bdnews24.com banglablog

জার্নাল

ষাপ্নিক প্রতিদিন আলো সবখানে

ডঃ আলমগীর কাঞ্চন | ১৬ মার্চ ২০০৯ ১১:২৬ পুর্বাহ্ন

ইদানিং আমাদের অনেকের মনখারাপ।চারিদিকে এতো কিছু ঘটে যাচ্ছে তাল রাখাটা দায় হয়ে উঠছে। সবকিছু মনে রেখেও আমরা ভাল থাকতে চাই।
আজকে আমার মন খারাপ অন্য কারনে। আমার এক প্রবাসি বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো, বারে বারে জানতে চাচ্ছিলো দেশ এ কি হচ্ছে দেশ কোন দিকে যাচ্ছে ইত্যাদি। দেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সব বিষয় নিয়ে শুনতে চাচ্ছিলো বুঝতে পারছিলাম কিন্তু আমি নিরাশাবাদি নই। আমি বলছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে আমার এই ঠিক হয়ে যাবে শুনতে নারাজ আমার বন্ধুটি।আমার মনে হচ্ছিলো শুনতে চাচ্ছে দেশ ভয়াবহ সঙ্কটে এরকম কিছু কিন্তু ওই যে বললাম আমি আশাবাদী মানুষ।আমি মনে প্রানে আশা করি এবং এটা বিশ্বাসও করি যে সব ঠিক হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে অনেক দেশে এরকম পর পর কিছু জটিল পরিস্থিতির উদ্ভভ হয় এবং উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আবার দেশ দাঁড়িয়ে যায়, আমরাও দাড়াবো।আমার বন্ধুটিকে আমি এটাই বুঝাতে চেয়েছি কিন্তু বন্ধুর মন ভরে না, আমি যদি বলতাম দেশ গভীর সঙ্কটে তাহলে হয়তো বন্ধু খুশি হতো। কিন্তু আমরা ভুলে যাই এর চেয়ে অনেক বড় বড় সঙ্কট আমরা নিজেরাই কাটিয়ে উঠেছি।
ইদানিংকালে আমাদের একটা অভ্যাস হয়ে গেছে দেশে যত অঘ্টন ঘটে কিংবা ঘটছে সব কিছুর জন্য আমরা রাজনীতিবিদদের দোষ দেই। হয়ত রাজনীতিবিদরা দায়ী কিছু কিছু সমস্যার জন্য কিন্তু সব কিছুর জন্য কোনক্রমেই নয়। আমরা যদি আমাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে নিজের কাজগুলো সঠিকভাবে করি তাহলে দেশ অনেক সুন্দর হয়ে যেতো। আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা যদি আমাদের নিজের কাজগুলো ঠিকমত করি এবং মনে রাখি এ দেশ আমার আমাদের আর এদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে তাহলে সামনে কোন হতাশা আমাদের গ্রাস করতে পারবে না।আমরা ইদানিং অনেক সাদা মানুষের গল্প দেখছি কোথাও কোথাও একদম ব্যক্তিগত উদ্যোগ দেখে প্রশংশায় পঞ্ছমুখ হচ্ছি। এই যে আমরা এত দেখছি এবং শুনছি আমরা শিখছি না এটা দুঃখজনক।যারা এই সব সাদা মানুষদের আমাদের সামনে তুলে ধরছেন তাদেরকে আমার সালাম।এরকম অনেক লোক আমাদের এই সমাজে বাস করছেন তাহলে আমরা কেন পারবোনা, অবশ্যই পারবো। যাক যে কথা বলছিলাম মন খারাপ করে না থেকে আমরা আমাদের কাজগুলো ঠিকমত যদি করি তাহলে আমারাও মাথা উচু করে একদিন দাড়াবই।
আমাদের সামনের দিন গুলো কঠোর পরিশ্রম আর আমাদের ইচ্ছা শক্তি কাজ়ে লাগিয়ে মানবতাকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাবো, আমার আজকের মন খারাপ কাল থাকবে না। প্রতিটী আগামীকাল আমাদের জন্য সুন্দর এবং আনন্দময় হবে, আমরা আমাদের দেশকে প্রচন্ড ভালবাসি, এ কথাটি প্রতিদিন যেন মনে রাখি।


একটি গুলি..একজন পুলিশকে বাঁচানোর চেষ্টা..এবং তারপর..মৃত্যু!

আমিনুল ইসলাম সজীব | ৮ মার্চ ২০০৯ ২:২৫ অপরাহ্ন

চারিদিকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ। মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি। এরই মাঝে ছুটে এসে একুশ বছরের এক ছাত্রের হাঁপাতে থাকা। হঠাৎই পাশে হাতে গুলি খেয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়া। পুলিশের লোকটিকে বাঁচাতে সেই ছাত্রের দৌড়ে যাওয়া। সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গুলির শব্দ। তারপর পুলিশকে বাঁচাতে যাওয়া সেই ছাত্রেরও মাটিতে লুটিয়ে পড়া। বার দুয়েক “আরাফাত আরাফাত” নাম উচ্চারণ করা। এবং তারপর…মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া।

না, যেকোন যুদ্ধের সিনেমার চেয়ে ভয়াবহ হলেও ঘটনাটি একটি বাস্তব সত্য। গত বুধবার বিডিআরের তথাকথিত বিদ্রোহে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তার পাশাপাশি নিহত হয় তিনজন সিভিলিয়ান। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন পিপলস ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের বিবিএ’র ছাত্র খন্দকার তারেক আজিজ (ডাকনাম সজীব)। একুশ বছর বয়সী এই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে দেশের প্রায় সবক’টি স্যাটেলাইট চ্যানেলে। কাকতালীয়ভাবে তারেক আজিজ সজীবের বড় বোন আমার বড় বোনের খুব কাছের বান্ধবী। তাই মর্মান্তিক মৃত্যুর দুঃসংবাদটা আমাদেরকেই প্রথম পেতে হয়েছিল।

তারেক আজিজ (সজীব) মা-বাবার দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোন পায়েলের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই শুভ। বয়স আট কি নয় বছর। ঢাকার টোলারবাগে একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকতো সজীব। খুব উচ্ছল, প্রাণবন্ত একটি ছেলে ছিলো সে। প্রচুর কথা বলতো। খুব হাসাতে পারতো সবাইকে। এছাড়াও খুব মিশুক প্রকৃতির ছিলো। সবাইকে খুব সহজেই আপন করে নেয়ার ক্ষমতা ছিলো ওর। আমি অবশ্য সজীব ভাইয়াকে দেখিনি। আমি শুধু পায়েল আপু আর শুভকেই চিনতাম। দুঃসংবাদটি শোনার পর দেরি না করে আমি, আমার বোন আর দুলাভাই রওনা হলাম সজীব ভাইয়াদের বাসায়। রাত প্রায় এগারোটার দিকে পৌঁছলাম টোলারবাগস্থ ফ্ল্যাটে। সেখানে ছিল এক করুণ পরিস্থিতি। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি গতকালের প্রাণচঞ্চল যুবক আজ লাশ হয়ে পড়ে থাকবে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। অথচ কল্পনাকেও হার মানিয়ে ঠিকই নিষ্ঠুর বাস্তবতা সজীবকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের গুলিতে নিহত করে মা-বাবার সান্নিধ্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

সজীব ভাইয়ার মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। ছেলের রক্তাক্ত চেহারা টেলিভিশনের পর্দায় দেখে বারবার চিৎকার করে উঠছিলেন। বিডিআরের একটি গুলি তারেক আজিজ সজীবের মাথার একপাশে লেগে মাথা ভেদ করে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। তার মৃতদেহ কয়েকজনে মিলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বারবার প্রদর্শিত হয় চ্যানেল আইসহ বেশকিছু চ্যানেলে, যা দেখে বারবার কেঁদে উঠছিলেন সজীব ভাইয়ার মা। অন্যদিকে সজীবের বাবা অনেক শক্ত। নিজেকে সামলাতে পেরেছিলেন তিনি। কারণ তিনি জানতেন, পরদিন (বৃহস্পতিবার) তাকে অনেক কাজ করতে হবে। ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে পোস্ট মর্টেম করানোর পর লাশ আনতে হবে। তারপর আবার তাকে তাদের দেশের বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না। তবে তার চোখও সময় সময় ভেজা দেখা যাচ্ছিলো। টেলিভিশনের পর্দায় ছোট ভাইয়ের ছবি দেখে বড় বোন পায়েল আপুও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলো না। বড় আদরের ভাই ছিলো ওর।
আর ছোট ভাই শুভ। ওর কান্না থামানো মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সজীব ভাইয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ টিভিতে দেখার পর তার সে কি প্রশ্ন! “বিডিআররা আমার ভাইকেই কেন মারলো? বিডিআররা আমার ভাইয়ার কাছে টাকা চাইতো, তাহলেই তো টাকা দিয়ে দিতো। কী দোষ করেছিলো আমার ভাইয়া? গুলি মাথায়ই লাগলো কেন? পায়ে বা হাতেও তো লাগতে পারতো? বিডিআর গুলি কেন করলো? আমি বিডিআরকে ছাড়বো না!” এরকম শত শত জবাব না জানা প্রশ্ন করে যাচ্ছিল শুভ একনাগাড়ে। এভাবে একসময় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়লো শুভ।
ঘরের অন্যান্য সদস্যদেরও একই অবস্থা। কেউ কথা বলছিলো না, কেউ পাথরের মতো চুপচাপ বসেছিলো। কেউ বা আবার স্মৃতিচারণ করছিলো সজীবের বেঁচে থাকার সময়কার স্মৃতিময় কথা। সজীবের খুব কাছের বন্ধু আরাফাত, যার নাম গুলি খাওয়ার পরপর মুখে এনেছিল সজীব। সে বললো, দুপুর আড়াইটার দিকে অচেনা এক নাম্বার থেকে ফোন রিসিভ করে সে। অপরিচিত একজন লোক জানায়, পুলিশের লোককে বাঁচাতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তারেক আজিজ। প্রথমে আমি বিশ্বাস করতে পারিনি তিনি সত্যি কথা বলছেন। পরে অবশ্য ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে পোস্ট মর্টেমের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।

রাতে থমথমে এক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল সজীবের ঘরে। কারো চোখে ঘুম নেই। কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলো না সজীব আর নেই। আর কোনোদিন কথা বলে সারা ঘর মাথায় তুলবে না সজীব। সজীবের বাবা জানায়, কিছুদিন আগেও নাকি সজীব বলছিলো, “আমাকে ঘরেই সবাই শুধু অভদ্র অভদ্র বলে ডাকে। বাইরে সবাই আমাকে ভালো জানে। দেখে নিয়ো, আমি এমন কোন ভালো কাজ করবো, যাতে সব টিভি চ্যানেলে আমাকে ফলাও করে দেখানো হয়।” তখন তো আর সে ভাবতেও পারেনি, টিভি চ্যানেলে তাকে দেখানো হবে ঠিকই, তবে জীবিত সজীবকে নয়, নিহত ও রক্তাক্ত সজীবের লাশকে।
রাতে জোরাজুরি করে শুতে যেতে বলল বাসার সবাই। সজীব ভাইয়ার খাটেই আমি শুয়েছিলাম। পাশে ছিলো শুভ ও তার বাবা। উল্লেখ্য, আমার ডাকনামও সজীব। তখন আঙ্কেল বলে উঠলেন, কাল এই বিছানায় শুয়েছিল সজীব। আজও এই বিছানায় সজীব শুয়ে আছে। কিন্তু আমার সজীব আর নেই!

রাত তিনটায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন সজীব ভাইয়ার বড় বোন পায়েল আপুও বারান্দায় গেলো। বললো, গতকালও এই সময় সজীব পাশের ঘরে ঘোরাঘুরি করছিল। আমার আগে ও কোনদিন শুয়ে পড়তো না। অথচ আজ ও আমার আগেই শুয়ে আছে। মর্গে।

পায়েল আপুকে সান্তনা দেবার ভাষা আমার জানা ছিলো না।

[এতো এতো উচ্চপদস্থ সেনাকর্মকর্তার মৃত্যুর আড়ালে হারিয়ে গেছে তিনজন সাধারণ মানুষের করুণ মৃত্যুর কথা। আমরা যদি স্বাভাবিকভাবে বিচার করি, তাহলে দেখবো, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার আগে তাদের প্রত্যেকেরই একটা পরিচয় আছে। সেটা হলো এই যে, তারা মানুষ। একইভাবে নিরাপরাধ তিনজন বেসামরিক ব্যক্তিও মানুষই ছিলেন। সাধারণ রিক্সাওয়ালা বা সজীবের মতো তরুণদের বেঁচে থাকার অধিকার সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিন্তু তাদের কথা বলার কেউ নেই। মূলত এজন্যই এই পোস্টটি লিখি আমি। পোস্টটি সর্বপ্রথম ২৮শে ফেব্রুয়ারি সামহোয়্যার ইন ব্লগে প্রকাশিত হয়।]


ষাপ্নিক প্রতিদিন আলো সবখানে

ডঃ আলমগীর কাঞ্চন | ৮ মার্চ ২০০৯ ২:২৫ অপরাহ্ন

আজ কিছু ভালো লাগছে না|কয়দিন থেকে মন ভাল নেই একদম|কোথাও যেনো কোন অশুভ চক্র আমাদের সব কিছু একদম সবকিছু নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাচ্ছে| আমরা কিছু বুঝি কিছু বুঝিনা|আমাদের এই এক যন্ত্রনা| বুঝলেও বলা যাবেনা| মুখ বন্ধ করে থাকাটা সময়ের দাবি|এরকম সময় খুব বেশিদিন চলতে পারেনা|আমরা দেখবো শুনব কিন্তু কিছু বলা যাবেনা আমরা বলতে চাই ও না| আমাদের আশা এই সময় থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা বার হয়ে আসবো|ইদানিং যোগাযোগ বা তথ্য সহজে পাওয়া যায় বলে আমরা অনেক কিছু জেনে যাই সহজে| মাঝে মাঝে আমার মনে হয় এতো তথ্য আমরা না জানলেও আমাদের এমন কোনো ক্ষতি হতো না | আমার একজন খুব শ্রদ্ধার মানুষ ছিলেন আমাকে বলতেন কেন এত তথ্য তোমাদের দরকার হয়, নিজের বিষয় নিয়ে সময় কাটাও দেখবে সহজে মন খারাপ হবেনা|তখন সবে মাত্র আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে শিখেছি| আমি চ্চেটা করছি আমার এই শ্রদ্ধেয় জনকে কিভাবে ইমেইল করতে হয় শিখাতে, মনে পরে স্যার আপনাকে|একবার ৯৮ তে যখন অনেক বন্যা আপনি প্রতিদিন সকালে এসেই আমাকে জিজ্ঞেস করতন ঢাকায় পানি উঠতে কত বাকি আমার বাসায় পানি উঠে গেল কিনা, কি যে মন খারাপ করে থাকতেন তখন, আমার আজ ও যখন এরকম কোন কঠিন মন খারাপের সময় আসে আপনাকে মনে পরে|আপনাকে ভুলে যাইনি স্যার|আজকে যখন জাতিয় বিপযয়ের সামনে তখনো আপনাকে মনে পড়ছে| যেকথা বলছিলাম আমরা এই সময় থেকে যতো দ্রুত বার হতে পারব আমাদের জন্য তত মঙ্গল|আমরা এরকম দম বন্ধ করা ঘুমট অবস্থায় থাকতে অভ্যস্থ হতে চাইনা|আমাদের এই সব অন্ধকার সময় থেকে বার হয়ে আসতে হবে এবং আমরা অবশ্যই সামনে আলোকিত সময়ের অপেক্ষায় থাকবো|


পবিত্র কোরান ও বিশ্বের চিন্তাবিদমহল

ফখরুল ইসলাম | ২৩ জানুয়ারি ২০০৯ ৮:১৮ পুর্বাহ্ন

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন। এই মহাগ্রন্থ ইসলামের বিশ্বজনীনতা ও চিরস্থায়ীত্বের অন্যতম প্রমাণ। খোদায়ী এই গ্রন্থ অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং তা সত্যপিপাসু মানব সমাজকে বিভ্রান্তি ও অধঃপতন থেকে রক্ষা করছে। পবিত্র কোরআনের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম দিক হলো এই ঐশী গ্রন্থ মানবজাতির জন্য সুপথ দেখানোর ও তাদেরকে পরিচালনার বা নেতৃত্ব দেয়ার গ্যারান্টি দেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন বা কথা বলেছেন। তাই সবচেয়ে সঠিক পথের নির্দেশনা পাওয়া যায় পবিত্র কোরআনে। সূরা আনফালের ২৪ নম্বর আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদাররা, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের নবজীবন দান করে। জেনে রাখ আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মাঝে অবস্থান করেন।”
পৃথিবী যখন অজ্ঞতা, হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানি, কুসংস্কার ও বলদর্পীদের অত্যাচার এবং লুন্ঠন বা শোষনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তখন ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের আলো ইসলামে দীক্ষিত মানুষের মধ্যে বিস্ময়কর পরিবর্তন আনে। ফলে অজ্ঞতা ও পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত মানুষগুলো স্বর্গীয় গুণাবলীতে বিভূষিত হলো। তাদের মধ্যে বিকশিত হয় মানবিকতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং নৈতিকতা। সংকীর্ণমনা এক শ্রেণীর মানুষ বিশ্ব সভ্যতায় পবিত্র কোরআনের অসাধারণ অবদানকে উপেক্ষা করলেও জাগ্রত বিবেকের অধিকারী অনেক অমুসলিম মনীষীও পবিত্র কোরআন ও ইসলামের কাছে বিশ্বসমাজের ঋণের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। সুইডেনের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও ইসলাম বিষয়ের গবেষক অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে বলেছেন, মানুষের ওপর পবিত্র কোরআনের ও এর সাহিত্যের গভীর প্রভাব উপেক্ষা করা যায় না। পবিত্র কোরআন বেদুইন জাতিগুলোর মধ্যে স্নেহ-ভালবাসা ও বন্ধুত্বের চেতনা প্রজ্জ্বলিত করেছে। পবিত্র কোরআন মানুষের মধ্যে এখনও এ ধরনের প্রভাব রাখছে। পবিত্র কোরআনের শব্দগুলো অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও ব্যাপক ভাবযুক্ত। তাই এ ঐশীগ্রন্থের সাহিত্যিক শক্তিমত্তা বা প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না। অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপে আরো বলেছেন, আমরা বর্তমানে এমন এক বিশ্বে বসবাস করছি যে বিশ্ব পুরোটাই আমাদের স্বদেশের মতো। আর ইসলাম এই স্বদেশেরই একটি অংশ। তাই ইসলাম ও পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত চিন্তাগত আদর্শকে উপেক্ষা করা যায় না। বর্তমানে পাশ্চাত্যে ইসলামের ওপর হাজার হাজার বই ও প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে। আর এ থেকেই পাশ্চাত্যে ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের উপস্থিতি বা প্রভাব আঁচ করা যায়। পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামিক স্টাডিজ বা ইসলাম ধর্ম শিক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভাগের অস্তিত্বও এর অন্যতম প্রমাণ । তাই ইউরোপের জন্য পবিত্র কোরআন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পবিত্র কোরআন সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যাপক ইয়ান ইয়ারপের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ইউরোপ ও পাশ্চাত্যের জনগণের কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমা চিন্তাবিদদের কাছে গবেষণার বিষয় হিসেবে পবিত্র কোরআন আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এবং তারা পবিত্র কোরআনের অর্থ জানার জন্য বা এ মহাগ্রন্থকে আরো ভালোভাবে বোঝার জন্যে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অবশ্য পাশ্চাত্যে এক শ্রেণীর অসহিষ্ণু প্রকৃতির মানুষ মহান আল্লাহর এ নিদর্শনকে তুচ্ছ বা খাটো কোরে দেখানোর চেষ্টা করছে। পবিত্র কোরআন থেকে উৎসারিত জ্ঞানের আলো পশ্চিমাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক এটা তারা চায় না।

ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআন মানুষের জীবনের সব দিকের জন্য পথ-নির্দেশনা দেয়। মানুষ বা মানবরচিত আদর্শগুলো এ পর্যন্ত কখনও মানুষের জন্য সামগ্রীক ও নির্ভুল জীবন বিধান উপহার দিতে পারে নি এবং মানুষের সীমাবদ্ধ জ্ঞানের কারণে তা কখনও সম্ভব নয়। তাই দেখা যায় দর্শন বা চিন্তাগত শাস্ত্রগুলোর বিভিন্ন তত্ত্ব কিছু দিন পরই বদলে যায় এবং আগের চেয়ে উন্নত তত্ত্ব এর স্থান দখল করে। কারণ, এ ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে যত আলোচনা ও গবেষণা হয় ততই সেসব স্পষ্টতর হয়ে ওঠে। কিন্তু সর্বশেষ ঐশীগ্রন্থ পবিত্র কোরআনের বাণীগুলো কখনও পুরনো বা সেকেলে হয় না, বরং মানুষের জ্ঞান যতই বাড়ছে পবিত্র কোরআনের বাণী থেকে ততই তারা নতুন নতুন বাস্তবতা জানতে পারছে।

পবিত্র কোরআনের আহ্বান বা বাণীগুলোর রয়েছে পরিকল্পিত লক্ষ্য। এতে রয়েছে সব ক’টি জরুরী বিষয়ের আলোচনা। আল্লাহর পরিচিতি, সৃষ্টিজগত ও পরকাল বা পুনরুত্থান, পৃথিবী ও বিশ্বজগত বা নভোমন্ডল, অতীতের নবী-রাসূল ও জাতিগুলোর ইতিহাস, নৈতিকতা, পরিবারের অধিকার, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি, সমাজনীতি, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে এই কোরআন মানুষের জন্যে মৌলিক শিক্ষার আধার।

বিখ্যাত জার্মান বিজ্ঞানী আইনষ্টাইন পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, কোরআন বীজগণিত কিংবা জ্যামিতি বা গণিতের বই নয়, বরং এ গ্রন্থে রয়েছে এমনসব বিধান যা মানুষকে সুপথ বা সত্যের পথে পরিচালিত করে, এই পথ হচ্ছে এমন পথ, যা নির্ধারণ করা ও যার সংজ্ঞা দেয়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
জার্মানীর বিশিষ্ট প্রাচ্যবিশারদ জোসেফ হুরডোউইচ পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরআন তার শিক্ষার মাধ্যমে মুসলমানদের চিন্তার মান বৃদ্ধিতে বিস্ময়কর ভূমিকা রেখেছে, আর এ জন্যেই মুসলমানরা আমাদের আগেই চিন্তা-গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের তৎপরতা শুরু করেছে।
যারা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে এ ঐশীগ্রন্থ মানুষকে মুক্তির পথ দেখায়।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ সিদুউয়ার মতে পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য হলো মানুষকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়া এবং মিথ্যার প্রতিরোধ করা। অন্যকথায় মানুষকে অজ্ঞতার আঁধার থেকে উন্নত মানবীয় চরিত্র ও আলোর দিকে পরিচালিত করা এ মহাগ্রন্থের উদ্দেশ্য।

মার্কিন চিন্তাবিদ লুমান্স পবিত্র কোরআনের আলো ও সৌন্দর্যকে বিস্ময়কর ও দৃষ্টান্তমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতার প্রথম স্ফুলিঙ্গ হলো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম যার মধ্যে রয়েছে অর্থ ও তাৎপর্যের এক বিশাল জগত।

আলেম বা ধর্ম-বিশেষজ্ঞদের মতে পবিত্র কোরআন অন্য সব মোজেজার চেয়ে বড় মোজেজা। আর এ জন্যেই পবিত্র কোরআন বিবেকবান মানুষের মনে প্রভাব ফেলে। বিশ্বখ্যাত জার্মান কবি গ্যাটে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে লিখেছেন, কোরআন এক বিস্ময়কর গ্রন্থ। প্রথমদিকে এর বাণীকে সহজ মনে হয় না, কিন্তু পাঠক খুব শিগগিরই নিজের অজান্তেই কোরআনের অসীম সৌন্দর্যে অভিভুত ও বিমুগ্ধ হয়। বহু বছর ধরে খৃষ্টান ধর্মযাজক বা পাদ্রীরা পবিত্র কোরআনের বাস্তবতা বা সত্যতা ও এর মহত্ত্ব উপলব্ধি করার প্রচেষ্টা থেকে দূরে রেখেছে। কিন্তু আমরা যতই জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথে অগ্রসর হচ্ছি এবং সংকীর্ণতা বা বিদ্বেষের পর্দা সরাচ্ছি ততই পবিত্র কোরআনের বিধানগুলোর মহত্ত্ব আমাদের মধ্যে অদ্ভুত বিস্ময় জাগাচ্ছে। অবর্ণনীয় এই গ্রন্থ শিগগিরই মানুষের চিন্তার মূল কেন্দ্রে পরিণত হবে। পবিত্র কোরআনের লক্ষ্য মহান, অর্থ গভীর এবং এর ভিত্তি বা যুক্তি এতো সুদৃঢ় যে প্রতি মুহূর্তে এর মহত্ত্ব আরো প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে।

পবিত্র কোরআন সম্পর্কে বিখ্যাত দার্শনিক ও মুফাসসির আল্লামা তাবাতাবায়ি লিখেছেন, পবিত্র কোরআনের অলংকারিক সৌন্দর্য বা বাগ্মীতা ও প্রজ্ঞা এক বড় মোজেজা। জ্ঞানীদের জন্য কোরআন যেন এক অলৌকিক সম্পদ-ভান্ডার এবং আইন প্রনেতাদের জন্য এটি সবচেয়ে সামাজিক আইনের আধার। এই বইয়ে রয়েছে নীতিনির্ধারক বা রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে নবীন ও নজিরবিহীন নীতি । সংক্ষেপে বলা যায় পবিত্র কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এমনসব বাস্তবতা বা রহস্যের আকর যে বাস্তবতাগুলো মানুষ কোরআন ছাড়া কখনও উদঘাটন করতে পারে না। আর এ জন্যই পবিত্র কোরআন এক বিস্ময়কর মোজেজা বা অলৌকিক গ্রন্থ।

বিখ্যাত আলেম জালাল উদ্দিন সুয়ুতী লিখেছেন, মোজেজা বা অলৌকিক বিষয় দু রকমঃ ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য ও চিন্তাগত । অতীতের নবীগণের জন্যে ইন্দ্রিয়অনুভুতিগ্রাহ্য মোজেজা দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ইসলামের নবী বা সর্বশেষ রাসূল(সাঃ)কে দেয়া হয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক বা চিন্তাগত মোজেজা। আর এ জন্যেই তা অমর ও চিরস্থায়ী। সবশেষে বলা যায় পবিত্র কোরআন সূক্ষ্ম, সমৃদ্ধ ও সামগ্রীক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে মানুষের সমস্ত আধ্যাত্মিক এবং মানসিক চাহিদাসহ মানুষের সমস্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এ জন্যেই বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন, কোরআন এমন এক সম্পদ যা ছাড়া মানুষ শক্তিহীন, আর এই সম্পদ থাকলে মানুষের কোনো কিছুরই অভাব বা দারিদ্র থাকে না।


প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।

ফখরুল ইসলাম | ১১ জানুয়ারি ২০০৯ ১১:২৩ পুর্বাহ্ন

আজ আমার সামনে একজন প্রতিবন্ধীকে তিরস্কার করতে দেখে মনে খুব ব্যাথা পেলাম।আরো বেশী দুঃখ পেলাম প্রতিবন্ধি লোকটির পরিচিত একজনের কাছে তার অতিত জীবনের গল্প শুনে। সে একসময় প্রতিবন্ধি ছিলনা,ভাল থাকা অবস্থায় এ লোক বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিবন্ধিকে তিরস্কার ও তাচ্ছিল্য করত। একদিন তার এলাকার ব্রেইন প্রতিবন্ধি আলম নামে এক লোককে তিরস্কার করার সময় আলম তাকে চায়ের দোকানের আধা পোড়া লাড়কি দিয়ে আঘাত করে, লোকটি বিলম্ব না করে আলমকে প্রচন্ড ভাবে মেরে রক্তাক্ত করে। আলম নাকি সেদিন সারাদিন কান্নাকাটি করেছে, কেউ তাকে সান্তনা দিতে পারেনি, বরং সান্তনা দিতে চাইলে আর ও বেশী কাদত, এ ভাবে একবার সেজদায় পড়ত আরেকবার বুক থাপড়াত সেই সাথে অভিশাপের বানীত ছিল। বেশীদিন যায়নি মাত্র আট মাসের মধ্যে
প্রহারকারী লোকটি পাগল হয়ে গেল। আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা কানে শোনে না, চোখে দেখে না, কথা বলতে পারে না এসব শারীরিক সমস্যার কারণে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। পাশাপাশি কিছু দুষ্ট লোক আছে যারা এসব শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাথে নানাভাবে ঠাট্টা মশকরা করে কিংবা তাদের কষ্ট দেয়। যারা এসব অপকর্ম করে তাদের পরিণতি কক্ষনো ভাল হয় না। এ সম্পর্কে একটি গল্প উপস্থাপন করছি, গল্পটি এইরকম
এক দেশে সালমান নামে এক বৃদ্ধ মুদি বাস করতো। সে কানে খুব কম শুনতো। কানের কাছে গিয়ে খুব জোরে কথা বললেই সে শুনতে পেতো। এজন্য লোকজন তাকে কালা সালমান বলে ডাকতো। সালমানের পাশে মহল্লায় শাবান নামে এক যুবক বাস করতো। শাবানের একটা বদ অভ্যাস ছিল। সে দোকানদারদের কাছ থেকে বাকীতে জিনিস কিনতো কিন্তু টাকা দেয়ার বেলায় ফাঁকি দিতো। তাই দোকানীরা তার কাছে জিনিসপত্র বিক্রি করতো না। একদিন শাবান এলো সালমানের দোকানে । সে কিছু জিনিস বাকীতে নিতে চাইল। বৃদ্ধ সালমান জানতো যে, শাবানকে একবার বাকী দিলে সে টাকা আর পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সে শাবানকে বলল, আমি বাপু লেখাপড়া জানিনে, বুড়ো মানুষ তাই মনেও রাখতে পারিনে। তাই বাকীতে কোন কিছু বিক্রি করবো না। একথা শুনে শাবানের খুব রাগ হলো। এরপর থেকে সে সব সময় কালা সালমানকে বিরক্ত ও ঠাট্টা মশকরা করতো। সে তার বখাটে বন্ধুদের বলতো, যা, সালমানের সামনে গিয়ে শব্দ না করে শুধু ঠোঁট নেড়ে নেড়ে কথা বল। শাবানের দুষ্ট বন্ধুরা যখন বুড়ো সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো তখন সে শুনতে না পেরে বলে উঠতো, তোমরা কি চাও, একটু জোরে বল । তখন শাবান এগিয়ে গিয়ে জোরে বলতো, চাচা তুমি বধির নাকি ? আমার বন্ধুরা তো তরকারি চাচ্ছে। শাবানের কথায় তার বন্ধুরা হেসে উঠতো। সালমান এতে বিরুক্ত হয়ে বলতো , আমার কাছে তরকারী নেই। এটা তরকারির দোকান নয়, মুদির দোকান।শাবানের বখাটে বন্ধুরা বৃদ্ধের কথায় আবারো হাসিতে ফেটে পড়তো।পরদিন শাবান ও তার বন্ধুরা আবারো যেতো সালমানের দোকানে। তাদের একজন সালমানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতো। সালমান কিছুই শুনতে না পেরে জিজ্ঞেস করলে শাবান এগিয়ে যেতো এবং বলতো,
চাচা তুমি কি কালা ? আমার এ বন্ধু দুই গজ কাপড় চাচ্ছে। শাবানের কথায় বন্ধুরা হেসে উঠতো। অন্যদিকে বৃদ্ধ মুদি বিরক্ত হতো।

একদিন শাবানকে একা পেয়ে বৃদ্ধি মুদি বললো, দেখ্‌ শাবান! তুই ভাল করেই জানিস যে আমি কানে কম শুনি। কিন্তু তারপরও তুই আমাকে অযথায় কষ্ট দিচ্ছিস কেন ? এই যে আমি কম শুনতে পাই,এটা আমার একটা রোগ। এতে আমার অপরাধ কি দেখলি ? মনে রাখবি, এভাবে মানুষকে অযথা কষ্ট দিলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।বৃদ্ধের কথা শুনে শাবান বললো, ঠিকাছে তোমাকে আর কষ্ট দেবো না যদি আমাকে বাকীতে মাল দাও ।শাবানের চালাকী বুঝতে পেরে সালমান বললো, না, কক্ষনো তোকে বাকীতে মাল দেবো না। এরপর শাবান বললো, তাহলে আমিও তোমাকে বিরক্ত করতেই থাকবো।শাবানের কথা শুনে বৃদ্ধ সালমান খুব দুঃখ পেল। এরপর বললো, তুই আমার মত বুড়ো মানুষকে যেভাবে কষ্ট দিচ্ছিস একদিন দেখবি তোরও এ রকম অবস্থা হয়েছে।
এ ঘটনার কিছুদিন পরের কথা। একদিন শাবান টের পেল, তার কানে কি যেন হয়েছে। সে সবকিছু ভালভাবে শুনতে পাচ্ছে না। একদিন সে তার পরিচিত লোকের সাথে আলাপ করার সময় কথাবার্তা না শুনেই সে উল্টো জবাব দিয়ে দিলো। এতে ঐ লোকটি হেসে উঠলো এবং বলল, কিরে তুই কালা হয়ে গেলি নাকি ? শাবান এ কথা শুনে খুব কষ্ট পেল। এরপর থেকে সে কারো সাথে কথাবার্তা বলার সময় সমস্ত মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করতো যাতে সঠিক জবাব দিতে পারে এবং উপহাসের পাত্র না হয়। কিন্তু শাবান যতই চেষ্টা করতে লাগলো ততই তার কান ভারী হয়ে এলো। দেখতে দেখতে সে সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেলো।বধির হয়ে গেলেও সে মানুষকে তা বুঝতে দিতো না।
একদিন সে জানতে পারলো যে, পাশের মহল্লার এক কসাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাই তাকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। কসাইয়ের বাড়ীর উদ্দেশ্যে যেতে যেতে সে ভাবলো, রোগী দেখতে গিয়ে প্রথমে সালাম দেবো। সে সালামের জবাব দিলে জানতে চাইবো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ? সে হয়তো বলবে, স্যূপ, বনরুটি কিংবা অন্যকিছু খাচ্ছি। আমি বলবো, খুব ভাল ব্যবস্থা। এটাই তোমার উপযুক্ত পথ্য। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার অবস্থা এখন কেমন ? সে নিশ্চয়ই জবাব দেবে, কিছুটা ভালোর দিকে। আমি তখন বলবো, আলহামদুলিল্লাহ। এরপর জিজ্ঞেস করবো, তোমার ডাক্তার কে ? তখন সে নিশ্চয়ই কোন ডাক্তারের নাম বলবে । আমি তখন বলবো, তিনি তো খুব ভাল ডাক্তার। এ ঘরে তার শুভাগমন হোক। এরপর খোদাহাফেজ বলে চলে আসবো । ব্যস, খুব সোজা কাজ।
বধির শাবান এসব প্রশ্ন-উত্তর মনে মনে তৈরি করে পৌছে গেল কসাইয়ের বাড়ীতে । রোগীর ঘরে প্রবেশ করেই সালাম বিনিময় করলো। রোগীর অবস্থা তখন খুব খারাপ যাচ্ছিল। শাবান তার হাত দিয়ে রোগীর বাহু ধরে জিজ্ঞেস করলো, তোমার অবস্থা কেমন ভাই, কিছুটা ভাল হয়েছে ?
রোগী গোঙ্গাতে গোঙ্গাতে বললো, না বাবা, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একেবারে মরে যাচ্ছি।
শাবান বলল : আলহামদুলিল্লাহ । আল্লাহর বহুত শুকরিয়া ।
রোগী শাবানের কথা শুনে বিরক্ত বোধ করলো। রোগীর পাশে যারা ছিল তারাও বিষ্মিত হয়ে গেল। এরপর শাবান জিজ্ঞেস করলো, ওষুধপথ্য কি খাচ্ছো ?
রোগীর মেজাজ একেবারে তিরিক্ষি হয়ে গিয়েছিল। তাই সে জবাব দিলো, যন্ত্রণা খাচ্ছি, মরণ খাচ্ছি, সাপের বিষ খাচ্ছি।
শাবান বলল : খুব ভাল পথ্য । তোমার মতো রোগীর জন্য এসবই উত্তম।
শাবানের কথা শুনে রোগীর মেজাজ আরো বিগড়ে গেল। রোগীর এক আত্মীয় বললো, এই ব্যাটা, এসব কি যা-তা বকছিস ? রোগীর সাথে তোর কোন শত্রুতা আছে নাকি ?
শাবান লোকটির কথা কিছুই বুঝতে পারলো না। তাই জবাবও দিলো না। কিছুক্ষণ পর সে আবারো রোগীকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার ডাক্তার কে ভাই ?
রোগী রেগে গিয়ে বলল : আজরাইল, আজরাইল আমার ডাক্তার।
শাবান বলল, বেশ ভাল ডাক্তার। এ বাড়ীতে তার আগমন শুভ হোক। তার মতো ডাক্তারই হয় না।
শাবানের কথা শুনে রোগী চেঁচিয়ে ওঠে বললো, এ ব্যাটাকে এখান থেকে ঘাড় ধরে বের করে দাও। এই আহম্মক আমাকে নিয়ে তামাশা শুরু করেছে।
ঘরের লোকজন শাবানের হাত ধরে তাকে বাইরে নিয়ে এলো এবং বললো, ব্যাটা তুই আস্ত একটা বদমাশ। রোগী তোর সাথে কি দুশমনি করেছে যে তার সাথে এরকম করছিস ? রোগীর একজন আত্মীয় এসে শাবানকে ধাক্কা মেরে রাস্তার দিকে ঠেলে দিলো। আরেকজন তেড়ে গেল তাকে মারতে। সবার মারমুখী অবস্থা দেখে শাবান হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। সে চিৎকার করে বলে উঠলো, তোমরা আমাকে মারতে চাচ্ছো কেন ? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি ?
রাস্তার হৈ চৈ শুনে পাশের বাড়ী থেকে একজন যুবক বেরিয়ে এলো। সে ছিল বুড়ো মুদি সালমানের পুত্র। লোকদের কাছে শাবানের উল্টাপাল্টা জবাব শুনে সে শাবানকে জিজ্ঞেস করলো, তোমার নাম কি ?
শাবান ভাবলো যুবক তাকে জিজ্ঞেস করেছে, তুমি এখানে কেন এসেছিলে? তাই সে জবাব দিলো, ঐ বাড়ীর কসাই বেচারা অসুস্থ তাই তাকে দেখতে এসেছিলাম। শাবানের উল্টাপাল্টা উত্তর শুনে যুবকটি আসল রহস্য বুঝতে পারলো। এরপর যুবকটি পকেট থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম বের করে তাতে লিখল, তুমি কি লেখাপড়া জানো ? লেখাটি শাবানের সামনে তুলে ধরতেই সে বলে উঠলো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি লেখাপড়া জানি । এ কথা শুনে যুবকটি বুঝতে পারলো যে, এ বেচারাও তার বাবার মত কানে কম শুনে কিংবা একেবারেই শুনে না। কিন্তু তার সমস্যা হচ্ছে সে তার অক্ষমতার কথা কারো কাছে ফাঁস করতে চায় না। যুবকটি এবার উত্তেজিত জনতাকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে বিদায় করলো। এরপর সে কাগজের উপর লিখল, শোন ভাই, বধির হওয়া কোন অপরাধে বিষয় নয়। এতে লজ্জা শরমের কি আছে ? আমার বাবা সামলান মুদিও বধির। তাতে কি ? এটা তো একটা রোগ। কিন্তু তুমি তোমার দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে মানুষের কথাবার্তার উল্টাপাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছো। মানুষ এতে কষ্ট পাচ্ছে এবং বিরক্ত হচ্ছে। তার চেয়ে তুমি যদি মানুষকে বল যে, তুমি কানে শুন না তাহলে কোন বিপদ নেই। কেউ তোমাকে ভুল বুঝবে না। নিজের অহংকার ত্যাগ করে এখন থেকে বল যে, আমি বধির। তাহলেই বেঁচে যাবে। নইলে মারধোর তোমার ভাগ্যে নিশ্চিত।
কাগজের লেখাগুলো পড়ার পর শাবানের হুশ হলো। সে বলল, তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। তুমি ঠিকই বলেছে। একসময় আমি তোমার বাবার সাথে ঠাট্টা মশকরা করতাম, তাকে অযথা কষ্ট দিতাম। আজ আমি তওবা করলাম। আর কাউকে মশকরা করবো না। এরপর থেকে শাবান তার পকেটে সবসময় কাগজ কলম রাখতো। যখনি কেউ তার সাথে কথা বলতে আসতে তখনি সে কাগজের ওপর লিখে জানাতে আমি বধির। আমার সাথে কোন প্রয়োজন থাকলে এই কাগজে লিখে জানান। আমি পড়তে জানি, লেখাপড়ে জবাব দেবো। তাই আসুন আমরা প্রতিবন্ধীকে ভালবাসি,স্নেহ করি, তাদের অক্ষমতাকে উপহাস না করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগীতা করি।


amar desh amar shopno: bikhhipto bhabna

ডঃ আলমগীর কাঞ্চন | ৯ জানুয়ারি ২০০৯ ১২:০৪ অপরাহ্ন

amra shopno dekhchi, kokhno kokhono mone hote parey shopogulo dush-shopno na hoye jay abar. amra jokhon dipu moni ke dekhi kinba dr. afsarul amin er moto ekjon ekebarei rajpoth er shongi kinba nurul islam nahid er moto lok amader desher guruttopurno montronaloyer dayitto prapto hon tokhon amra shopno dekhtei pari. apatoto nahoy dushshopno niye nai ba bhablam. shope thake shapnik hoi. desh ke beshi kore bhalobashi, desh mati amader shobar priyo hoye uthuk.


এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করা হচ্ছে না

ounshuman | ৫ জানুয়ারি ২০০৯ ১:৫৬ অপরাহ্ন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করা হচ্ছে না, এটা প্রায় নিশ্চিতভাবে বলা যায়। অপরদিকে শনিবার সংসদীয় কমিটি গঠনের আগে জাপার নেতারা এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার দাবি জানান। অবশ্য এ ব্যাপারে এরশাদ জোরালো ভাবে কিছু বলেননি।
এক সুত্র জানায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ একেক সময় একেক রকম আচরণ করেন। তার কথার কোন ঠিক নেই। এমন লোককে রাষ্ট্রপতি বানালে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের বিপদ হতে পারে। তাছাড়া এরশাদকে রাষ্ট্রপতি বানানো হলে আওয়ামী লীগ নানা সমালোচনার মধ্যে পড়বে বলে মতামত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, এরশাদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্ত করে দীর্ঘদিন স্বৈরশাসক ভুমিকা পালন করেছিলেন। এখন নিজ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও সাধারণ মানুষ তার সেই ভুমিকার কথা ভুলে যায়নি বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। কেবল স্বৈরশাসক হিসেবে এরশাদ সমালোচিত হননি, তার বিরুদ্ধে নানা রকমের অভিযোগ ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে স্বৈরশাসকের সঙ্গে জোট বেঁধেছে বলে কড়া সমালোচনা করেন।
এছাড়া এরশাদ তার স্ত্রী বিদিশাকে তালাক দিলে তিনি সাবেক এই রাষ্ট্রপতির নানা অনিয়মের কাহিনী একটি সাপ্তাহিকে প্রকাশ করেছিলেন। তখন সারাদেশে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
এ ধরনের নানা অভিযোগে অভিযু্ক্ত বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি বানাবে না বলে সুত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ড.হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন,২০০৬ সালের জানুয়ারি আগে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে সমঝোতা করে জোট গঠিত হলেও এবার সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।


নির্বাচন মানেই সংখ্যালঘু নির্যাতন ও কিছু হাহাকার

বেতাল বলেন | ২৬ ডিসেম্বর ২০০৮ ১১:৫৬ পুর্বাহ্ন


বাংলাদেশের জম্ম যদিও ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে জম্ম হয়েছিল, বাস্তবে এখন আর নেই।এরশাদ
সরকার উনার বাবার সম্পত্তির মতই একে মুসলিম দেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। এর জন্য তিনি নেননি
কোন জনসাধারণের মতামত। সাথে সাথেই বাংলাদেশের কপালে আরেকবার কালিমা লেপন করা হলো।
পর্যায়ক্রমিকভাবে সময় এগিয়ে গেলেও অসভ্যতার মায়াজাল আরো ঘনীভূত হয় বাংলাদেশে।

Religious Demography


২০০১ এর উপাত্ত অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ ছিল হিন্দু
ধর্মাবলম্নী। মোট জনসংখ্যার মাত্র নয় শতাংশ মানুষ যদি আঃ লীগে ভোটও দেয়, তাহলে কোন
ভাবেই আঃ লীগ জয়ী হতে পারেনা। এর মানে, এই হলো বাংলাদেশ সরকার গঠনে আঃ লীগকে ভোট
সংখ্যা গরিষ্ঠতায় আংশিক বা পূর্ণাংগভাবে জয়ী হতে হলে, অবশ্যই অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও
সহযোগী থাকতেই হবে।


কিন্তু, দূর্ভাগ্য হলেও সত্যি, ২০০১ সালে সবচেয়ে বেশি হেনস্থা হতে হয়েছিল একদল
মানুষদের যাদের ধর্ম ছিল হিন্দু। হত্যা, সম্পত্তি লুন্ঠন, অকথিত অত্যাচার ও গণধর্ষনের
মতো বেশ ভয়াবহ অপরাধ উঠে আসে কোন এক দল রাজনৈতিক দলগোষ্ঠির কর্মীদের সাহায্যে। তাদের
অপরাধ, তারা মালাউন। তারা আঃ লীগের ভোট ব্যাংক। ভোট যদি নাগরিক মৌলিক অধিকার হয়, তবে
আঃ লীগকে ভোট দেওয়াও কোন অপরাধ নয়। তবে, এর শাস্তি হিন্দুসহ সমস্ত সংখ্যালঘুদের কেন
দিতে হবে? মানবতা বিরোধী এই অসুস্থ মানসিকতার আসল হোতা কারা? তাদেরই বা কেন বিচার হলো
না? আপনার বা আমার কারো কিছু হয় নি বলে মুখে কলুপ এটে কতক্ষণ? নারকীয় অতি অল্প কিছু
সত্য দৃশ্য দেখুন,

October,<br />
2001. | PLACE: Gangni, Meherpur, Kushtia.

November<br />
18, 2003 | PLACE: Banskhali coast, Chittagong

April<br />
22, 2003 | PLACE: Chitalmari, Bagerhat.

October 10,<br />
2002. | PLACE: Keranigonj, Dhaka.

October,<br />
2001. | PLACE: Ramshil, Gopalgonj.

October 16,<br />
2001. | PLACE: Ramshil, Gopalgonj.

বিস্তারিত


বাংলাদেশের যেকোন রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘুদের ও তাদের স্বার্থ সংক্রান্ত মুখ ভরা বুলি
থাকলেও বাস্তবে তার কোন প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় না। শুধু সংখ্যালঘু কেন, কতো সাধারণ
মানুষ হেনস্তা হয়েছেন। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যা লঘুদের জামাই আদরে রাখা হয়েছে।
আমি শুনি আর হাসি। সরকারী বড় কোন পোস্টে কতজন সংখ্যালঘু রয়েছে, বলুন তো? দেখাতে
পারবেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সংখ্যালঘু কি কখনো প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন, বা
প্রেসিডেন্ট বা স্পিকার? আমাদের নিজেদের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। বাংলাদেশে এখনো
সংখ্যালঘু ভিত্তিক কোন উগ্র সম্প্রদায়ের উথ্থান ঘটেনি। ভুলে গেলে চলবে না, সময়ের সাথে
সাথে অত্যাচারিত মানুষদের ভাষা প্রতিবাদ কঠোর হয়ে আসে। ভৌগলিক দিক থেকে বিবেচনা করলে
বাংলাদেশের প্রায় সব অংশই ভারত দ্বারা পরিবেষ্টিত। নিজামীর ভাষায়, “বাংলাদেশ ভারতের
তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর চক্রান্ত চলেছে” লিংকটা দাও। সঠিকভাবে নির্বাচনপূর্ব ও
পরবর্তি সময়গুলো সংখ্যালঘু ও সবার মানবাধিকার সঠিকভাবে পালন না করলে, আমাদের অনেক বেশি
মূল্য দিতে হতে পারে।

একগাদা
মানুষের অভিশাপ হাহাকার হয়ে পিছু লাগবে।


আমার শিল্পচর্চার খানিকিতিহাস

ব্রাত্য রাইসু | ২৭ নভেম্বর ২০০৮ ১১:৫৯ পুর্বাহ্ন


স্যুররিয়ালিজমের ক্রিটিক করছেন দুইজন মৎস্য ও আমাদের যৌক্তিক গাণিতিক নৈসর্গচিন্তা, ১৯৮৯

১৯৮৪ এবং ‘৮৫ সালে আমি দুইবার ঢাকার আর্ট ইনসটিটিউটে ভর্তি পরীক্ষা দিয়া ফেল করছিলাম। ডিজাইন নিয়া একটা প্রশ্ন ভুল বোঝনে শেষের বার, আর কী কারণে জানি না আগের বার টিকতে পারি নাই। (ভালোই হইছে!) ভর্তি হওনের লাইগ্যা অনেক দৌড়াদৌড়ি করছিলাম।.. বিস্তারিত…


বিখ্যাত লেখক গণের বিচিত্র বাতিক

sciencezone | ২৪ নভেম্বর ২০০৮ ১১:১৮ পুর্বাহ্ন

পৃথিবীতে অসংখ্য লেখক আছেন যারা লেখার ব্যাপারে অদ্ভূত সব খেয়াল পোষন করেন। নিম্নে এমনই কিছু লেখকদের অদ্ভৃত খেয়াল লেখা হল ঃ
(ক) প্রথমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাই বলি। তিনি চাইতেন নিরবতা, নির্জনতা । বেশীক্ষণ এক জায়গায় বসে লিখতে পারতেন না। এমন কি স্নানের ঘরে বসে তিনি লিখেছেন তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রস্থ নেবদ্য । কাব্য গ্রন্থের দুইটি কবিতা তিনি লিখেছেন একটানা । ঋতুভেদে তাঁর লেখার তারতম্য ঘটত । গ্রীষ্ম, বর্ষা, ও বসন্তে লিখতেন পদ্য । শীত ও অন্যান্য সময়ে গদ্য ।
(খ) ‘‘দ্যা ওন্তু ম্যান এন্ড দ্যা সী” খ্যাত হেমিংওয়ে চাইতেন নির্জনতা । দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে সবসময় দাড়িয়ে লিখতেন। লিখতেন একটানা ৬ ঘন্টা এবং গড়ে আটশত শব্দ ।
(গ) আলেকজান্ডার দ্যুমার এর ছিল অদ্ভূত বাতিক । তাঁর ছিল এক এক বিষয়ে এক রং এর দূর্বলতা । তিনি কবিতা লিখতেন হলুদ কাগজে, নীল কাগজে উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখতেন লাল কাগজে এবং একটি কলম লেখা শেষ করতেন ।
(ঘ)রাশিয়ার জাতীয় কবি পুশকিন। তিনি সকালে উঠে বরফ শীতল পানিতে গোসল করে লিখতেন।
(ঙ)বিচিত্র শখ ছিল নাট্যকার ও কবি শেলীর। তিনি পচাঁ ডিমের গন্ধ ছাড়া লিখতে পারতেন না। তাই তিনি ডেক্স্রের মধ্যে পচাঁ ডিম ঢুকিয়ে রাখতেন। তাঁর মতে পচাঁ ডিমের গন্ধ লেখার জন্য শ্রেষ্ঠ উদ্দীপক ।
(চ)ডঃ স্যামুয়েল জনসন লেখার আগে তাঁর প্রিয় বিড়ালটি কোলে নিয়ে বসতেন। বিড়ালটি যখন আদরে গড়গড় করত তখনই তিনি লিখতেন।
(ছ)শরৎচন্দ্র লেখার সময় গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতেন। সরু নিবের কলম ছাড়া তিনি লিখতেন না।