আন্দোলন তা ছিল তৎকালীন শাসকবৃন্দের ইসলামবিনাশী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট সংগ্রাম। যদিও সে সময়কার জনগণের কাছে অজ্ঞানতার কারণে তা ছিল রাজনৈতিক মেঘে ঢাকা সূর্যের মতো অস্পষ্ট। যার ফলে তখন ইসলাম অনুরাগীরাও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলাচলে ভুগেছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ ব্যাপক গবেষণা আর ইতিহাস পর্যালোচনায় প্রকৃত সত্য উদ্ভাসিত হয়ে গেছে সবার সামনে। গবেষকরা আজ ইমাম হোসাইনের সেই সংগ্রামের যথার্থতা খুঁজে পেয়েছেন। এতোকাল পর তাঁর আন্দোলনের যথার্থতা খুঁজে পাওয়ার মধ্যেই অনুমিত হয় যে ইমাম হোসাইনের সেই আন্দোলন কতো সুদূরপ্রসারী ছিল।সমাজ বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে ইমাম হোসাইনের আন্দোলনের মূল্যবোধগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়। এসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধটি হলো তাঁর সহজাত সত্যনিষ্ঠা ও অবিচল সততা। আসলে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু সহজাত বৈশিষ্ট্য থাকে। ঐ বৈশিষ্ট্যের আলোকেই তাঁর জীবনের সকল কিছু পরিচালিত হয়। ইমাম হোসাইন (আ) এর জীবনের বৈশিষ্ট্যও ছিল এরকম দৃঢ় সততায় সমৃদ্ধ। তার কারণ ইমাম হোসাইনের জীবনের যে মূল্যবোধগুলো ছিল,সেগুলো স্বয়ং রাসূলে খোদার আদর্শ ও শিক্ষা থেকে প্রাপ্ত।

রাসূলের শিক্ষা মানেই হলো আল-কোরআনের শিক্ষা। আর আল-কোরআনের শিক্ষা হলো অনৈসলামি বা খোদাদ্রোহী শক্তির কাছে মাথানত না করা, শাহাদাৎকামিতা, নিজস্ব আদর্শকে সমুন্নত রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা। হোসাইনী আন্দোলনের মূল্যবোধগুলোকে দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। একটি ক্ষুদ্র, অপরটি বৃহত্তর মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধগুলোই ইমাম হোসাইনের আন্দোলনকে কালজয়ী স্থায়িত্ব বা চিরন্তন ঐশ্বর্য দিয়েছে। এইসব মূল্যবোধ ইমাম হোসাইনের মধ্যে যেমন ছিল তেমনি তাঁর সঙ্গী-সাথীদের মধ্যেও ছিল। ক্ষুদ্র মূল্যবোধগুলোর মধ্যে একটি হলো তাঁর সুদূরপ্রসারী ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী। সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গী বলতে রূপকার্থে বলা যায় , ইমাম হোসাইন একটা ইটের মধ্যেও যা স্বাভাবিকভাবেই দেখতে পেতেন অন্যরা তা আয়নাতেও দেখতে পেত না। আমরা এখন সেইযুগের পরিস্থিতি বিশে-ষণ করছি অথচ সেইযুগের মানুষেরা ইমাম হোসাইন ইবনে আলী যেরকম বুঝতেন সেরকম বুঝতো না। হোসাইনী আন্দোলনের পেছনে ছিল একটা গভীর বোধ ও উপলব্ধি। এই বোধই তাঁর আন্দোলনকে মহান করে তুলেছে। এই উপলব্ধিটা হলো উমাইয়া শাসকরা যে খেলাফতির নেপথ্যে ইসলাম-বিরোধী কার্যকলাপ চালাতো, তা জনগণ প্রকাশ্যে দেখতে পেত না, কিন্তু ইমাম হোসাইন তাঁর দৃষ্টি প্রখরতার কারণে দেখতে পেতেন। ইমাম হোসাইন এযিদের ক্ষমতাসীন হবার কথা শুনে বলেছিলেন “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্যে এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবো ! হে ইসলাম বিদায় ! যখন উম্মতের জন্যে এযিদের মত ব্যক্তি নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়।” তাঁর এই উক্তি দূরদৃষ্টিরই পরিচায়ক, কেননা অন্যরা ইয়াযিদকে সেভাবে চিনতে পারে নি, যেভাবে চিনতে পেরেছিলেন ইমাম। সমকালীন জনগণের উপলব্ধিগত দুর্বলতা, তাঁদের স্থূলদৃষ্টি , এবং বিস্মৃতি ইমাম হোসাইনের শাহাদাৎলাভের একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ।”

উমাইয়াদের প্রতি জনগণের সমর্থনের একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল তাদের অজ্ঞতা বা মূর্খতা। ইমাম হোসাইন ইয়াযিদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতেন না। কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা ছিল এর অনেক উর্ধ্বে । কিন্তু ইয়াযিদের সাথে যে সংঘর্ষ তাঁর বেধেছিল তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিলো ব্যক্তিগত পর্যায়ের অনেক উর্ধ্বে। তাঁর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল সামগ্রিক এবং মৌলিক। বস্তুত তিনি ইয়াযিদের সাথে নয় বরং জুলুম নির্যাতন এবং অজ্ঞানতামূর্খতার বিরুদ্ধেই সংগ্রাম করেছেন। কেননা ক্বাবা যেয়ারতকালে তিনি আমাদেরকে শিক্ষা ও উপদেশ দিয়ে বলেছেন যে, এই সংগ্রামের লক্ষ্য হলো মূর্খতা এবং গোমরাহী দূর করা। ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের চেহলামের দোয়ায় যেমনটি রয়েছে-হে খোদা ! ইমাম হোসাইন তাঁর হৃদয়ের রক্ত তোমার পথে উৎসর্গ করে দিয়েছেন যাতে তোমার বান্দারা মূর্খতা এবং গোমরাহী থেকে মুক্তি পায়।”
সর্বোপরি বলা যায় জনগণের বিস্মৃতিই ইমাম হোসাইনের শাহাদাত ডেকে এনেছে। কেননা; জনগণ যদি তাদের বিগত পঞ্চাশ-ষাট বছরের ইতিহাসের দিকে তাকাতো, যদি সেই ইতিহাস নিয়ে খানিকটা ভাবতো এবং তাদের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগাতো অর্থাৎ ঐ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতো, তাহলে হয়তো কারবালার ঐ মর্মান্তিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হতো না। দ্বিতীয় যে মূল্যবোধটি ইমাম হোসাইনের মধ্যে ছিল তা হলো বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস। বিজয় একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। সাময়িকভাবে কারবালায় ইমাম হোসাইন এবং তাঁর পরিবার-পরিজন শাহাদাৎ লাভ করেছেন বটে। কিংবা তাঁদের শাহাদাতের ঘটনায় ইয়াযিদের পক্ষে যুদ্ধের ফলাফল গেছে বৈকি ! কিন্তু বৃহত্তর জয় ইমামেরই হয়েছে।
এখন কথা হলো এ বিজয় কোন্ ধরনের বিজয়। বিশে-ষকগণ এ বিজয় সম্পর্কে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কোনো আন্দোলন যদি আদর্শ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভিত্তিক হয় এবং ঐ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে যদি আন্দোলনকারীরা নিশ্চিত হন, তাহলে সেই সংগ্রামে সামরিক বিজয় না হলেও আদর্শিক বিজয় ঘটে। এই বিজয় তাই সাময়িক নয় বরং সুদূরপ্রসারী। তাই যাঁরা আন্দোলন করেন, তাঁরা হয়তো এই বিজয় স্বচক্ষে নাও দেখতে পারেন, তবে তাঁর পরবর্তী প্রজন্ম কিংবা দূর ভবিষ্যৎ যুগের প্রজন্ম অবশ্যই ঐ আদর্শিক বিজয় লাভ করেন। আর এ ধরনের বিজয়ের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীদেরই বিজয় অর্জিত হয়। ইমাম হোসাইনের বিজয় এধরনেরই আদর্শিক বিজয় ছিল। অন্যদিকে যে-কোনো যুগেই কারো ওপর যদি আদর্শিক কোনো দায়িত্ব থাকে, এবং সেই দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে গিয়ে যদি বাহ্যত পরাজয়ও পরিলক্ষিত হয়, তাহলে তা বিজয়। ইমাম হোসাইন (আ) যে আন্দোলন করেছেন, তা ছিল আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দাবী অনুযায়ী তাঁর ধর্মীয় ও ঈমানী দায়িত্ব। তিনি মক্কা থেকে কারবালা যাবার পথে বিভিন্ন ভাষণে সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, আমার যাত্রার উদ্দেশ্য হলো কপট উমাইয়া শাসকদের স্বরূপ উন্মাচন করা, অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা। আল-কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী মুহাম্মাদী দ্বীনকে পুনরুজ্জীবিত করা ছাড়া আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই। ইমাম হোসাইন (আ) এর এই আন্দোলনের আরো বহু তাৎপর্য রয়েছে। তিনি ছিলেন রাসূল পরিবারের সদস্য। ফলে তাঁর মর্যাদাও ছিল সর্বোন্নত। তিনি তো অন্য কোনো সাধারণ মানুষের মতো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সংগ্রামী পথ থেকে মৃত্যুর ভয়ে সরে যেতে পারেন না। তাঁর আন্দোলন বিপ্লবতুল্য হওয়াটাই ছিল সমীচীন। তিনি অন্যদের মতো ইসলামের নীতি আদর্শ ক্ষুনড়ব হতে দেখে চুপ করে থাকতে পারেন না। কারবালায় ইমাম হোসাইন মানুষকে এই ব্যক্তিত্ব এবং আত্মসম্মানবোধও শিক্ষা দিয়েছেন ।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তারই পথে আত্মনিবেদনে সর্বাবস্থায় দৃঢ় মনোবল থাকাটাও এই আন্দোলন থেকে শিক্ষণীয় আরেকটি মূল্যবোধ। আত্মত্যাগ, মহানুভবতা, ইসলামী সাম্য এবং আল্লাহর পথে জাগৃতির প্রেরণা প্রভৃতি দিকগুলো এই আন্দোলনের আরো কিছু মহান লক্ষ্য। সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত আল-কোরআন প্রদত্ত মহান দায়িত্ব পালন, সংস্কারকামিতা, মুসলমানদের ইসলামী চেতনাকে চাঙ্গা করা, ইসলামের সার্বজনীনতাকে তুলে ধরা প্রভৃতি হোসাইনী আন্দোলনের বৃহত্তর মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আমি প্রবিত্র আশুরায় ইমাম হোসাইনের (আঃ) আত্বার মাগফেরাত কামনার মাধ্যমে আমাদের সকলের আত্বশুদ্ধির প্রার্থনা করছি।